অর্থনীতি | The Daily Ittefaq

ভারতে বাংলাদেশে রপ্তানির পরিমাণ তিনগুণ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব: ড. আতিউর রহমান

ভারতে বাংলাদেশে রপ্তানির পরিমাণ তিনগুণ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব: ড. আতিউর রহমান
অনলাইন ডেস্ক০৮ আগষ্ট, ২০১৮ ইং ১৯:০১ মিঃ
ভারতে বাংলাদেশে রপ্তানির পরিমাণ তিনগুণ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব: ড. আতিউর রহমান
'ভারতে বাংলাদেশে রপ্তানির পরিমাণ তিনগুণ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব। এ লক্ষ্যে স্থলপথের পাশাপাশি জলপথেও বাণিজ্য বাড়াতে হবে। তবে এ জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত বাঁধাগুলো অপসারণ করতে হবে।' বলেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান। আজ 'এক্সপ্যান্ডিং ট্রেইডেবল বেনিফিটস অফ ট্রান্স-বাউন্ডারি ওয়াটার: প্রমোটিং ন্যাভিগেশনাল ইউসেজ অফ ইনল্যান্ড ওয়াটারওয়েজ ইন গঙ্গা এন্ড ব্রহ্মপুত্র ব্যাসিনস' শিরোনামে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
 
দি এশিয়া ফাউন্ডেশন এবং উন্নয়ন সমন্বয়ের সহায়তায় এই সংলাপ আয়োজন করে ভারতের কাটস ইন্টারন্যাশনাল। ভারতের ধুবড়ি এবং বাংলাদেশের চিলমারিতে অবস্থিত নদী বন্দর গুলোর মধ্যে জলপথে বাণিজ্য বিস্তারের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন বিষয়ে দুই দেশের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে মতৈক্য তৈরি করতে এই সংলাপ আয়োজিত হয়।
 
ড. আতিউর রহমান বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অন্তঃআঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাটি সকল দেশের নীতি নির্ধারকরা মেনে নিয়েছেন। ফলস্বরূপ বিবিআইএন-এমভিএ (বাংলাদেশ, ভূটান, ভারত ও নেপালের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ বিষয়ক চুক্তি) এবং প্রটোকল অন ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রানজিট এন্ড ট্রেড (পিআইডব্লুটিটি) বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ও ভারতে বিশেষ উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
 
তিনি বলেন, ধুবড়ি ও চিলমারির মধ্যে জলপথে বাণিজ্যের ব্যাপক সম্ভাবনা থাকলেও তা যথাযথভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে না। দুই দেশের মধ্যকার জলপথের এ অংশটুকু পিআইডব্লুটিটি-এর অন্তর্ভূক্ত এবং এ দুটি এলাকাই আর্থসামাজিকভাবে পিছিয়ে রয়েছে। ফলে এ পথে বাণিজ্য বাড়ানো গেলে তা সামষ্টিক অর্থনৈতিক পর্যায়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
 
ধুবড়ি-চিলমারি জলপথে বাণিজ্য বিস্তারের পথে বেশ কিছু প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত প্রতিবন্ধকের কথা তুলে ধরেন ড. আতিউর। তিনি বলেন, যে চিলমারির কাছের স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ থেকে ১০টি পণ্য পাঠানোর সুযোগ থাকলেও ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ২টি পণ্য সেদেশের বাজারে প্রবেশ করতে দিচ্ছে। সবকটি পণ্য ভারতে পাঠানোর সুযোগ থাকলে বাংলাদেশী রপ্তানিকারকদের অনেকে সেগুলো জলপথে পাঠাতে পারতেন বলে অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি।
 
ড. আতিউর আরও বলেন, যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা না থাকার কারণে ছোট ছোট যান্ত্রিক নৌকাগুলোর সীমানা অতিক্রম করার সুযোগ নেই। ফলে দুই দেশের মানুষই কম খরচে পরিবহনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে চিলমারি বন্দর সরিয়ে নেয়া, বন্দর পর্যন্ত যথাযথ সংযোগ সড়ক না থাকা, কোল্ড স্টোরেজ ও কোয়ারেন্টাইন সুবিধা না থাকা ইত্যাদিসহ আরও কিছু কাঠামোগত সমস্যার কথাও আলোচনা করেন ড. আতিউর।
 
ধুবড়ি-চিলমারি জলপথে বাণিজ্য বিস্তারে অনেক প্রতিবন্ধক থাকলেও এ থেকে যে সুফল পাওয়া যাবে তা বহু গুণ বেশি বলে মনে করেন ড. আতিউর। তাই তাঁর মতে এ পথে বাণিজ্য বিস্তারের জন্য একসঙ্গে কাজ করাকে তিনি সময়ের দাবি বলে অভিহিত করেন।
 
কাটস ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহী পরিচালক বিপুল চ্যাটার্জি আলোচনা সভার মডারেটর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং দুই দেশের নৌ-মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণলায় এবং কাস্টমস কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন।
 
ইত্তেফাক/নূহু
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩৩
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৩
মাগরিব৫:৫৭
এশা৭:১০
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫২