অর্থনীতি | The Daily Ittefaq

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে ঝুঁকছে ব্যাংকগুলো

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে ঝুঁকছে ব্যাংকগুলো
ছয় মাসে অ্যাকাউন্ট বেড়েছে ৫ লাখ
রেজাউল হক কৌশিক০৮ নভেম্বর, ২০১৭ ইং ২০:৪৮ মিঃ
এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে ঝুঁকছে ব্যাংকগুলো
ব্যাংকের শাখার মত প্রায় সব সুবিধা এজেন্টদের কাছে পাওয়ায় গ্রাহকরা এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। এখন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মোবাইল সেবা পৌঁছানোর ফলে এ ব্যাংকিং সহজ হয়েছে। এজেন্ট ব্যাংকিং দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠায় এখন ব্যাংকগুলো এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে মনোযোগ দিচ্ছে। গত ছয় মাসে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের গ্রাহক সংখ্যা বেড়েছে প্রায় পাঁচ লাখ।
 
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নানান ঝক্কি-ঝামেলা পেরিয়ে ব্যাংকগুলো শাখা খুলে। তবে এজেন্ট ব্যাংকিং করতে বা এজেন্ট নিয়োগ দেওয়া সহজ। এক্ষেত্রে ব্যাংকের বাড়তি কোন খরচ করতে হয় না। সংশ্লিষ্ট এজেন্টই সমস্ত খরচ বহন করেন। ফলে এতে একদিকে কোন খরচ ছাড়াই ব্যাংকের লাভ করার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে ব্যাংকের গ্রাহক সংখ্যাও বাড়ছে কোন খরচ ছাড়াই। আর গ্রাহকরাও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে অ্যাকাউন্ট খুললে পাচ্ছেন বিভিন্ন সার্ভিস।
 
এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের শুরু হয় ব্যাংক এশিয়ার মাধ্যমে। এ বিষয়ে ব্যাংকটির প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আরফান আলী ইত্তেফাক’কে বলেন, পল্লী এলাকার মানুষের ব্যাংকের আওতায় আনতে এ কার্যক্রম শুরু হয়। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে গ্রামীণ মানুষের আর্থিক জ্ঞান (ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসি) হচ্ছে। এজেন্ট ব্যাংকিং পুরোপুরি শাখা ব্যাংকিংয়ের মত না হলেও গ্রাহকরা এর মাধ্যমে বিভিন্ন সেবা পাচ্ছেন। একইসঙ্গে এটা সাধারণ ব্যাংকের মতই নিরাপদ হওয়ায় গ্রাহকরা খুব ভালভাবে নিচ্ছেন। একারণে দিন দিন এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের গ্রাহক বাড়ছে। ব্যাংকগুলোও এ বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে।
 
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ১০ লাখ ৩৮ হাজার ২৪২টি হিসাব খোলা হয়েছে। যা গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ছিল ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৫৩৬টি। সে হিসেবে ছয় মাসের ব্যবধানে হিসাব সংখ্যা বেড়েছে চার লাখ ৯৩ হাজার ৭০৬টি। এখন পর্যন্ত এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আউটলেটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৫৬৫টি। আর এজেন্ট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ১৫টি। এজেন্ট ব্যাংকিং হিসাবে জমা পড়েছে ৯২২ কোটি ০৮ লাখ টাকা।
 
এদিকে প্রতিমাসেই কমে যাচ্ছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত অর্থবছরে (২০১৬-১৭) রেমিট্যান্স আসা কমেছে সাড়ে ১৪ শতাংশ। তাই ডিজিটাল হুন্ডি কমাতে প্রবাসীদেরকে এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবহার করে রেমিট্যান্স পাঠাতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এতে অবৈধ পন্থায় রেমিট্যান্স পাঠানোর হার কমছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, এ পর্যন্ত এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের মাধ্যমে এক হাজার ২৪০ কোটি ৩৪ লাখ টাকার রেমিট্যান্স বিতরণ করা হয়েছে। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের এসব আউটলেটের মধ্যে অনেকগুলো এখন যুক্ত হয়েছে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের (ইউডিসি) সঙ্গে। ইউডিসির সঙ্গে যুক্ত হওয়া আউটলেটের সংখ্যা প্রায় দুই হাজার। ইউডিসি থেকে সহজে রেমিট্যান্স গ্রহণ করাতে পারায় প্রবাসীরা এখন ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। ফলে শিগগিরই ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়বে বলে আশা করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা।
 
রেমিট্যান্স বিতরণে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতিবাচক। ফলে এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবস্থার আউটলেটের মাধ্যমে রেমিট্যান্স বিতরণ বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের চলমান আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কার্যক্রমের আওতায় গ্রামাঞ্চল কিংবা যেখানে প্রচলিত ব্যাংকিং সেবা দেওয়া লাভজনক নয়, সেসব অঞ্চল ও ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলসহ প্রত্যন্ত এলাকায় এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা দেওয়া হয়। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে ব্যয় সাশ্রয়ীভাবে ব্যাংকিং প্রদানের লক্ষ্যেই এর কার্যক্রম শুরু হয়। ২০১৩ সালে সর্বপ্রথম ব্যাংক এশিয়াকে এজেন্ট ব্যাংকিং লাইসেন্স দেওয়া হয়। পরবর্তীতে লাইসেন্স পায় অন্যান্য ব্যাংক। এখন পর্যন্ত ১৮টি তফসিলি ব্যাংককে এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি ব্যাংক কার্যক্রম শুরু করেছে।
 
এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে ভাল করছে ডাচ-বাংলা ব্যাংক। এ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাশেম মো. শিরিন বলেন, এজেন্ট ব্যাংকিং করার ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের অভিজ্ঞতাকে আমরা কাজে লাগাতে পেরেছি। মোবাইল ব্যাংকিংয়ে যেসব ভুল ছিল সেগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা এজেন্ট ব্যাংকিং করছি। এ ব্যাংকিং চ্যালেঞ্জ কী সে বিষয়ে জিঞ্জাসা করলে তিনি বলেন, আমাদের প্রায় দেড় হাজার আউটলেট আছে। এর মধ্যে ১০০ আউটলেট লাভজনক অবস্থায় রয়েছে। বাকীগুলোকে লাভজনক পর্যায়ে নিয়ে আসায় আমাদের লক্ষ্য।
 
তবে এজেন্ট ব্যাংকিং তার উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারছে না বলেও মনে করছেন অনেকেই। অর্থনীতিবিদ ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী বলেন, যে উদ্দেশ্যে এজেন্ট ব্যাংকিং শুরু করা হয়েছিল সে উদ্দেশ্য পূর্ণ হচ্ছে না। এজেন্ট ব্যাংকিং ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীদের কাছে পৌঁছায় না। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে একটি দূর্বল ব্যাংকিং কাঠামো গঠিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে অপ্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে ত্বরান্বিত করা হচ্ছে।
 
রেমিট্যান্স উত্তোলন ছাড়াও এজেন্ট ব্যাংকিং এর মাধ্যমে নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, অ্যাকাউন্টে টাকা জমা ও উত্তোলন, টাকা স্থানান্তর (দেশের ভিতর), বিভিন্ন মেয়াদি আমানত প্রকল্প চালু, ইউটিলিটি সার্ভিসের বিল পরিশোধ, বিভিন্ন প্রকার ঋণ উত্তোলন ও পরিশোধ এবং সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় সরকারী সকল প্রকার ভুর্তকী গ্রহণ করা যায়। এজেন্টরা কোন চেক বই বা ব্যাংক কার্ড ইস্যু করতে পারেন না। এজেন্টরা বিদেশি সংক্রান্ত কোন লেনদেনও করতে পারেন না। এছাড়া এজেন্টদের কাছ থেকে কোন চেকও ভাঙানো যায় না। এজেন্টরা মোট লেনদেনের ওপর কমিশন পেয়ে থাকেন।
 
ইত্তেফাক/এমআই
 
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫৩
আসর৪:১৬
মাগরিব৬:০১
এশা৭:১৩
সূর্যোদয় - ৫:৪৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৬