বাণিজ্য | The Daily Ittefaq

রূপালী ব্যাংকের সিবিএ নেতাদের চাকরি পুনর্বহালে নৌপরিবহণ মন্ত্রীর হুমকি

রূপালী ব্যাংকের সিবিএ নেতাদের চাকরি পুনর্বহালে নৌপরিবহণ মন্ত্রীর হুমকি
ইত্তেফাক রিপোর্ট১৫ অক্টোবর, ২০১৭ ইং ১৯:০১ মিঃ
রূপালী ব্যাংকের সিবিএ নেতাদের চাকরি পুনর্বহালে নৌপরিবহণ মন্ত্রীর হুমকি
কর্মকর্তাদের শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করার অভিযোগে রূপালী ব্যাংকের কর্মচারী ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ৯ নেতাকর্মীর চাকরিচ্যুতসহ বিভিন্ন শাস্তি প্রত্যাহারে সরাসরি হুমকি দিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতির ইতিহাস সবার জানা। গোড়ায় হাত দিলে অনেক কিছু বেরিয়ে আসবে। আমরা চাই না প্রতিষ্ঠানের সবকিছু সবাই জেনে যাক। সুতরাং বিষয়টির সম্মানজনক সমাধান করুন। আজ রবিবার রূপালী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত সিবিএ নেতাদের আয়োজিত অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
  
শাজাহান খান বলেন, ট্রেড ইউনিয়নের পক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। শ্রমিক নেতাদের দোষ দিয়ে আদমজী জুট মিল বন্ধ করে বিএনপি। অফিসারদের লুটপাটের কথা কিন্তু বলা হয়নি। গোড়ায় হাত দিলে অনেক কিছু বেরিয়ে যায়। এতটুকু বলবো প্রধান বিচারপতি সিনহার ইতিহাস সবার জানা। সুতরাং গোড়ায় হাত দিলে অনেকের অনেক কিছু বেরিয়ে আসবে। আমরা চাই না প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ে যারা আছেন তাদের অনেক কিছু বেরিয়ে যাক। আমার অনুরোধ একটা সম্মানজনক সমাধান আপনারা করুন। সেক্ষেত্রে আমাদের কি করতে হবে সেটা আমাদের বলুন। আমরা রাজী আছি। এবং শ্রমিকদের নেতাদের উচিত হবে ঐক্যবদ্ধভাবে বিষয়টি কিভাবে সমাধান করা যাবে সেটি ভাবুন। আমি এ বিষয়ে এতদিন কথা বলি নাই। ম্যানেজমেন্টের আচরণ পর্যবেক্ষণ করেছি। তাদের আচরণ সম্পর্কে কিছু বলতে চাই না।  
 
সূত্র জানায়, এটি পূর্ব নির্ধারিত কোন কর্মসূচি ছিল না। ব্যাংকের কাছ থেকে কর্মসূচি পালনের জন্য অনুমতিও গ্রহণ করা হয়নি। চাকরিচ্যুত সিবিএ নেতা মোস্তাক আহমেদ জানান, সমাবেদনা জানানোর জন্য মন্ত্রী মহোদয় এসেছিলেন। ট্রেড ইউনিয়ন রক্ষা করতে, ব্যাংক বাঁচাতে সমঝোতা করতে ম্যানেজমেন্টকে বলেছেন মন্ত্রী। অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সোহরাব উদ্দিনসহ শ্রমিকলীগ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিবিএ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
 
গত ডিসেম্বরের ৫ তারিখে রূপালী ব্যাংকের স্থানীয় কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক মো. নূরুজ্জামান, উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. শওকত আলী খান, সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. সাখাওয়াত হোসেন ও প্রিন্সিপাল অফিসার মো. জসিম উদ্দিন সরকারের সঙ্গে গুরুতর অসদাচরণ ও অশালীন আচরণ করে সিবিএ নেতারা। এমনকি ওই কর্মকর্তাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিতও করে তারা। ওই ঘটনায় ১৯ আগস্ট সিবিএ সভাপতি খন্দকার মোস্তাক আহমেদ, সেক্রেটারি মো. কাবিল হোসেন কাজী ও কেয়ারটেকার মো. আরমান মোল্লাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয় ড্রাইভার মো. আবুল কালাম আজাদকে। আর ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়েছে কেয়ারটেকার মো. আনোয়ার হোসেন, ছাব্বির আহমেদ ভুঁইয়া ও মনিরুল ইসলাম সহ এ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার (গ্রেড-১) মো. আহসান হাবিবকে। ২০০৩ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিবিএর শাস্তির পর রাষ্ট্রায়ত্ব প্রতিষ্ঠানের সিবিএর শাস্তির ঘটনা এটাই প্রথম। 
 
এর আগে গত ২৩ আগস্ট জাতীয় শোকদিবসের আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে রূপালী ব্যাংক সিবিএ। ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, বিশেষ অতিথি অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. সোহরাব উদ্দিন, রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মনজুর হোসেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আতাউর রহমান প্রধান, জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহামুদ ও সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তারা কেউই উপস্থিত হননি। 
 
ইত্তেফাক/এমআই
 
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৪ নভেম্বর, ২০১৭ ইং
ফজর৪:৫৯
যোহর১১:৪৫
আসর৩:৩৫
মাগরিব৫:১৪
এশা৬:৩০
সূর্যোদয় - ৬:১৮সূর্যাস্ত - ০৫:০৯