বাণিজ্য | The Daily Ittefaq

পর্যাপ্ত মূলধন রাখেনি আট মার্চেন্ট ব্যাংক

পর্যাপ্ত মূলধন রাখেনি আট মার্চেন্ট ব্যাংক
আইপিও আনার ক্ষেত্রেও চরম দুর্বলতা
আহসান হাবীব রাসেল১১ অক্টোবর, ২০১৭ ইং ০৯:২২ মিঃ
পর্যাপ্ত মূলধন রাখেনি আট মার্চেন্ট ব্যাংক
 
আইন অনুযায়ী পর্যাপ্ত মূলধন রাখেনি আটটি মার্চেন্ট ব্যাংক। পর্যাপ্ত মূলধন না থাকায় মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় পিছিয়ে পড়ছে। তাছাড়া আইন অমান্য করার প্রবণতা তৈরি হচ্ছে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর মধ্যে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পর্যাপ্ত মূলধন না থাকায় মার্জিন ঋণের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারছে না মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো। ফলে তারা সরকারের কাছ থেকে নানাভাবে সুবিধা নিতে চাইছে। অথচ নিজেরা মূলধন বাড়াচ্ছে না।
 
সিকিউরিটিজ ও এক্সেচেঞ্জ কমিশন বিধিমালা (মার্চেন্ট ব্যাংকার ও পোর্টফোলিও ম্যানেজার) অনুযায়ী, পূর্ণাঙ্গ মার্চেন্ট ব্যাংককে অন্তত ২৫ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন রাখতে হবে। কাজ শুরু করার সময়ে মূলধন কম থাকলেও এক বছরের মধ্যে মূলধন বাড়ানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর। অথচ ৮টি মার্চেন্ট ব্যাংক আইন অনুযায়ী পর্যাপ্ত মূলধন সংরক্ষণ করেনি। কাজ শুরুর ৪/৫ বছর পরও তাদের মূলধন কমই রয়ে গেছে।
 
মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে সিএপিএম অ্যাডভাইজরির পরিশোধিত মূলধন ১০ কোটি টাকা, গ্রামীণ ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের পরিশোধিত মূলধন ১০ কোটি টাকা, এনডিবি ক্যাপিটালের পরিশোধিত মূলধন ১০ কোটি টাকা, সোনার বাংলা ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের পরিশোধিত মূলধন ১১ কোটি ২০ লাখ টাকা, পিএলএফএস ইনভেস্টমেন্টের পরিশোধিত মূলধন ২৪ কোটি ১৫ লাখ টাকা। রুটস ইনভেস্টমেন্টের পরিশোধিত মূলধন সাড়ে ১৩ কোটি টাকা এবং কসমোপলিটন ফাইন্যান্সের পরিশোধিত মূলধন ১০ কোটি টাকা। আর বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসোসিয়েশনের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আলফা ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের পরিশোধিত মূলধন ১০ কোটি টাকা।
 
একাধিক মার্চেন্ট ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো অবলেখনের (আন্ডাররাইটিং) দায়িত্ব নিচ্ছে। গ্রাহকদের বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনার (পোর্টফোলিও ম্যানেজমেন্ট) কাজ করছে। এসব ক্ষেত্রে যে ঝুঁকি রয়েছে তা গ্রহণ করার জন্য পর্যাপ্ত মূলধন থাকা প্রয়োজন। অন্যথায় অবলেখন ও বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় বড় কোনো সমস্যা হলে ঝুঁকিতে পড়বে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো। বিএসইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, ২০১০ সালের ধ্বসের পর মার্জিন ঋণের লোকসানে পড়ার পর পর্যাপ্ত মূলধন না থাকায় অনেক মার্চেন্ট ব্যাংকই অচল অবস্থার মধ্যে পড়ে। এখনও কিছু মার্চেন্ট ব্যাংক এ নিয়ে চরম সমস্যার মধ্যে রয়েছে। এরপরও তারা মূলধন বাড়াচ্ছে না। ডিএসইর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, মার্চেন্ট ব্যাংক আইন অমান্য করে অল্প মূলধন রাখলেও বিএসইসি এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। ফলে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোও এ ব্যাপারে উদাসীন। অথচ বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাসেল-৩ এর আওতায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে পর্যাপ্ত মূলধন রাখার জন্য বাধ্য করেছে। যা দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকগুলোর জন্যই ইতিবাচক। বিএসইসির উচিত এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া।
 
বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সাইফুর রহমান এ প্রসঙ্গে ইত্তেফাক’কে বলেন, কোনো মার্চেন্ট ব্যাংকই আইনে যা বলা রয়েছে তার চেয়ে কম পরিশোধিত মূলধন রাখার সুযোগ নেই। তারপরও কারও কম থাকলে সেটি খতিয়ে দেখতে হবে।
 
ডিএসইর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, মার্চেন্ট ব্যাংকের মূল কাজ হলো— প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) নিয়ে আসা। বেশিরভাগ মার্চেন্ট ব্যাংক এ কাজটিও করতে পারছে না। বছরের পর বছর ধরে কোনো আইপিও আনতে পারছে না বেশ কিছু মার্চেন্ট ব্যাংক। বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের তুলনায় মার্চেন্ট ব্যাংকের সংখ্যা অনেক বেশি। তাদেরকে অনুমোদন দেওয়াই হয়েছে বেশি আইপিও আনার জন্য। অথচ একটি আইপিও (ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস) আনার জন্য তিনটি মার্চেন্ট ব্যাংককেও এক সাথে কাজ করতে দেখা যাচ্ছে।
 
এসব ব্যাপারে জানতে চাইলে বিএমবিএ’র সেক্রেটারি জেনারেল খায়রুল বাশার ইত্তেফাক’কে বলেন, মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর উচিত আইন অনুযায়ী পর্যাপ্ত মূলধন সংরক্ষণ করা। এটা না করলে এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে আমাদের কিছু করার নেই। এ ব্যাপারে বিএসইসিকেই পদক্ষেপ নিতে হবে।
 
এদিকে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর মূলধন সংরক্ষণ না করা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সোনার বাংলা ক্যাপিটালের এমডি এন্ড সিইও ইমাম হোসাইন বলেন, আমরা ২০১০ এ লাইসেন্স নিলেও কাজ শুরু করেছি ২০১২ তে। তখন আমাদের মূলধন ছিল ১০ কোটি টাকা। এরপর এক বছরের মধ্যে তা ২৫ কোটি টাকায় উন্নীত করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও পারিনি। তবে ইতোমধ্যে কিছুটা বাড়িয়েছি। বাজারের পরিস্থিতির কারণে বাড়াতে পারিনি। আশা করি, শিগগির বাড়াতে পারবো।
 
সিএপিএম অ্যাডভাইজরির এক ঊর্ধ্বতন কর্তকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, আমরা মূলধন বাড়ানোর চেষ্টা করছি, এখনও পারিনি। শীঘ্রই পরিশোধিত মূলধন বাড়ানো হবে। পিএলএফএস ইনভেস্টমেন্টস-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আমাদের মাত্র ৮৫ লাখ টাকার ঘাটতি রয়েছে। এটা নিয়ে আমাদের বোর্ড মিটিংয়ে আলোচনাও হয়েছে। এ অর্থবছর শেষেই আমরা পরিশোধিত মূলধন বাড়াব।
 
রুটস ইনভেস্টমেন্টস-এর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, আমাদের পরিশোধিত মূলধন ২৫ কোটি টাকায় উন্নীত করার জন্য সব কাগজপত্র বিএসইসিতে জমা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনও অনুমোদন পাওয়া যায়নি। তাই মূলধন কম দেখাতে হচ্ছে। গ্রামীণ ক্যাপিটালের হেড অব অপারেশন আরিফুল ইসলাম জানান, ২০১৩ সালে আমাদের উদ্যোক্তারা সাড়ে ১১ কোটি টাকা মূলধন হিসেবে দিয়েছিল। তা পরিশোধিত মূলধন হিসেবে দেখানোর কথা থাকলেও দেখানো যাচ্ছে না, আরজেএসসির (রেজিস্টার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্ম) অনুমোদনের কারণে। ফলে ওই টাকা এখনও ব্যাংকেই পড়ে আছে। উদ্যোক্তাদের এ টাকা পরিশোধিত মূলধন হিসেবে দেখানোর ব্যাপারে বিএসইসিরও অনুমোদন রয়েছে। কিন্তু অজানা কারণে আরজেএসসি বিষয়টি আটকে রেখেছে।
 
প্রসঙ্গত, মার্চেন্ট ব্যাংক হলো— বিএসইসির কাছ থেকে লাইসেন্স নেওয়া এমন প্রতিষ্ঠান যারা পুঁজিবাজারে ইস্যু ব্যবস্থাপনা, অবলেখন ও বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনার কাজ করে।
 
ইত্তেফাক/আনিসুর
 
 
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১২ নভেম্বর, ২০১৭ ইং
ফজর৫:০৯
যোহর১১:৫২
আসর৩:৩৭
মাগরিব৫:১৬
এশা৬:৩৪
সূর্যোদয় - ৬:৩০সূর্যাস্ত - ০৫:১১