অর্থনীতি | The Daily Ittefaq

বাড়ছে সন্দেহজনক লেনদেন

বাড়ছে সন্দেহজনক লেনদেন
বিএফআইইউর বার্ষিক প্রতিবেদন
ইত্তেফাক রিপোর্ট২৮ জুন, ২০১৮ ইং ১৭:২৯ মিঃ
বাড়ছে সন্দেহজনক লেনদেন
আর্থিক ব্যবস্থায় সন্দেহজনক লেনদেনের রিপোর্ট জমা বাড়ছে। ব্যাংকসহ রিপোর্টকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান শুধু ২০১৬-১৭ অর্থবছর ২ হাজার ৩৫৭টি সন্দেহজনক লেনদেনের রিপোর্ট দিয়েছে। আগের অর্থবছর এক হাজার ৬৮৭টি সন্দেহজনক লেনদেন জমা হয়। এক বছরের ব্যবধানে সন্দেহজনক লেনদেন বেড়েছে ৩৯ দশমিক ৭২ শতাংশ। সন্দেহজনক এসব লেনদেনের প্রায় ৯৮ শতাংশ হয়েছে ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে।
 
ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং অর্থ লেনদেনকারী বিভিন্ন সংস্থার দেওয়া তথ্যের আলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাংলাদেশ আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ) থেকে প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েব সাইটে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে।
 
জঙ্গী বা সন্ত্রাসে অর্থায়ন, ঘুষ-দুর্নীতি বা বেআইনি কোনো লেনদেনের বিষয়ে সন্দেহ হলে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান, বিমাসহ অর্থ লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকে স্থাপিত বিএফআইইউতে রিপোর্ট করে। ব্যাংকিং পরিভাষায় যা সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিবেদন (এসটিআর) হিসেবে বিবেচিত। একই সঙ্গে কোনো হিসাব থেকে দিনে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি লেনদেন হলে মাসিক ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংকে রিপোর্ট করতে হয়। এধরনের রিপোর্টকে নগদ লেনদেন প্রতিবেদন (সিটিআর) বলা হয়। উভয় ক্ষেত্রেই রিপোর্টের হার আগের তুলনায় বেড়েছে।
 
বিএফআইইউর প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহজনক এসব লেনদেনের মধ্যে এক হাজার ৬৬৩টি তথা ৭০ দশমিক ৫৬ শতাংশ এসেছে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে। আর মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদেশ থেকে অবৈধ উপায়ে আনা রেমিট্যান্স বিতরণের ক্ষেত্রে সন্দেহজনক লেনদেনের রিপোর্ট জমা হয়েছে ৬৪৪টি। মোট এমটিআরের যা ২৭ দশমিক ৩২ শতাংশ। ব্যাংক বহির্ভুত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৪২টি অভিযোগ। আর শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৮টি অভিযোগ। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এসটিআরের এক হাজার ৫৪৭টি তথা ৯১ দশমিক ৭০ শতাংশ হয় ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে। বাকি অভিযোগ এসেছিল অন্যান্য মাধ্যমে।
 
সন্দেহজনক লেনদেন বৃদ্ধির সঙ্গে অর্থপাচারসহ বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগের সংখ্যাও বেড়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৩০১টি অভিযোগ এসেছে। আগের অর্থবছর এসেছিল মাত্র ২০৯টি অভিযোগ। তার আগের অর্থবছর অবশ্য অভিযোগের সংখ্যা ছিল ৩৮৮টি। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের অভিযোগগুলোর মধ্যে সব চেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে বাংলাদেশ পুলিশ থেকে। সংস্থাটি ১০৯টি অভিযোগ করেছে। আগের বছর যা মাত্র ৫০টি ছিল। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭১টি অভিযোগ এসেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) থেকে। আগের বছর ২৯টি অভিযোগ দিয়েছিল দুদক। বিভিন্ন গণমাধ্যমে আগের অর্থবছরের ৭টি থেকে বেড়ে ১৪টি অভিযোগ এসেছে। তবে ব্যক্তি পর্যায়ে অভিযোগ ব্যাপক হারে কমে মাত্র ১১টিতে নেমেছে। আগের অর্থবছর যা ২৬টি ছিল। তার আগের অর্থবছর ছিল ৩৬টি। অন্যান্য মাধ্যমে আগের অর্থবছরের মতো ৯৬টি অভিযোগ এসেছে।
 
মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ কার্যক্রমের বিষয়ে খতিয়ে দেখতে ৫৭টি ব্যাংকেরই প্রধান কার্যালয় ও ৫৭টি শাখার ওপর বিশেষ পরিদর্শন করেছে বিএফআইইউ। তবে কোনো ব্যাংকেরই প্রধান কার্যালয় বা শাখার মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ কার্যত্রক্রম ‘শক্তিশালী’ রেটিং পায়নি। তবে ‘সন্তোষজনক’ রেটিং পেয়েছে ১৫টি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও ৮টি শাখা। ‘ফেয়ার’ রেটিং পেয়েছে ৩৫টি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও ৩৭টি শাখা। আর ‘অসন্তোষজনক’ রেটিং পেয়েছে ৫টি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় এবং ১২টি শাখা। আগের অর্থবছর ৫৬টি ব্যাংকের শুধু প্রধান কার্যালয়ের ওপর পরিদর্শন পরিচালিত হয়। মধ্যে সন্তোষজনক ছিল ৩টি, ২৮টি ব্যাংক ফেয়ার, প্রান্তিক ছিল ২৪টি ব্যাংক আর একটি ছিল অসন্তোষজনক।
 
এসব বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিএফআইইউর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, জঙ্গিবাদ, ঘুষ লেনদেনসহ বিভিন্ন অনিয়ম প্রতিরোধে ব্যাংকারদের মধ্যে সচেতনতা অনেক বেড়েছে। এখন কোনো লেনদেন নিয়ে সন্দেহ হলে তাত্ক্ষণিকভাবে ওই গ্রাহককে ব্যাংকগুলোর নানা প্রশুের মুখে পড়তে হয়। এরপরও ব্যাংক ঝামেলা এড়াতে আবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রিপোর্ট করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি বৃদ্ধির ফলে এমনটি হয়েছে বলে তার ধারনা।
 
সন্দেহজনক লেনদেনের সঙ্গে নগদ লেনদেন প্রতিবেদন (সিটিআর) জমার পরিমাণও বেড়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছর ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এক কোটি ৪০ লাখ নগদ লেনদেন প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এর বিপরীতে লেনদেন হয়েছে প্রায় ১০ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকা। বিপুল অঙ্কের এ অর্থের মধ্যে এনবিএফআইর ছিল মাত্র ৩০২ কোটি টাকা। বাকি অর্থের পুরোটায় ছিল ব্যাংকের। আগের অর্থবছর এক কোটি ২৭ লাখ লেনদেনের বিপরীতে ৮ লাখ ৭৪ হাজার কোটি টাকা স্থানান্তরিত হয়। যার মধ্যে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ছিল মাত্র ২৪৬ কোটি টাকা।
 
ইত্তেফাক/রেজা
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩৪
যোহর১১:৫১
আসর৪:১১
মাগরিব৫:৫৪
এশা৭:০৭
সূর্যোদয় - ৫:৪৮সূর্যাস্ত - ০৫:৪৯