অর্থনীতি | The Daily Ittefaq

রড সিমেন্টের দাম লাগামহীন

রড সিমেন্টের দাম লাগামহীন
আবাসন ও নির্মাণ খাত সংশ্লিষ্টদের উদ্বেগ
মুন্না রায়হান২৬ মার্চ, ২০১৮ ইং ০০:০১ মিঃ
রড সিমেন্টের দাম লাগামহীন

নির্মাণসামগ্রীর প্রধান উপকরণ রড, সিমেন্টের দাম বাড়ছে লাগামহীনভাবে। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে প্রতি টন রডের দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১১ হাজার টাকা। অন্যদিকে প্রতি বস্তা সিমেন্টে বেড়েছে ৭০ থেকে ৯০ টাকা। ফলে আবাসন ও নির্মাণ খাতে ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।

ইস্পাত ও সিমেন্ট শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রডের মূল কাঁচামাল স্ক্র্যাপ লোহা আমদানির খরচ বেড়েছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে সিমেন্ট উত্পাদনের কাঁচামাল ক্লিংকারের দাম এখন ঊর্ধ্বমুখী। বেড়েছে ডলারের দামও। এসব কারণেই রড ও সিমেন্টের দাম বাড়ছে।   

অর্থবছরের শেষার্ধে (জানুয়ারি-জুন) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় হয়। এ সময়ে নির্মাণসামগ্রীর ব্যয় বেড়ে গেলে সরকারি উন্নয়ন কাজ বাধাগ্রস্ত হবে। অথচ উন্নয়ন প্রকল্প সময়মতো শেষ করার নির্দেশনা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এ সময় হঠাত্ নির্মাণসামগ্রীর ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় উন্নয়ন কাজে স্থবিরতার আশঙ্কা করা হচ্ছে।  এদিকে রড-সিমেন্টের মূল্য বৃদ্ধিকে অযৌক্তিক বলছে আবাসন খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে রিহ্যাবের নেতারা বলেন, হঠাত্ করে নির্মাণসামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক আবাসন ব্যবসায়ী নির্মাণকাজ সাময়িক বন্ধ করে দিতে চাইছেন। ফলে নির্দিষ্ট সময়ে ফ্ল্যাট হস্তান্তর অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। দুর্ভোগে পড়বেন ক্রেতারা। বড় ক্ষতির মুখে পড়বে আবাসন খাত। তারা বলেন, বর্তমানে সিমেন্টের ওপর কোনো ধরনের কর আরোপ করা হয়নি। তাহলে এই মূল্যবৃদ্ধি কেন? রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন বলেন, রড-সিমেন্টের দাম আগের অবস্থায় না ফিরলে ফ্ল্যাটের দাম ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।

এক পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, এখন পর্যন্ত ইন্ডিভিজুয়াল হোম বিল্ডার্স (আইএইচবি) অর্থাত্ যারা নিজেরা বাড়ি নির্মাণ করেন তারাই সিমেন্টের সবচেয়ে বড় গ্রাহক। প্রায় ৬০ শতাংশ সিমেন্ট যায় এই খাতে। ফলে দাম বাড়ার কারণে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে সাধারণ মানুষ। বর্তমানে রাজধানীতে কোম্পানিভেদে ৬০ গ্রেডের প্রতি টন রড বিক্রি হচ্ছে ৬৮ হাজার ৫শ’ থেকে ৭২ হাজার টাকা। এ ছাড়া ৪০ গ্রেডের রড প্রতি টন ৬০ হাজার থেকে ৬২ হাজার টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। অন্যদিকে প্রতি বস্তা সিমেন্ট বিক্রি হচ্ছে ৪২০ থেকে ৪৯০ টাকা। ঢাকার বাইরে দাম আরো বেশি। অথচ মাত্র এক মাস আগে ৬০ গ্রেডের প্রতি টন রডের দাম ছিল ৫৮ থেকে ৬০ হাজার টাকা। অন্যদিকে প্রতি বস্তা সিমেন্টের দাম ছিল ৩৬০ থেকে ৪০০ টাকা।

মিল মালিকরা সিন্ডিকেট করে রড-সিমেন্টের দাম বাড়াচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ অটো রি-রোলিং অ্যান্ড স্টিল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মানোয়ার হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাসে দেরি হওয়ায় জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে রডের মূল কাঁচামাল স্ক্র্যাপ লোহা আমদানির খরচ টনপ্রতি ৩০০ ডলার থেকে বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৪৩৫ ডলারে। এ ছাড়া টনপ্রতি সাত থেকে আট হাজার টাকা পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। এতে রডের দাম বেড়ে যাচ্ছে।

সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশও (টিসিবি) রডের দাম বাড়ার বিষয়টি তুলে ধরেছে। অবশ্য সংস্থাটির হিসেবে গত এক মাসে ৬০ গ্রেডের এম এস রডের দাম বেড়েছে ১০ শতাংশ, আর ৪০ গ্রেডের রডের দাম বেড়েছে ২ দশমিক ৯৪ শতাংশ। যা গত এক বছরে বেড়েছে যথাক্রমে ২৫ দশমিক ৭১ শতাংশ ও ২০ দশমিক ৬৯ শতাংশ। তবে বাস্তবে দাম বেড়েছে আরো বেশি।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কন্সট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএসিআই) এর সভাপতি প্রকৌশলী মুনীর উদ্দীন আহমেদ গতকাল এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, অস্বাভাবিকভাবে নির্মাণসামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধির কারণে আমাদের অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছে। এ অবস্থায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন হবে না। রাজধানীর উত্তরার মঞ্জুর ট্রেডার্সের মঞ্জুর বলেন, গত এক মাসে সিমেন্টের দাম বেড়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে। দাম আরো বাড়তে পারে বলে তিনি জানান।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩৩
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৩
মাগরিব৫:৫৭
এশা৭:১০
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫২