বাণিজ্য | The Daily Ittefaq

বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ৪২ শতাংশ

বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ৪২ শতাংশ
লেনদেন ভারসাম্যে বড় ঘাটতি
রেজাউল হক কৌশিক১৩ জুলাই, ২০১৭ ইং ০৯:১২ মিঃ
বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ৪২ শতাংশ
 
বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যে (ব্যালান্স অফ পেমেন্ট বা বিওপি) বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) চলতি হিসাবে ২১০ কোটি ৩০ লাখ ডলার ঘাটতি হয়েছে। অন্যদিকে ব্যাপকহারে বাড়ছে বাণিজ্য ঘাটতি। অর্থবছরের প্রথম ১১ মাস শেষে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯১৯ কোটি ৮০ লাখ ডলার। যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৬৪৫ কোটি ১০ লাখ ডলার। সে হিসেবে একবছরের ব্যবধানে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ২৭৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার বা  ৪২ দশমিক ৫৮ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
 
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এক মাস আগে অর্থাৎ জুলাই-এপ্রিল সময়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ঘাটতি ছিল ৮১৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার। সে হিসেবে এক মাসের ব্যবধানে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ১০১ কোটি ৯০ লাখ ডলার। মূলত দেশের আমদানি ব্যয় যেহারে বৃদ্ধি পেয়েছে, সে হারে রপ্তানি আয় না বাড়ায় বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে।
 
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আমদানি ব্যয় যে হারে বেড়েছে, সে তুলনায় রপ্তানি আয় না বাড়ায় বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এখন আমদানির এ প্রভাব বিনিয়োগে পড়লে অর্থনীতির জন্য দুঃসংবাদ নেই। কিন্তু এই অর্থ পাচার হলে ফল অত্যন্ত খারাপ হবে। কেননা রেমিট্যান্স প্রবাহ অনেক কমে গেছে, যা বৈদেশিক লেনদেনে যে ভারসাম্য ছিল তা আশঙ্কায় ফেলে দিয়েছে।
 
দেশে রপ্তানি আয় বাড়লেও তা কাঙ্খিতমাত্রায় হচ্ছে না। কিন্তু আমদানি ব্যয় বাড়ছে দ্রুতগতিতে। এতে বাড়ছে বাণিজ্য ঘাটতি। আর বাণিজ্য ঘাটতির পাশাপাশি প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ধারাবাহিক কমছে। ফলে বৈদেশিক বাণিজ্যের লেনদেন ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে। আবার আমদানিজনিত চাপে দেশের ভেতরে বেড়েছে ডলারের চাহিদা। ফলে চাহিদার তুলনায় ডলারের যোগান কমে গেছে। এ কারণে ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতন ঘটছে। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে প্রতি ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমেছে প্রায় এক টাকা। আর এক বছরের ব্যবধানে কমেছে প্রায় ২ টাকা।  বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, বর্তমানে প্রতি ডলার বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা ৬০ পয়সায়।
 
দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান উৎস রেমিট্যান্স। কিন্তু গত অর্থবছর জুড়েই দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ নিম্নমুখী ধারায় ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) হিসাবে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমেছে প্রায় ১৪ শতাংশ। যদিও ১২ মাসে এই কমার হার ছিল প্রায় সাড়ে ১৪ শতাংশ। এ সময়ে রপ্তানি আয়েও কাঙ্ক্ষিত গতি আসেনি।
 
অর্থবছরের ১১ মাসে বাংলাদেশ বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে আয় করেছে তিন হাজার ১০৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল দুই হাজার ৯৯১ কোটি ৯০ লাখ ডলার। সে হিসেবে ১১ মাসে রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি হয় তিন দশমিক ৮০ শতাংশ। তবে গত অর্থবছরের পুরো সময়ে রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র এক দশমিক ৬৯ শতাংশ। তবে এ সময়ে আমদানি ব্যয় বেড়েছে উল্লেখযোগ্যহারে।
 
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে বাংলাদেশের ব্যয় হয়েছে ৪ হাজার ২৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩ হাজার ৬৭৩ কোটি ডলার। সে হিসেবে ১১ মাসে আমদানি ব্যয় বেড়েছে ১০ দশমিক ৬৮ শতাংশ। এই হিসাবে গত অর্থবছরের ১১ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি হয়েছে ৯১৯ কোটি ৮০ লাখ ডলার। যা ২০১৫-১৬ অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৬৪৫ কোটি ১০ লাখ ডলার। উল্লেখ্য, রপ্তানি আয়ের চেয়ে আমদানি ব্যয় যেটুকু বেশি, তার পার্থক্যই বাণিজ্য ঘাটতি।
 
রপ্তানি আয়ে ধীরগতি ও প্রবাসী আয় ব্যাপকহারে কমে যাওয়ায় চলতি হিসাবে বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে চলতি হিসাবে ২১০ কোটি ৩০ লাখ ডলার ঘাটতি হয়েছে। অর্থবছরের ১০ মাসের হিসাবে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১৭৬ কোটি ডলারের মতো। অথচ ২০১৫-১৬ অর্থবছরের ১১ মাসে চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত ছিল ৩১৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার।  এ সময়ে সেবা খাতেও ঘাটতি বেড়েছে। গত অর্থবছরের ১১ মাসে এ ঘাটতি হয়েছে ৩১০ কোটি ডলার। যা ২০১৫-১৬ অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২৪৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার। প্রতিবেদন পর্যালোচনা আরও দেখা যায়, ২০১৪-১৫ ও ২০১৫-১৬ অর্থবছর জুড়েই চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত ছিল। সাধারণত চলতি হিসাবের মাধ্যমে দেশের নিয়মিত বৈদেশিক লেনদেন পরিস্থিতি বোঝানো হয়। আমদানি-রপ্তানিসহ অন্যান্য নিয়মিত আয়-ব্যয় এতে অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে। এখানে উদ্বৃত্ত হলে চলতি লেনদেনের জন্য দেশকে কোনো ঋণ করতে হয় না। আর ঘাটতি থাকলে সরকারকে ঋণ নিয়ে তা পূরণ করতে হয়।
 
তবে গত অর্থবছরের ১১ মাসে বৈদেশিক লেনদেন সারণির আর্থিক হিসাবে বাংলাদেশের অবস্থা অনুকূলে রয়েছে। এ সময়ে আর্থিক হিসাবে ৪১৯ কোটি ৫০ লাখ ডলারের উদ্বৃত্ত রয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ উদ্বৃত্তের পরিমাণ ছিল ১১৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার। মূলত সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ ও শেয়ারবাজারে পোর্টফলিও বিনিয়োগ বাড়াতেই এ অনুকূল অবস্থা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে নিট সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই এসেছে ১৬২ কোটি ৫০ লাখ ডলার। যা ২০১৫-১৬ অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১২৭ কোটি ২০ লাখ ডলার।  সে হিসেবে বিদেশী বিনিয়োগ বেড়েছে প্রায় ২৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এ সময়ে শেয়ারাবাজারে বিদেশি বিনিয়োগও বেড়েছে। অর্থবছরের ১১ মাসে শেয়ারবাজারে বিদেশী বিনিয়োগ এসেছে ৩২ কোটি ৩৪ লাখ ডলার। যা ২০১৫-১৬ অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার। এর ফলে সামগ্রিক লেনদেনের ভারসাম্যে উদ্বৃত্তের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৬৮ কোটি ২০ লাখ ডলার। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের একই সময়ে সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যে উদ্বৃত্তের পরিমাণ ছিল ৪১৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার।
 
ইত্তেফাক/এমআর
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৩ নভেম্বর, ২০১৭ ইং
ফজর৪:৫৯
যোহর১১:৪৫
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:১৮সূর্যাস্ত - ০৫:১০