অর্থনীতি | The Daily Ittefaq

চট্টগ্রাম শেয়ার বাজারে নতুন তালিকাভুক্তি কমেছে

চট্টগ্রাম শেয়ার বাজারে নতুন তালিকাভুক্তি কমেছে
সৈয়দ আবদুল ওয়াজেদ, চট্টগ্রাম অফিস১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং ০২:৫৫ মিঃ
চট্টগ্রাম শেয়ার বাজারে নতুন তালিকাভুক্তি কমেছে
চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে (সিএসই) বিভিন্ন নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তির সংখ্যা কমেছে। সেই সাথে অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামে শিল্প বাড়ছে কিন্তু শিল্পোদ্যোক্তারা শেয়ারবাজার থেকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সংস্থান করতে এগিয়ে আসছেন না। অন্যদিকে তারা ব্যাংকের স্বল্পমেয়াদি অর্থায়ন সত্ত্বেও শিল্পের টাকা সংস্থানে ছুটছেন ব্যাংকের পেছনে।
 
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) একটি সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের ব্রোকার হাউসগুলোর মধ্যে খুব কমসংখ্যকই ট্র্যাক ট্রেড করছে। এমনিতে এখানে ব্রোকার হাউসের সংখ্যা ১৪৮টি। সিএসই’র পর্যবেক্ষণ অনুসারে কাজ করতে পারে ১৪৫টি ব্রোকার হাউস। কিন্তু দেখা যায়, দৈনন্দিন লেনদেনের ক্ষেত্রে চট্টগ্রামের মাত্র ২০টি ব্রোকার হাউসই ট্র্যাক ট্রেড করছে। শেয়ারবাজারকে গতিশীল করতে ব্রোকার হাউসগুলোর সক্রিয় হওয়া দরকার।
 
ঢাকা শেয়ারবাজারের পাশাপাশি ব্যাপক সম্ভাবনার স্বপ্ন নিয়ে চট্টগ্রাম শেয়ারবাজার চালু হওয়ার ২৩ বছর অতিক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও চট্টগ্রাম শেয়ারবাজার নিয়ে সন্তুষ্ট নন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, চট্টগ্রাম শেয়ারবাজার এখন ধীর গতিসম্পন্ন। অথচ চালু হওয়ার কয়েক বছরের মধ্যে চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারের লেনদেনের পরিমাণ ঢাকা শেয়ারবাজারকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এই দ্রুত গতি এখন কীভাবে ধীরগতিতে নেমে এসেছে তার কারণ বের করা দরকার বলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞদের তথ্যমতে বর্তমানে যেখানে ঢাকা শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ট্রেডিং ৯৭ শতাংশ সেখানে চট্টগ্রামের কোম্পানিগুলোর ট্রেডিং মাত্র ৩ শতাংশ। এই পরিস্থিতিতে দুই শেয়ারবাজারকে একীভূত করা যায় কিনা এরকম সম্ভাবনার কথাও বলেন কিছু কিছু শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞ।
 
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম ইত্তেফাককে বলেন, চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে নতুন নতুন কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত হতে হবে। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম          শেয়ারবাজারকে অবশ্যই ঢাকার শেয়ারবাজারের সাথে সমন্বয়ের জন্য যোগাযোগ রাখতে হবে। তিনি বলেন, দেখা গেছে শেয়ারবাজারের কিছু কিছু কোম্পানি বৈধতা ছাড়াই অবস্থান করছে। কিন্তু ভালো ও বৈধ কোম্পানিগুলো এখানে আসুক এটাই সবার কাম্য।
 
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে বিভিন্ন ক্যাটাগরির তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা বর্তমানে ৩০৮টি। ২০১৬ ও ২০১৭ সালে এই শেয়ারবাজারে কোম্পানির তালিকাভুক্তির সংখ্যা সর্বনিম্ন পর্যায়ে এসে ঠেকেছে। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে ২০১০ সালে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ছিল ২২৫টি। তার পরের বছর ২০১১ সালে তালিকাভুক্ত হয় আরও ১৬টি, ২০১২ সালে ১৪টি, ২০১৩ সালে ১৪টি, ২০১৪ সালে ১৮টি, ২০১৫ সালে ১২টি, ২০১৬ সালে মাত্র ১টি এবং ২০১৭ সালে মাত্র ৮টি।
 
সিএসই’র একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারের নিজস্ব ওয়েবসাইটসহ একটি অত্যাধুনিক আইটি প্ল্যাটফরম রয়েছে, যা চালু হওয়ার পর এক মুহূর্তের জন্যও বন্ধ হয়নি। এই আইটি সুবিধার সামগ্রিক সিস্টেমের মধ্যে ৯০ শতাংশ এখনো অব্যবহূত। তার মতে চট্টগ্রামে ব্যাপক সুবিধা কাজে লাগানোর সুযোগ আছে। তবে সহায়ক শক্তি হিসেবে রেগুলেটরি কাঠামোর দুর্বলতা দূর করে তার নীতিগত সমর্থন জোরদার করা জরুরি বলে কর্মকর্তাটি মনে করেন।
 
সিএসই সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারকে গতিশীল করতে সিএসই ৬টি ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এগুলোর মধ্যে আছে- বন্ড মার্কেট চালু, ডেরিভেটিভ মার্কেট চালু, কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোক্তাদের জন্য বিদ্যমান শেয়ারবাজারে একটি পৃথক প্ল্যাটফরম অথবা একটি পৃথক জুনিয়র এক্সচেঞ্জ চালু করা, এক্সচেঞ্জ ট্রেড ফান্ড চালু করা এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য গ্রিন বন্ড চালু করা।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৩ অক্টোবর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৪৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৪৯
মাগরিব৫:২৯
এশা৬:৪২
সূর্যোদয় - ৫:৫৯সূর্যাস্ত - ০৫:২৪