অর্থনীতি | The Daily Ittefaq

অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধনে বিড়ম্বনার অভিযোগ

অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধনে বিড়ম্বনার অভিযোগ
রিয়াদ হোসেন০১ এপ্রিল, ২০১৮ ইং ১০:২৪ মিঃ
অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধনে বিড়ম্বনার অভিযোগ
নতুন ভ্যাট আইন (মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন) দুই বছরের জন্য স্থগিত হলেও এই সময়ের মধ্যে ব্যবসায়ীদের অনলাইনে ভ্যাট প্রদানে সক্ষম করে তুলতে চায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ লক্ষ্যে বিদ্যমান আইনেই ভ্যাট অনলাইন কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এ ব্যবস্থায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন নেওয়া ও রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে। এ পর্যন্ত প্রায় এক লাখ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধন ও পুন:নিবন্ধন সম্পন্ন করেছে। তবে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে, এ ব্যবস্থায় তারা বেশকিছু সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। এসব বিড়ম্বনা নিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পের অফিসসহ সংশ্লিষ্ট অফিসগুলোতে দৌঁড়াতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই তাতে কার্যকর ফল মিলছে না। এ ধরণের বেশকিছু সমস্যা উল্লেখ করে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সম্প্রতি এনবিআরকে একটি চিঠিও দিয়েছে।
 
ব্যবসায়ীরা জানান, ভ্যাট অনলাইন পদ্ধতিতে প্রতিটি নিবন্ধিত ব্যক্তিকে একটি আইডি বা অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়। বর্তমানে ভ্যাট অনলাইন পদ্ধতিতে অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার করা যায়না। কোন কারনে পাসওয়ার্ড ভুল হলে অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সমস্যার মুখে পড়তে হয়। তাদের অভিযোগ, ভ্যাট অনলাইন পদ্ধতিতে বর্তমানে এরকম অনেক অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে আছে। এছাড়া একবার নিবন্ধন নিলে তা সংশোধন করতে বেগ পেতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সংশোধন করা যাচ্ছে না। আইনের বিধান অনুসারে ভ্যাট অনলাইন পদ্ধতিতে একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থায় (ফরম ৪.২ ব্যবহার করে) ভ্যাট নিবন্ধন বাতিল করার সুযোগ থাকার কথা। কিন্তু সে ব্যবস্থা ঠিকমত কাজ করছে না। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত বাতিলের সব আবেদন অনিষ্পন্ন রয়ে গেছে। ১৯৯১ সালের বিদ্যমান ভ্যাট আইন অনুসারে নির্দিষ্ট ব্যবস্থায় (মূসক ১০ ব্যবহার করে) ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ভ্যাট নিবন্ধন বাতিল করা হতো। বর্তমানে তা করা যাবে কিনা, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোন নির্দেশনা না থাকায় মাঠ পর্যায়ে ব্যবসায়ীরা ভোগান্তিতে পড়ছে।
 
বিদ্যমান আইনে কুটির শিল্প ভ্যাটের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পায়। এ জন্য নির্ধারিত ব্যবস্থায় কুটির শিল্পের আওতায় নিবন্ধন নেওয়া যেত। ২০১২ সালের নতুন ভ্যাট আইনে কুটির শিল্পের জন্য ওই সুবিধা ছিল না। তাই ভ্যাট অনলাইন পদ্ধতিতেও কুটির শিল্পের আওতায় নিবন্ধন নেওয়ার সুযোগ নেই। ২০১২ সালের ভ্যাট আইনকে সামনে রেখেই মূলত ভ্যাট অনলাইন পদ্ধতি প্রস্তুত করা হয়েছে। ওই পদ্ধতির মাধ্যমে এখন ১৯৯১ সালের ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন করতে গিয়ে  কুটির শিল্পের আওতায় নিবন্ধন করা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে কোন নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে না। ফলে মাঠ পর্যায়ে ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি হচ্ছে। বিদ্যমান আইন ও নতুন ভ্যাট আইনে টার্নওভার করের (বার্ষিক বিক্রির উপর ভ্যাট) কাঠামো একরকম নয়। এক্ষেত্রে বেশকিছু পার্থক্য রয়েছে। ভ্যাট অনলাইন পদ্ধতি ২০১২ সালের নতুন ভ্যাট আইনকে মাথায় রেখে প্রস্তুত করায় বর্তমান আইনের আওতায় ভ্যাট অনলাইন পদ্ধতি থেকে  ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রীয় নিবন্ধন নেওয়া যাচ্ছে না। একই মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের একাধিক ইউনিট পরিচালনার জন্য আলাদা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য দেওয়া নিয়েও জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে।
 
অনলাইন ব্যবস্থায় ভ্যাট নিবন্ধন করতে গিয়ে ই-টিআইএনে (কর সনাক্তকরণ নম্বর) প্রয়োজন হয়। কিন্তু বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালানকারী কিছু সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের কর দিতে হয়না বলে ই-টিআইএন নেওয়ার প্রয়োজনও হয়না। এ ধরণের প্রতিষ্ঠান কীভাবে ভ্যাট অনলাইন পদ্ধতিতে ভ্যাট নিবন্ধন নেবে, সে বিষয়ে কোন নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। নতুন ভ্যাট আইন অনুযায়ী, উেস কর্তনকারী সত্ত্বা কারা - সেটির উল্লেখ রয়েছে। আর ১৯৯১ সালের আইন অনুযায়ী, উেস কর্তনকারী সত্ত্বা এর চাইতেও বেশি। ফলে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি, এক কোটি টাকার অধিক বার্ষিক টার্নওভারযুক্ত প্রতিষ্ঠানসহ বেশকিছু প্রতিষ্ঠান (নতুন আইনে যাদের উল্লেখ নেই) নিবন্ধন নেওয়ার সময় এই ধারাটি পূরণ করতে পারছে না।
 
নতুন আইনে করের ক্ষেত্রে টার্নওভার সীমা দেড় কোটি টাকা। আর ১৯৯১ সালের আইন অনুযায়ী, তা ৮০ লাখ টাকা। ভ্যাট অনলাইন পদ্ধতি ২০১২ সালের আইন অনুযায়ী তৈরি হওয়ায় ১৯৯১ সালের ভ্যাট আইন অনুসারে নিবন্ধন করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া আগের ভ্যাট নিবন্ধনে (১১ সংখ্যার) ব্যবসার কার্যক্রম সম্পর্কে উল্লেখ থাকতো। অনলাইন পদ্ধতিতে ভ্যাট নিবন্ধনপত্রে প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক কার্যক্রম উল্লেখ থাকে না। তাই উেস ভ্যাট কর্তন করাসহ বেশকিছু ক্ষেত্রে উক্ত প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট হার নির্ধারণে সমস্যার সৃষ্টি হয়। অনলাইন ভ্যাট নিবন্ধন ফরমে প্রধান অফিস উল্লেখ করার বিধান নেই। কিন্তু কেউ কেউ ভুল করে প্রধান অফিসের ঠিকানা উল্লেখ করলে ওই প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন ভুলক্রমে অন্য কমিশনারেটের আওতায় চলে যায়। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ভ্যাট নিবন্ধন মূলত অনলাইনে দেওয়া হলেও সব ধরণের ভ্যাট নিবন্ধন অনলাইনে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কোন কোন ভ্যাট অফিস ম্যানুয়াল পদ্ধতিতেও ভ্যাট নিবন্ধন দিচ্ছে। ফলে অনিয়ম ও হয়রানি বেড়েছে। ভ্যাট নিবন্ধনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো মূসক-৭ অনুমোদন। ভ্যাট অনলাইন পদ্ধতিতে মূসক-৭ ফরম দেওয়া হয়না। এটি এখন ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে এটি অনুমোদন করাতে হচ্ছে।
 
জানা গেছে, এসব সমস্যার কারণে এনবিআর অনলাইনে ভ্যাট কার্যক্রম পরিচালনায় বাধ্যবাধকতা দিতে গিয়েও পিছিয়ে আসতে হচ্ছে। এ পর্যন্ত অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধন সংগ্রহ ও রিটার্ন দাখিলে বাধ্যবাধকতার মেয়াদ কয়েক দফা বাড়ানো হয়েছে। সর্বশেষ গত মার্চ পর্যন্ত সময় থাকলেও তা আরো তিন মাস বাড়ানোর বিষয়ে সম্প্রতি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে ভ্যাট অনলাইন প্রকল্প অফিস।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩১
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৫
মাগরিব৫:৫৯
এশা৭:১২
সূর্যোদয় - ৫:৪৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৪