অর্থনীতি | The Daily Ittefaq

বিপুল পরিমাণ ছোলা ডাল চিনি ও সয়াবিন তেল আমদানি

বিপুল পরিমাণ ছোলা ডাল চিনি ও সয়াবিন তেল আমদানি
বিপুল পরিমাণ ছোলা ডাল চিনি ও সয়াবিন তেল আমদানি

সিন্ডিকেট করে সরবরাহে কৃত্রিম সংকট তৈরি ও কারসাজি না হলে রমজান মাসে ভোগ্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা। আন্তর্জাতিক ও দেশিয় বাজারে পণ্যের মূল্য কম। ইতিমধ্যে প্রচুর পণ্য আমদানি হয়েছে। পাইপ লাইনে থাকা আমদানিকৃত বিপুল পণ্য আগামী এপ্রিলে আসবে। চট্টগ্রামে বাণিজ্যিক গুদামগুলোতে আমদানি করা পণ্য প্রচুর মজুদ রয়েছে। বর্তমানে চাল ছাড়া অন্যান্য সকল ভোগ্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, রমজানে ছোলা, চিনি, সয়াবিন, ডাল জাতীয় পণ্য,  পেঁয়াজ, রসুন, আদা, ময়দা ইত্যাদি পণ্যের চাহিদা বাড়তি থাকে। বর্তমানে এসব পণ্যের বাজার ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে রয়েছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন আমদানিকারক প্রচুর ছোলা, মশুরডাল, চিনি ও সয়াবিন আমদানি করেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে দেশের বাজারে চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি পণ্য আমদানি হয়েছে। তাই রমজানে পণ্যের দাম বৃদ্ধির কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে প্রতিবার দেখা যায়, সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাজারকে অস্থিতিশীল করে তোলে।

খাতুনগঞ্জের ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক ব্যবসায়ী আশুতোষ মজুমদার ইত্তেফাককে বলেন, এবার রমজানে অতি চাহিদা থাকা ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়বে না। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য কম। ছোলা ও ডালজাতীয় পণ্য চাহিদার চেয়ে বেশি আমদানি হয়েছে। খাতুনগঞ্জ কেন্দ্রিক ২০/২৫জন ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক রয়েছে। তারা   সকলেই পণ্য আমদানি করেছে। আমি নিজেই ৭০ হাজার টন ছোলা ও ১ লাখ টন মশুর ডাল আমদানি করেছি। দেশের শীর্ষস্থানীয় ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক আবুল বশর চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, রমজান মাসে ছোলার চাহিদা থাকে প্রায় ৮০ হাজার টন। ইতিমধ্যে এর চেয়ে কয়েকগুণ বেশি ছোলা আমদানি হয়েছে। ইতিমধ্যে কিছু পণ্য এসে পৌঁছেছে। আরো বিপুল পরিমাণ পণ্য পাইপ লাইনে রয়েছে। ফলে রমজানে দাম বৃদ্ধির কোনো কারণ দেখছি না।’

গতকাল মঙ্গলবার খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে ছোলা বিক্রি হয়েছে কেজি ৫৭ থেকে ৫৯ টাকা, মশুর ডাল কেজি ৫০ থেকে ৮০ টাকা, খেসারি কেজি ৩৫ টাকা, চিনি কেজি ৪৯ টাকা ও সয়াবিন ৭৬ টাকা।

এদিকে রমজানে বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে সরকারিভাবে চিনি, ছোলা আমদানি করা হয়েছে। সরকারিভাবে আমদানি করা ১ লাখ টন চিনি ইতিমধ্যে গুদামে পৌঁছেছে। টিসিবি চট্টগ্রাম অফিস জানায়, রমজান মাসে চট্টগ্রামের বাজারে অস্থিতিশীলতা ঠেকাতে ২ হাজার টন ছোলা ও ২ হাজার টন মশুর ডাল বাজারজাত করা হবে। সবেবরাতের পরদিন থেকে ডিলারদের মাধ্যমে খোলা বাজারে ন্যায্যমূল্যে এসব পণ্য বিক্রি হবে।

রমজানের আগে সয়াবিন তেলের বাজার বাড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানান ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীরা। পাইপ লাইনে থাকা প্রচুর সয়াবিন আগামী এপ্রিলে দেশে পৌঁছবে। এ প্রসঙ্গে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানটিকে গ্রুপের পরিচালক (অপারেশন্স এন্ড মার্কেটিং) তারিক আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন  প্রতি টন ৮১০ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। দেশের বাজারও স্থিতিশীল রয়েছে। আমাদের মতো দেশের অন্যান্য ব্যবসায়ীদের আমদানি করা প্রচুর সয়াবিন দেশে পৌঁছার জন্য পাইপ লাইনে রয়েছে। ফলে রমজানকে সামনে রেখে ভোজ্যতেলের মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই।

চট্টগ্রামে প্রায় ৫ শতাধিক বাণিজ্যিক গুদাম রয়েছে। এসব গুদামে আমদানি করা পণ্য মজুদ রাখা হয়। গুদাম ব্যবসায়ী আলী আহমেদ জানান, বাণিজ্যিক গুদামগুলোতে ছোলা, মশুর ডাল, গম জাতীয় প্রচুর পণ্য মজুদ রয়েছে। প্রতিদিনই পণ্য গুদামে আসছে। এদিকে জাহাজ মালিকদের সংগঠন ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের কর্মকর্তা আতাউল কবির জানান, বহির্নোঙ্গরে ছোলা ও মশুর ডালের ১টি ও চিনির ২টি জাহাজ খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, টিসিবির মাধ্যমে পণ্য বিক্রির কার্যক্রম জোরদার ও বাজার তদারকি বাড়াতে হবে। যাতে ব্যবসায়ীরা বাজারকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩৩
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৩
মাগরিব৫:৫৭
এশা৭:১০
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫২