গফরগাঁওয়ে সিকিউরিটি গার্ডের লাশ উদ্ধার

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ১৭:৩২ | অনলাইন সংস্করণ

  গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা

গফরগাঁওয়ে সিকিউরিটি গার্ডের লাশ উদ্ধার। ছবিঃ ইত্তেফাক।

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পাগলা থানা পুলিশ। নিহত ব্যক্তি একজন সিকিউরিটি গার্ড বলে জানা গেছে। তার নাম সৈয়দ হোসেন (৫০)। শনিবার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ওই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়।

জানা গেছে শুক্রবার রাতে সৈয়দ হোসেন নিখোঁজ হন। নিখোঁজ হওয়ার ৪/৫ ঘন্টা পর নির্জন বিলপাড়ে স্থানীয়রা তার অর্ধমৃত দেহ পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়।

পরিবারের লোকজনের দাবি, দাম্পত্য কলহের জের ও পূর্বের মামলার ঘটনায় ওই ব্যক্তিকে পরিকল্পিতভাবে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর পক্ষের লোকজন হত্যার উদ্দ্যেশ্যে মুখে বিষ ঢেলে দিয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার পাগলা থানাধীন টাঙ্গাব ইউনিয়নের পাঁচাহার গ্রামের বাসিন্দা সৈয়দ হোসেন। তিনি পার্শ্ববর্তী শ্রীপুরের মাওনার মাস্টারবাড়ীতে একটি বেসরকারি কারখানার সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি করতেন। চার ছেলে-মেয়ে রেখে প্রথম স্ত্রী এক বছর আগে মারা যায়।

নিহতের মেয়ের জামায় মোঃ শাহীন বলেন, তার শ্বশুর ৬-৭ মাস আগে পার্শ্ববর্তী বিরই গ্রামে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে স্ত্রীর বেপোয়ার আচরণে সংসারে অশান্তি নেমে আসে। কয়েক মাস না যেতেই দ্বিতীয় স্ত্রী তার স্বামীর জমানো সংসারের নগদ টাকাসহ অন্য জিনিসপত্র নিয়ে পিত্রালয়ে চলে যায়। এ ঘটনায় স্ত্রীর বিরুদ্ধে পাগলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন স্বামী সৈয়দ হোসেন। এরপর থেকে স্ত্রী ও তার স্বজনরা সৈয়দ হোসেনকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছিল।

নিহতের ছেলে সাইদুল বলেন, ‘শুক্রবার দিন সন্ধ্যা থেকে বাবাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে রাত অনুমান ৯টার দিকে স্থানীয় লোকজনের খবরে বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার দূরে একটি বিলপাড়ে তাকে বিষপান অবস্থায় অর্ধমৃত উদ্ধার করা হয়। এ সময় তার শরীরের জামা-কাপড় ছেঁড়া ছিল। পরে তাকে দ্রুত গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

আরও পড়ুনঃ মনোনয়ন বাণিজ্য করে নির্বাচনে জেতা যায় না: ড. হাছান মাহমুদ

খবর পেয়ে শনিবার দুপুরে পাগলা থানার এসআই মোঃ জেলকদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে লাশের সূরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেন। তবে তার শরীরের কোথাও আঘাতের চিহৃ পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য জেলা মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এব্যাপারে পাগলা থানায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে।

ইত্তেফাক/নূহু