অর্থনীতি | The Daily Ittefaq

রডের দাম ১২ হাজার টাকা বেড়ে কমলো মাত্র ৩ হাজার!

রডের দাম ১২ হাজার টাকা বেড়ে কমলো মাত্র ৩ হাজার!
ইত্তেফাক রিপোর্ট০৭ এপ্রিল, ২০১৮ ইং ০৮:৫৯ মিঃ
রডের দাম ১২ হাজার টাকা বেড়ে কমলো মাত্র ৩ হাজার!
এক মাসের ব্যবধানে বারো থেকে তেরো হাজার টাকা বেড়েছে রডের দাম। সম্প্রতি বিভিন্ন পর্যায় থেকে এ নিয়ে উদ্বেগ জানানো হলে ইস্পাত খাতের ব্যবসায়ীরা সবমিলিয়ে তিন হাজার টাকা দাম কমানোর ঘোষণা দেন। 
 
সম্প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের অনুরোধে প্রতি টন রডের মূল্যে ২ হাজার এবং বুধবার শিল্পসচিবের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রতি টন রডের মূল্যে আরো ১ হাজার টাকা কমানোর ঘোষণা দেন ইস্পাত খাতের ব্যবসায়ীরা। 
 
কিন্তু খুচরা পর্যায়ে ব্যবসায়ীরা জানান, রডের দাম যে হারে বেড়েছে সে হারে কমানোর ঘোষণা আসেনি। এক মাস আগেও টন প্রতি ৫৮ থেকে ৫৯ হাজার টাকা দাম ছিলো রডের। এখন সেটি ৭০ থেকে ৭১ হাজার টাকায় উঠে গেছে। রড উৎপাদনে কাঁচা মালের দাম বৃদ্ধি এবং এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণে পরিবহণ খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় রডের মূল্যবৃদ্ধি পেতে থাকে। কিন্তু এত বেশি দাম বৃদ্ধির জন্য অনেকেই সিন্ডিকেটকে দায়ী করেছেন। তবে এ খাতের ব্যবসায়ীদের দাবী রডের কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, ডলারের বিনিময় হার ও বন্দরের খরচ বৃদ্ধি, পণ্য পরিবহনে ওজনসীমা নির্দিষ্ট করে সরকারর এক্সেল লোড আইন প্রবর্তন, গ্যাসের সংকট, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি এবং ব্যাংক ঋণের সুদের হার বাড়ার কারণেই রডের দাম বেড়েছে। বৃহষ্পতিবার বাংলাদেশ অটো রি-রোলিং অ্যান্ড স্টিল মিলস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ রি-রোলিং মিলস অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ স্টিল মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় টন প্রতি ৯ হাজার ৮৯২ টাকা বেড়েছে রডের দাম। ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে প্রতি টন রডে ১ হাজার ৭০৮ টাকা খরচ বেড়েছে। তা ছাড়া স্পঞ্জ আয়রন ও ফেরো অ্যালয়েজ নামক রাসায়নিকের মূল্যবৃদ্ধির কারণে রডের দাম প্রতি টনে ১ হাজার ৯৮৯ টাকা বেড়েছে। বন্দর ও পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় প্রতি টন রডের মূল্যে ১ হাজার ৪৬৮ টাকা বেড়েছে। 
 
এ ছাড়া গ্যাসের সমস্যা, ব্যাংকঋণের সুদের হার বৃদ্ধি সবমিলিয়ে প্রতি টন রড উত্পাদনে ১৮ হাজার ৪১৯ টাকা বেড়েছে বলে দাবী করেন ব্যবসায়ীরা। উল্লেখ্য, বর্তমানে রডের টন প্রতি দাম ৭০ হাজার টাকা ছাড়িয়েছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, দাম বৃদ্ধির ফলে তাদের রড বিক্রি প্রায় ৩০ ভাগের মতো কমেছে। অনেকেই অপেক্ষা করছেন দাম কমার। ইস্পাত ব্যবসায়ীরা দাম কমানোর ঘোষণা দিলেও বাজারে এর প্রভাব পড়তে আরো এক সপ্তাহের মতো অপেক্ষা করতে হবে। রডের মূল্য বৃদ্ধির সমালোচনা করে গত মাসে সংবাদ সম্মেলন করে আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাব। সংগঠনটির নেতারা রডের মূল্যবৃদ্ধিকে অযৌক্তিক দাবি করেন। তাছাড়া রডের মূল্য বৃদ্ধিতে নির্মাণ খাত সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
 
ইত্তেফাক/কেকে
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩০
যোহর১১:৫৩
আসর৪:১৭
মাগরিব৬:০২
এশা৭:১৫
সূর্যোদয় - ৫:৪৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৭