বাণিজ্য | The Daily Ittefaq

প্রতি মাসেই কমছে আমানত ও ঋণের সুদহার ব্যবধান

প্রতি মাসেই কমছে আমানত ও ঋণের সুদহার ব্যবধান
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা মানেনি ১২ ব্যাংক
রেজাউল হক কৌশিক১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং ১৩:০৬ মিঃ
প্রতি মাসেই কমছে আমানত ও ঋণের সুদহার ব্যবধান
 
দেশের ব্যাংকগুলোয় বিপুল পরিমাণে উদ্বৃত্ত তারল্য জমে আছে। ফলে ব্যাংকগুলোতে এখন নতুন করে আমানতের দরকার পড়ছে না। তাই আমানতের বিপরীতের ব্যাংকগুলো সুদ দিচ্ছে খুব কম। অন্যদিকে ঋণের চাহিদা কম থাকায় ঋণের সুদহারও কিছুটা কমাতে বাধ্য হয়েছে ব্যাংকগুলো। জুলাই শেষে আমানত ও ঋণের সুদহারের ব্যবধান (স্পেড) আগের মাসের তুলনায় আরো কিছুটা কমেছে।
 
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মে কোন ব্যাংকের স্প্রেড ৫ শতাংশীয় পয়েন্টের বেশি হতে পারবে না। জুলাই মাসে স্প্রেড সীমা বেশি রয়েছে ১২টি ব্যাংকের। এ তালিকায় বেসরকারি খাতের ৮টি, বিদেশী খাতের ৪টি ব্যাংক রয়েছে। তবে সরকারি খাতের সবগুলো ব্যাংকের স্প্রেড নির্ধারিত সীমার মধ্যেই রয়েছে।
 
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, জুলাই শেষে ঋণ ও আমানত উভয় ক্ষেত্রেই সুদহার কমিয়েছে ব্যাংকগুলো। তবে ঋণের সুদের তুলনায় আমানতের সুদ বেশি কমেছে। এ সময়ে দেশের ৫৭টি ব্যাংকের ঋণের গড় সুদহার দাঁড়িয়েছে নয় দশমিক ৫১ শতাংশ। যা আগের মাসে ছিল নয় দশমিক ৫৬ শতাংশ। এ সময়ে আমানতের গড় সুদহার দাঁড়িয়েছে চার দশমিক ৮৯ শতাংশ। অবশ্য আগের মাসে ছিল চার দশমিক ৮৪ শতাংশ। আমানতে সুদের হার বাড়লেও জুলাই মাসে গড় স্প্রেড দশমিক ১০ শতাংশীয় পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে চার দশমিক ৬২ শতাংশীয় পয়েন্টে। যা জুন মাসে ছিল ৪ দশমিক ৭২ শতাংশীয় পয়েন্ট। এছাড়া মে মাসে ব্যাংকিং খাতে ৪ দশমিক ৭৩ শতাংশীয় পয়েন্ট স্প্রেড ছিল। তবে এ সময়ে ব্যাংকিং খাতে গড় স্প্রেড ৫ শতাংশের নীচে অবস্থান করলেও বিদেশী খাতের ব্যাংকগুলোর গড় স্প্রেড এখনও ৬ শতাংশীয় পয়েন্টর ওপরে রয়েছে।
 
প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, সরকারি ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে আট দশমিক ৬৭ শতাংশ সুদ আদায় করছে। আমানতের বিপরীতে দিয়েছে চার দশমিক ৫৭ শতাংশ সুদ। এ খাতের ব্যাংকগুলোর স্প্রেড দাঁড়িয়েছে চার দশমিক ১১ শতাংশীয় পয়েন্ট। সরকারি বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের স্প্রেড সবচেয়ে কম। মাত্র দুই দশমিক ৬৯ শতাংশীয় পয়েন্ট। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) এ দুটি ব্যাংক পাঁচ দশমিক ৯৭ শতাংশ সুদে আমানত সংগ্রহ করে আট দশমিক ৬৬ শতাংশ সুদ ঋণ বিতরণ করেছে। এ সময় বিদেশি ব্যাংকগুলোর ঋণের সুদ ছিল সাত দশমিক ৯০ শতাংশ। তবে আমানতের সুদহার অনেক কম থাকায় স্প্রেড অনেক বেশি। যা ছয় দশমিক ২৯ শতাংশীয় পয়েন্ট। জুলাই মাসে আমানতের বিপরীতে এসব ব্যাংকের সুদহার ছিল মাত্র এক দশমিক ৬১ শতাংশ।
 
নির্দেশিত মাত্রার চেয়ে স্প্রেড নির্ধারিত সীমার মধ্যে রয়েছে বেসরকারি খাতের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর। আমানতের বিপরীতে পাঁচ দশমিক ২০ শতাংশ সুদ দিয়ে ঋণের বিপরীতে আদায় করছে নয় দশমিক ৮৩ শতাংশ। স্প্রেড হয়েছে চার দশমিক ৬৩ শতাংশীয় পয়েন্ট।
 
সংশ্লিষ্টরা জানান, মূলত ঋণের সুদের হার নির্ভর করে ব্যাংকগুলোর আমানত তথা তহবিল সংগ্রহ খরচ, প্রশাসনিক ব্যয়, প্রভিশন ব্যয়, মুনাফার মার্জিন প্রভৃতির উপর। বর্তমানে ব্যাংকের বিভিন্ন সেবার চার্জ, ফি, কমিশনের যৌক্তিকীকরণ, ব্যাংক শাখা স্থাপনে উচ্চ ব্যয় পরিহার ও যানবাহন ক্রয়ে খরচ সীমিত করার নীতি গ্রহণের ফলে ব্যাংকের সার্বিক তহবিল খরচ কমছে। এতদিন আমানতের সুদহার কমে আসলেও ঋণের সুদহার সে হারে কমছিল না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে।
 
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে ঋণের সুদহার যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ এবং স্প্রেড পাঁচ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংক নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। বর্তমানে বিচার বিবেচনাপূর্বক প্রকৃত ঋণগ্রহীতা নির্বাচন করে ঋণ সমপ্রসারণের মতো পর্যাপ্ত তারল্যও ব্যাংকগুলোর হাতে রয়েছে।
 
ইত্তেফাক/আনিসুর
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৫ নভেম্বর, ২০১৭ ইং
ফজর৫:০১
যোহর১১:৪৬
আসর৩:৩৫
মাগরিব৫:১৪
এশা৬:৩০
সূর্যোদয় - ৬:২০সূর্যাস্ত - ০৫:০৯