অর্থনীতি | The Daily Ittefaq

মিথ্যা ঘোষণার ক্ষতিকর রাসায়নিক ধরতে শুল্ক বিভাগের হাতে নতুন প্রযুক্তি

মিথ্যা ঘোষণার ক্ষতিকর রাসায়নিক ধরতে শুল্ক বিভাগের হাতে নতুন প্রযুক্তি
ইত্তেফাক রিপোর্ট০৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং ১০:২৯ মিঃ
মিথ্যা ঘোষণার ক্ষতিকর রাসায়নিক ধরতে শুল্ক বিভাগের হাতে নতুন প্রযুক্তি
 
মিথ্যা ঘোষণায় আনা কাঁচামাল কিংবা অন্য যে কোন ধরণের কেমিক্যাল সহজে চিহ্নিত করতে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার করতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) শুল্ক বিভাগ। ‘রামানা স্পেকটোমিটার’ নামে দেড় কেজি ওজনের এ ডিভাইসের রশ্মি ব্যবহার করে কোন পণ্যে কেমিক্যালের উপাদান বের করা যাবে। শুধু তাই নয়, ওই পণ্যের মৌলিক নামসহ বিস্তারিত তথ্যও জানা যাবে। এনবিআরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে প্রায় ১২ হাজার কেমিক্যালের নমুনা এক মিনিটেরও কম সময়ে পরীক্ষা করে রিপোর্ট দেওয়া সম্ভব হবে। এর ফলে মিথ্যা ঘোষণা ক্ষতিকর ও নিষিদ্ধ কেমিক্যাল আমদানির প্রবণতা হ্রাস পাবে। একই সঙ্গে শুল্ক ও ভ্যাট ফাঁকিও রোধ হবে।
 
সূত্র জানায়, ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাইজেশন (ডব্লিওসিও) এক্ষেত্রে বাংলাদেশকে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে তিনটি রামান স্পেকটোমিটার এনবিআরকে সরবরাহ করেছে। শুরুতে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ, ঢাকা কাস্টম হাউজ ও বেনাপোলে এই ডিভাইসটি ব্যবহার হবে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য কাস্টমস বিভাগও এটি ব্যবহার করবে।
 
মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানির মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বছরে এ প্রক্রিয়ায় আমদানিকারকরা হাজার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেন বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ইস্যুটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দেখা দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কিংবা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর নানা ধরণের  কেমিক্যাল মিথ্যা ঘোষণায় দেশে আমদানির আশঙ্কাও রয়েছে। কিন্তু প্রযুক্তির অভাবে এতদিন সন্দেহজনক অনেক চালান তাত্ক্ষণিকভাবে পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি। অনেক সময় কোন সন্দেহজনক পণ্য, বা কেমিক্যালের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানোর পর প্রতিবেদন পেতে এক মাসের বেশি সময় লেগে যায়। আবার বিভিন্ন ল্যাবে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিবেদন আসে। এসব কারণে অনেক ক্ষেত্রেই মিথ্যা ঘোষণায় আনা পণ্য ধরা কঠিন হয়ে যায়।
 
এনবিআরের আওতাধীন শুল্ক মূল্যায়ন ও নিরীক্ষা বিভাগের কমিশনার ড. মইনুল খান ইত্তেফাককে বলেন, এর আগে মিথ্যা ঘোষণায় আনা ১০৫ ড্রামের বিশাল কোকেনের চালান ধরার পর তার নমুনা পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে এক মাস সময় লেগে গেছে। কিন্তু নতুন এ প্রযুক্তির ব্যবহার করলে মাত্র ত্রিশ সেকেন্ডে ১২ হাজার কেমিক্যালের সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। তিনি বলেন, এ ডিভাইসে এক ধরণের রশ্মি রয়েছে। ওই রশ্মি’র মাধ্যমে কোন পণ্য বা কেমিক্যালে কী উপাদান কত শতাংশ হারে রয়েছে কিংবা এর মৌলিক (জেনেরিক) উপাদান সম্পর্কেও জানা যাবে।
 
জানা গেছে, এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার উপস্থিতিতে ডব্লিওসিও’র পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে তিনটি ডিভাইস এনবিআরের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ রকম এক একটি ডিভাইসের দাম বাংলাদেশ মুদ্রায় প্রায় ৫০ লাখ টাকা। ড. মইনুল খান বলেন, এই প্রযুক্তির সঠিক বাস্তবায়ন করা গেলে, কোকেনের মত ক্ষতিকর দ্রব্যাদি সম্পর্কে দ্রুত ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে। এই সঙ্গে কোন বিস্ফোরক বা অন্য কোন ক্ষতিকর রাসায়নিক (মিথ্যা ঘোষণায় আনা) সম্পর্কেও নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে অধিকাংশ ক্ষেত্রে রিপোর্ট পেতে সময়ক্ষেপণ ও এর সঠিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে। এক্ষেত্রে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে সুফল পাওয়া যেতে পারে।
 
ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ
 
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:২৯
যোহর১১:৫৩
আসর৪:১৭
মাগরিব৬:০৩
এশা৭:১৬
সূর্যোদয় - ৫:৪৫সূর্যাস্ত - ০৫:৫৮