অর্থনীতি | The Daily Ittefaq

ব্যাংকের মতো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণেও সুদ কমবে

ব্যাংকের মতো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণেও সুদ কমবে
ইত্তেফাক রিপোর্ট২৫ জুন, ২০১৮ ইং ১০:৩৫ মিঃ
ব্যাংকের মতো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণেও সুদ কমবে
দেশে কার্যরত ব্যাংকগুলোতে আগামী ১ জুলাই থেকে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণ ও ৬ শতাংশ সুদে আমানত নেওয়ার ঘোষণা এসেছে। ব্যাংকের মত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোরও (লিজিং কোম্পানি) সুদহার কমে আসবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে কতটা কমবে এবং কবে নাগাদ কববে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সুদহার কমানো বিষয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন বাংলাদেশ লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিএলএফসিএ) নেতাদের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির ইতোমধ্যে একটি বৈঠকও করেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ব্যাংকের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এখন ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও সুদহার কমাতে হবে।
 
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি-মার্চ সময়ে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ সুদে শিল্পের মেয়াদি ঋণ বিতরণ করেছে বেশিরভাগ ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। একই সময়ে বেশিরভাগ ব্যাংক এ খাতে ৯ থেকে সাড়ে ১২ শতাংশ সুদ নিয়েছে। যদিও এর কয়েক মাস আগে ব্যাংকগুলো ১০ শতাংশের কম সুদে ঋণ বিতরণ করেছিল।
 
গত মার্চে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ সুদে আমানত নিয়েছে। আর ঋণ বিতরণ করেছে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ সুদে। একই মাসে ব্যাংকগুলো গড়ে ৫ দশমিক ৩০ শতাংশ সুদে আমানত নিয়েছে। আর ঋণ বিতরণ করেছে গড়ে ৯ দশমিক ৭০ শতাংশ সুদে।
 
আর্থিক প্রতিষ্ঠান-সংশ্লিষ্টরা জানান, ব্যাংকগুলো গ্রাহক থেকে চলতি, সঞ্চয়ী, মেয়াদিসহ বিভিন্ন ধরনের আমানত নিতে পারে। তবে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তিন মাসের কম মেয়াদে কোনো আমানত নিতে পারে না। আবার ব্যাংকের তুলনায় এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি কম হওয়ায় আমানত সংরক্ষণে গ্রাহকরা তেমন আগ্রহ দেখান না। ফলে ব্যাংকের তুলনায় বেশি সুদ দিয়েও চাহিদা অনুযায়ী আমানত না পাওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানের তহবিল সংগ্রহে ধরনা দিতে হয় ব্যাংকে। আমানতের পাশাপাশি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে কার্যক্রম চালাতে হয়। বর্তমানে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট আমানতের ২৩ শতাংশের মতো আসে ব্যাংক থেকে। আবার ব্যাংকের চেয়ে আমানতের গড় সুদহারও তুলনামূলক বেশি। ফলে ব্যাংকের তুলনায় সব সময় এসব প্রতিষ্ঠানের সুদহারও বেশি থাকে।
 
এ ছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানতের উল্লে­খযোগ্য অংশ আসে ব্যাংক থেকে। ফলে ব্যাংকগুলো যে সুদে ঋণ দেয়, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য তা আমানতের সুদ। যে কারণে এসব প্রতিষ্ঠান চাইলেও সিঙ্গেল ডিজিটে ঋণ দিতে পারবে না। তবে বর্তমানের তুলনায় কমবে।
 
বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ফজলে কবির বিএলএফসিএ প্রতিনিধিদেরকে ব্যাংকের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সুদহার কমানোর পরামর্শ দেন। এ জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে নিজেরা বসে সুদহার ঠিক করে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে গভর্নর সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করে এ বিষয়ে দিক নির্দেশনা দেবেন।
 
বিএলএফসিএর চেয়ারম্যান ও ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. খলিলুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, সুদহার সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরামর্শ অনুযায়ী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে এ জন্য কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
 
ইত্তেফাক/কেকে
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩৩
যোহর১১:৫১
আসর৪:১২
মাগরিব৫:৫৫
এশা৭:০৮
সূর্যোদয় - ৫:৪৮সূর্যাস্ত - ০৫:৫০