অর্থনীতি | The Daily Ittefaq

আসছে জালনোটের মৌসুম

আসছে জালনোটের মৌসুম
রেজাউল হক কৌশিক১৩ আগষ্ট, ২০১৮ ইং ১৮:১২ মিঃ
আসছে জালনোটের মৌসুম
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে প্রতি বছর সক্রিয় হয়ে উঠে জাল টাকার কারবারিরা। বিশেষ করে কোরবানি পশুর হাটগুলোতে জাল টাকার ছড়াছড়ি বেশি হয়। এছাড়াও ঈদের অন্যান্য কেনাকাটায়ও জাল টাকা ছড়ানোর জন্য মরিয়া হয়ে থাকে। তাই বছরের অন্যান্য সময়ের চেয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও সাধারণ মানুষ বেশি সচেতন থাকায় জাল নোটের কারবারিরা ধরা পড়ে বেশি। তবে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হলেও তারা শাস্তির আওতায় আসে না। বছরের পর বছর ঝুলতে থাকে ওইসব মামলা। আইনের ফাঁক গলিয়ে বেরিয়ে পড়ে অপরাধীরা।
 
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক তথ্যে দেখা গেছে, জালনোট সক্রান্ত ছয় হাজার ৬০৬টি মামলা ঝুলে আছে। এর মধ্যে চলতি বছর ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) নতুন মামলা হয়েছে ৮৫টি। আর নিষ্পত্তি হয়েছে ২২টি। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে জালনোট সংক্রান্ত মামলা ছিল ৬ হাজার ১৯৫টি। ওই বছরে নতুন করে ৩৪৪টি নতুন মামলা হয়। নিষ্পত্তি হয় মাত্র ১০৬টি। ডিসেম্বর শেষে নিষ্পত্তি না হওয়া মামলার সংখ্যা দাঁড়ায় ৬ হাজার ৪৩৩টি। পরের বছর নতুন মামলা হয় ২৮৭টি। কিন্তু নিষ্পত্তি হয় মাত্র ১১৭টি। ফলে মোট মামলার সংখ্যা দাঁড়ায় ৬ হাজার ৫৪৩টি।
 
জালনোটের ভোগান্তি থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে প্রতি বছর কোরবানির আগে জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন সরবরাহসহ বেশকিছু উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। জালনোট প্রতিরোধে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে পোস্টারিং করা, আসল নোট চেনার উপায় সংবলিত বিজ্ঞাপন সংবাদপত্র এবং টিভি চ্যানেলগুলোতে প্রচারের ব্যবস্থা করা, গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ভিডিও প্রদর্শন করা, এটিএম মেশিনে টাকা ঢোকানোর আগে তা পরীক্ষা করাসহ নানান পরামর্শ দিয়ে থাকে। এছাড়া এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও তত্পরতা বাড়াতে  যৌথ সভা করে থাকে।
 
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জাল নোটের ব্যবহারও বেড়েছে। যার ফলে সাধারণ মানুষকে এ ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। এ কারণে জাল নোটের ব্যবহার বন্ধে বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তিনি বলেন, জালনোটের মামলার সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। কারণ এ বিষয়ে বিচারকার্যে অনেক সময় লেগে যাচ্ছে। জালনোট কারবারিদের কঠোরভাবে দমন করতে নতুন আইন হচ্ছে। আইন হলে জালনোটের কারবারের সঙ্গে জড়িতদের সহজেই জামিন পাওয়া বন্ধ হবে এবং কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যাবে।
 
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, অধিকাংশ মামলার আসামিরা সহজেই জামিন পেয়ে যান। চূড়ান্ত রায়ে খালাস পান। এর কারণ হচ্ছে জাল টাকার মামলায় সাক্ষী পাওয়া যায় না। যেখান থেকে জাল টাকা উদ্ধার করা হয় সেখানকার দারোয়ান, রিকশাচালক কিংবা ভাসমান কাউকে সাক্ষী করা হয়। এছাড়া ভুল ঠিকানা ব্যবহারেরও প্রবণতা রয়েছে। নোট জালকারী চক্রের পেছনে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা থাকেন। তাই কারবারিদের সঙ্গে যোগসাজশে ঘুষের বিনিময়ে বা হুমকির কারণে ভৌতিক সাক্ষী করে পুলিশ। এসব সাক্ষীর অস্তিত্ব না পেলে আসামিরা সহজেই খালাস পেয়ে যায়। আবার অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে পুলিশ অভিযোগ শিথিল করে চার্জশিট দেয়। এই চার্জশিট অনুসারে পরবর্তীতে মামলার বিচার শুরু হয়। এতে সহজেই মামলা থেকে রেহাই পায় জাল টাকা প্রস্তুত ও সরবরাহকারীরা। পরে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।
 
এ ব্যাপারে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া শাখার উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, ‘জাল নোট তৈরি চক্রের সদস্যদের দিকে কঠোর নজরদারি রয়েছে। ইতোমধ্যে এই চক্রের বড় সিন্ডিকেটের সদস্যরা গ্রেফতারও হয়েছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিটও দেওয়া হচ্ছে। আসামি জামিন পাওয়ার বিষয়টি বিজ্ঞ আদালতই দেখেন।’  তিনি বলেন, প্রতিবারের মতো এবারও জাল নোট শনাক্তের জন্য পশুর হাটে মেশিন থাকবে।
 
জানা গেছে, প্রচলিত দুটি আইনে জালনোট সংক্রান্ত মামলার বিচার করা হচ্ছে। এ আইন দুটির ফাঁক ফোকর বের করে অধিকাংশ মামলায় আসামিরা খালাস পেয়ে যাচ্ছেন। বিচার চলাকালে আসামিরা জামিনে থাকার ঘটনাও ঘটছে। বিচারিক এই দীর্ঘ সময়ে তারা আবার জালনোট বিস্তারে কাজ করে। দেখা যাচ্ছে, বিচারাধীন মামলার আসামিরা বারবার আটক হচ্ছে। আইনের এই দুর্বলতা দূর করতে নতুন আইন করা হচ্ছে। ‘জালনোট নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ-আইন-২০১৭’ শীর্ষক খসড়া আইনটি চূড়ান্ত করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
 
জাল নোটের কারবারিরা সাধারণত বড় নোট বিশেষত এক হাজার ও ৫০০ টাকার নোট সবচেয়ে বেশিজাল করে থাকে। জালনোট সংক্রান্ত এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সর্বমোট ২০ হাজার ৭৯০টি জাল নোট ধরতে পেরেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। উদ্ধারকৃত নোটের মধ্যে এক হাজার টাকার জালনোটের সংখ্যা ১৫ হাজার ৭৮০টি। যা মোট ধরাপড়া নোটের ৭৬ শতাংশ।  ওই পরিসংখ্যানে দেখা যায়, আলোচ্য সময়ে ৫০০ টাকার নোট ধরা পড়েছে তিন হাজার ৮৯৩টি। ১০০ টাকার নোট ধরা পড়েছে এক হাজার ১১৮টি। ৫০ টাকার জাল নোট ধরা পড়েছে ৭২টি।
 
ইত্তেফাক/নূহু
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩০
যোহর১১:৫৩
আসর৪:১৭
মাগরিব৬:০২
এশা৭:১৫
সূর্যোদয় - ৫:৪৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৭