অর্থনীতি | The Daily Ittefaq

রপ্তানি বাণিজ্যে ধীরগতি

রপ্তানি বাণিজ্যে ধীরগতি
তিন মাসে প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৭ শতাংশ
রেজাউল হক কৌশিক০৯ অক্টোবর, ২০১৭ ইং ০৯:০০ মিঃ
রপ্তানি বাণিজ্যে ধীরগতি
 
দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি রপ্তানি। তবে রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে ধারাবাহিকতা না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশ। চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের তৃতীয় মাস সেপ্টেম্বরে আগের অর্থবছরের সেপ্টেম্বরের চেয়ে ২২ কোটি ১৭ লাখ টাকা কম রপ্তানি হয়েছে। এ মাসে রপ্তানির যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল তা-ও পূরণ হয়নি। আর অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ হয়নি। তবে প্রথম তিন মাসে আগের অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের চেয়ে রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে সাত দশমিক ২৩ শতাংশ। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো’র (ইপিবি)পরিসংখ্যানে এমন তথ্য দেখা গেছে।
 
ইপিবি’র তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর এ তিন মাসে মোট ৮৬৬ কোটি ২৭ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি হয়েছিল ৮০৭ কোটি ৮৮ লাখ ডলার। সে হিসাবে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে সাত দশমিক ২৩ শতাংশ। এ তিন মাসের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় দুই দশমিক ৮৪ শতাংশ কম রপ্তানি হয়েছে। এ সময়ের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৯১ কোটি ৬০ লাখ ডলার।
 
বাংলাদেশ রপ্তানিকারক সমিতির (ইএবি) সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী ইত্তেফাককে এ প্রসঙ্গে বলেন, রপ্তানি খাতে ধারাবাহিকতা থাকছে না এটাই সবচেয়ে দুশ্চিন্তার বিষয়। বিশেষ করে পোশাক খাতে সক্ষমতা কমে যাচ্ছে। সার্বিক রপ্তানি বাড়াতে হলে এক্ষেত্রে সক্ষমতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। অন্য দিকে, ডলারের বিপরীতে টাকার অতিমূল্যায়নের কারণে রপ্তানিকারকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এজন্য তিনি পোশাকের পাশাপাশি অন্যান্য শিল্প পণ্যের ক্ষেত্রে সরকারের নীতি সহায়তাসহ প্রণোদনা দেওয়ার সুপারিশ করেন।
 
ইপিবি’র পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত দেড় দশকের মধ্যে গেল অর্থবছরে (২০১৬-১৭) সবচেয়ে কম রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এ সময়ে আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র এক দশমিক ৩৫ শতাংশ। অন্য দিকে, অর্থবছরের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ২ বিলিয়ন ডলার কম রপ্তানি হয়েছিল। এর পর থেকে ধীরে ধীরে রপ্তানি বাড়ছে। তবে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হচ্ছে না।
 
চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে রপ্তানি আয়ের প্রধান হাতিয়ার তৈরি পোশাকের মধ্যে নিটওয়্যার খাতের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হলেও ওভেন পোশাক খাতের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। তবে গত অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে যে পরিমাণ রপ্তানি হয়েছিল চলতি অর্থবছরের একই সময়ে এ দুই খাত থেকে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। আলোচ্য সময়ে ওভেন পোশাক রপ্তানি করে আয় হয়েছে ৩৩৯ কোটি ৩১ লাখ ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় পাঁচ দশমিক ১২ শতাংশ কম। আর রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে চার দশমিক ০৪ শতাংশ। গত তিন মাসে নিট পোশাক রপ্তানি করে ৩৭৪ কোটি ৬৯ লাখ ডলার আয় হয়েছে। যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় চার দশমিক ৩৭ শতাংশ বেশি। এ আয় আগের অর্থবছরে একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ১৮ শতাংশ বেশি। হোম টেক্সটাইল খাতের প্রবৃদ্ধি বাড়লেও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। স্পেশালাইজড টেক্সটাইল খাতে আয় আগের বছরের চেয়ে কমায় প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক। ফলে লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ হয়নি এ খাতের রপ্তানি আয়ে।
 
তবে আলোচ্যসময়ে কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য, হিমায়িত খাদ্য পণ্যসহ রপ্তানি তালিকার বিভিন্ন পণ্যের রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হওয়ার পাশাপাশি লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ হয়েছে। অবশ্য ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোডাক্ট, কার্পেট, বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালসের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা বা প্রবৃদ্ধি কোনোটাই অর্জিত হয়নি। এছাড়া পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, প্লাস্টিক পণ্য, ম্যানুফ্যাকচারিং প্রোডাক্ট, কেমিক্যাল প্রোডাক্ট, রাবার, হ্যান্ডিক্রাফট প্রভৃতি পণ্যে প্রবৃদ্ধি ভালো হলেও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি।
 
ইত্তেফাক/আনিসুর
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২২ আগষ্ট, ২০১৮ ইং
ফজর৪:১৮
যোহর১২:০২
আসর৪:৩৫
মাগরিব৬:৩০
এশা৭:৪৫
সূর্যোদয় - ৫:৩৬সূর্যাস্ত - ০৬:২৫