অর্থনীতি | The Daily Ittefaq

প্রথমার্ধের বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি ঘোষণা

প্রথমার্ধের বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি ঘোষণা
অনলাইন ডেস্ক৩১ জুলাই, ২০১৮ ইং ১৮:৩২ মিঃ
প্রথমার্ধের বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি ঘোষণা
২০১৯ অর্থবছরের প্রথমার্ধের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার এই মুদ্র্রানীতি ঘোষণা করা হয়।
 
এবারের মুদ্রানীতির ব্যাপারে বলা হয়ছে, ২০১৮ সালের নীতির পদক্ষেপের সূত্রে নিকটমেয়াদী প্রত্যাশিত অনুকূল পরিবেশে ২০১৯ অর্থবর্ষের প্রথমার্ধে ব্যাংক ঋণের গড় ভারিত সুদহার এক অংকের মাত্রায় বজায় রাখা যা ব্যাংকগুলোর জন্য কষ্টকর হবে না। তবে অনুকূল পরিস্থিতি টেকসই বা সাসটেইনেবল করার জন্য আবশ্যিক সংস্কারগুলো দ্রুত সম্পন্ন না করা গেলে আর্থিক বাজারে আমানত ও ঋণের সুদহারে চাহিদা ও যোগান ভিত্তিক পরিবর্তনশীলতা বাধাগ্রস্ত হবে। এ ধরনের প্রতিবন্ধকতা মধ্যম আয় ও উন্নত অর্থনীতি পর্যায়ে দেশের প্রত্যাশিত উত্তরণের জন্য প্রয়োজনীয় মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আহরণ প্রক্রিয়াকে বিঘ্নিত করার মাধ্যমে প্রবৃদ্ধিবান্ধব হওয়ার পরিবর্তে প্রবৃদ্ধি প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াতে পারে। 
 
আবশ্যিক জরুরি সংস্কারগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রথমত, খেলাপী ঋণ জনিত ব্যয়ভারসহ ব্যাংকের সামগ্রিক পরিচালনা ব্যয়ে দ্রুত হ্রাস এনে আমানত ও ঋণসুদ হারের ব্যবধান বা ইন্টারমেডিয়েশন স্প্রেডের সংকোচন, দ্বিতীয়ত, সরকারি সঞ্চয়পত্রের মুনাফা হার এবং এর সংগে তুলনীয় মেয়াদী ট্রেজারী বন্ডের বাজার ইল্ড হার-এদুয়ের মধ্যে পার্থক্য যৌক্তিকীকরণ, এবং সর্বোপরি সামগ্রিকভাবে মূল্যষ্ফীতি নিম্নমাত্রায় রাখার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।
 
বিদ্যমান এই পরিস্থিতি মোকাবেলা এবং বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্যের চলতি হিসাবে ঘাটতি সহনযোগ্য মাত্রায় আনার চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে ২০১৯ অর্থবর্ষের প্রথমার্ধের মুদ্রানীতি উল্লেখ করা হয়।
 
এর মধ্যে রয়েছে, আগেকার ধারাবাহিকতায় প্রবৃদ্ধিবান্ধব এবং একইসংগে মূল্যষ্ফীতি পরিমিত রাখার লক্ষ্যে মুদ্রানীতিভংগী সংযত ধরনেরই থাকবে। উচ্চতর প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার সাথে সংগতি রেখে ব্যাংকিং খাত থেকে অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রবৃদ্ধি পূর্ববর্তী বছরের ১৪.৬ শতাংশের বিপরীতে ২০১৯ অর্থবছরে ১৫.৯ শতাংশ ধরা হয়েছে, এর মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি যথাক্রমে ১০.৪ ও ১৬.৮ শতাংশ ধরা হলেও সরকারি খাতে ব্যাংক ঋণের চাহিদা কম  থাকার সূত্রে বেসরকারি খাতের জন্য ঋণের উচ্চতর প্রবৃদ্ধি সংকুলানের সুযোগ থাকবে। বিগত বছরে এক অংকে নেমে আসা ব্যাপক মুদ্রার প্রবৃদ্ধি ২০১৯ অর্থবছরে ১২.০ শতাংশে  প্রাক্কলন করা হয়েছে, তবে এই বৃদ্ধির অর্জন নির্ভর করবে প্রধানত বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্যের চলতি হিসাবে ঘাটতি সহনীয় মাত্রায় বজায় রাখার উপর। অভ্যন্তরীণ ঋণের ব্যবহার বিলাসী অপ্রয়োজনীয় আমদানি পণ্যের জন্য না হয়ে প্রকৃত উৎপাদনমুখী, কর্মসংস্থান সৃজনমুখী অগ্রাধিকার খাতে ব্যবহার হবার বিষয়ে ব্যাংকগুলোর নিজস¦ নজরদারীর পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস¦ বোর্ডের শুল্ক কর্তৃপক্ষ, এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নজরদারী নিবিড়তর করা প্রয়োজন হবে। বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্যে ঘাটতি পরিমিত রাখার জন্য রপ্তানি ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স অন্তঃপ্রবাহ জোরদার করার পাশাপাশি সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ ও পুঁজি বাজারে বিনিয়োগ আকর্ষণ কার্যক্রম জোরদার করাও গুরুত্বপূর্ণ হবে। এজন্য মূলধন বাজারে ইকুইটি এবং বন্ড ইস্যু কার্যক্রম বিকাশের গুরুত্বের দিকে আমরা পূর্ববর্তী মূদ্রানীতি ঘোষনাপত্রেও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। দেশে অবকাঠামো ও অন্যান্য উৎপাদনশীল খাতে মেগা প্রকল্পগুলোর অর্থায়নে বৈদেশিক ঋণের উপর মাত্রাধিক নির্ভরতা এড়িয়ে দেশি ও বিদেশি ইক্যুয়িটি বিনিয়োগ পর্যাপ্ত মাত্রায় আকর্ষণও বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্যে সহনীয় অবস্থা আনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।
 
ইত্তেফাক/এমআই
 
 
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩৪
যোহর১১:৫১
আসর৪:১১
মাগরিব৫:৫৪
এশা৭:০৭
সূর্যোদয় - ৫:৪৮সূর্যাস্ত - ০৫:৪৯