অর্থনীতি | The Daily Ittefaq

সিএসআর ব্যয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা উপেক্ষিত

সিএসআর ব্যয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা উপেক্ষিত
ছয় মাসে মোট ব্যয় হয়েছে ৪১৮ কোটি টাকা ** মোট ব্যয়ের অর্ধেকই গেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায়** শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সামান্য ব্যয়
রেজাউল হক কৌশিক২৭ মার্চ, ২০১৮ ইং ১০:১৩ মিঃ
সিএসআর ব্যয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা উপেক্ষিত
ব্যাংকগুলোর কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) অংশ হিসেবে বিভিন্ন খাতে ব্যয় করছে। চলতি অর্থ বছরের প্রথম ষান্মাসিকে (জুলাই-ডিসেম্বর) ৪১৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয় করেছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। কিন্তু এ ব্যয়ের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা মানেনি ব্যাংকগুলো। নির্দেশনা অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি ব্যয় করার কথা শিক্ষা খাতে। এ ছয় মাসে তা হয়নি। অন্যদিকে উপেক্ষিত হচ্ছে স্বাস্থ্য খাতও।
 
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় ব্যাংকগুলোকে তাদের সিএসআর খাতের মোট ব্যয়ের ৩০ শতাংশ শিক্ষা খাতে, ২০ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে এবং ১০ শতাংশ জলবায়ু ঝুঁকি বা দূর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ব্যয় করার কথা বলা হয়েছে। তবে দেখা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ব্যাংকগুলো তাদের মোট ব্যয়ের অর্ধেকও বেশি ব্যয় করেছে। এতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের ব্যয় অনেক কমে গিয়েছে।
 
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সিএসআর ব্যয়ের মধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা খাতে সর্বোচ্চ ব্যয় করা হয়েছে। এ খাতে ২৩৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। যা মোট ব্যয়ের ৫৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ। তফসিলী ব্যাংকসমূহের সিএসআর খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যয় ছিল শিক্ষা খাতে। এ খাতে ৭৬ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। যা মোট ব্যয়ের ১৮ দশমিক ২১ শতাংশ। এছাড়াও ব্যাংকসমূহের সিএসআর খাতে উল্লেখযোগ্য ব্যয়ের খাতসমূহের মধ্যে ছিল অন্যান্য খাতে টাকা ৬১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা (১৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ), স্বাস্থ্য খাতে ২২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা (৫ দশমিক ৪৫), সংস্কৃতি খাতে ১৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা (৩ দশমিক ৩২ শতাংশ) এবং পরিবেশবান্ধব খাতে টাকা ৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা (১ দশমিক ৬৩ শতাংশ)। আলোচ্য সময়ে তফসিলী ব্যাংকগুলোর সিএসআর খাতে ব্যয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন খাতে টাকা এক কোটি ২২ লাখ টাকা, আয় বর্ধক কর্মসূচীতে ৩২ লাখ টাকা ব্যয় হয়।
 
জলবায়ু পরিবর্তন ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বেশি ব্যয় বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচ্য সময়ে মূলত দেশে স্মরণকালের তীব্র শীত বিরাজমান থাকায় শীতার্ত জনগণের কষ্ট নিবারণের উদ্দেশ্যে নিজস্ব উদ্যোগে বা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের মাধ্যমে শীতবস্ত্র বিতরণের লক্ষ্যে অনুদান প্রদানের উদ্দেশ্যে এ খাতে সিএসআর ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাছাড়া উত্তরাঞ্চলের বন্যাদূর্গত অঞ্চলে সহায়তা ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য মানবিক সহায়তা প্রদান করায় উক্ত ষান্মাসিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা খাতে সিএসআর ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচ্য ছিল।
 
ব্যাংকগুলোর সিএসআর কার্যক্রমের বিবরণীতে দেখা যায়, জুলাই-জুন ষান্মাষিকে রূপালী, বাংলাদেশ কৃষি, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন, বিডিবিএল, আইসিবি ইসলামী ও সীমান্ত ব্যাংক সিএসআর খাতে কোন ব্যয় করেনি। এছাড়া জনতা, বেসিক, বাংলাদেশ কমার্স, ব্যাংক আল ফালাহ, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন, হাবিব, ন্যাশনাল ব্যাংক অফ পাকিস্তান, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া এবং উরি ব্যাংক সিএসআর খাতে খুব সামান্য পরিমাণ ব্যয় করেছে।
 
আলোচ্য সময়ে সিএসআর খাতে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করেছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড। এ ব্যাংকের ব্যয়ের পরিমাণ ৪৬ কোটি ৬৮ টাকা। এছাড়া পর্যায়ক্রমে ডাচবাংলা ব্যাংক ৪২ কোটি ২৭ লাখ, এক্সিম ব্যাংক ২৫ কোটি ২৭ লাখ, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক ১৭ কোটি ৭৩ লাখ, প্রাইম ব্যাংক ১৬ কোটি ৭৫ লাখ, সাউথইস্ট ব্যাংক ১৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা সিএসআর খাতে ব্যয় করেছে।
 
অন্যদিকে ব্যাংক বহির্ভুত আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে মোট দুই কোটি ৬৬ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যয় করা হয়েছে শিক্ষা খাতে। এ খাতে ব্যয় হয়েছে ৫৮ লাখ টাকা। যা মোট ব্যয়ের ২১ দশমিক ৮১ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থায়পনা। এ খাতে ৫৪ লাখ টাকা বা ২০ দশমিক ৩০ শতাংশ ব্যয় হয়েছে। তাছাড়া, তৃতীয় অবস্থানে আছে স্বাস্থ্য খাত। এ খাতে মোট ৪৯ লাখ টাকা বা ১৮ দশমিক ৪২ শতাংশ ব্যয় হয়েছে। এর বাইরে অন্যান্য, পরিবেশ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও আয়বর্ধন কর্মসূচিতে বাকী অর্থ ব্যয় হয়েছে ব্যয় হয়েছে।
 
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৪
মাগরিব৫:৫৮
এশা৭:১১
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫৩