সারাদেশ | The Daily Ittefaq

বঙ্গোপসাগরে মাঝিমাল্লা অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি

বঙ্গোপসাগরে মাঝিমাল্লা অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি
কক্সবাজার প্রতিনিধি০৭ মার্চ, ২০১৫ ইং ২২:০১ মিঃ
বঙ্গোপসাগরে মাঝিমাল্লা অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি

কক্সবাজারের কুলবর্তী বঙ্গোপসাগরে ১২টি ফিশিং ট্রলারে ডাকাতি হয়েছে। এছাড়া ৩টি ফিশিং ট্রলারসহ ২৩ জন মাঝিমাল্লা অপহরণের শিকার হয়েছেন। অপহৃত ফিশিং ট্রলারসহ মাঝিমাল্লাদের মুক্তির জন্য মোটা অংকের মুক্তিপণ দাবি করেছে জলদস্যুরা।
শুক্রবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরের সোনাদিয়া ও পাটুয়ারটেকের মাঝামাঝি অঞ্চলে এ ঘটনা ঘটে বলে জানায় কক্সবাজার জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতি।
কক্সবাজার বোট মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মাস্টার মোস্তাক আহমদ জানান, শুক্রবার বঙ্গোপসাগরের সোনাদিয়া ও পাটুয়ারটেকের মাঝামাঝি অঞ্চলে কক্সবাজারের অন্তত ১২টি ফিশিং ট্রলার ডাকাতি হয়েছে। ডাকাতেরা ট্রলারের মাছ ও মালামাল লুট করে ক্ষান্ত হয়নি। মুক্তিপণ আদায়ের জন্য ট্রলারসহ মাঝিমাল্লাদের ধরে নিয়ে গেছে। ডাকাতির শিকার ট্রলারগুলো হল শহরের নতুন বাহারছড়ার মোহাম্মদ কাইয়ূম সওদাগরের মালিকানাধীন এফবি রিফাত, পেশকারপাড়ার ফজল করিমের মালিকানাধীন এফবি হাসান, টেকপাড়ার আবু সুলতান নাগু কোম্পানীর মালিকানাধীন এফবি ছেনোয়ারা, টেকপাড়ার নুর মোহাম্মদ কোম্পানীর মালিকানাধীন এফবি ইসরাত জাহান কেয়া, বাহারছড়ার ছিদ্দিক কোম্পানীর এফবি নাজনীন, উত্তর নূনিয়াচড়ার হোছন বহদ্দারের এফবি মোবারেকা, উখিয়ার সোনারপাড়ার মো. এরশাদউল্লাহ সওদাগরের মালিকানাধীন এফবি দিলারা, চকরিয়ার ফনিন্দ্র জলদাসের মালিকানাধীন এফবি মালতি ও শহরের এন্ডারসন রোডের রফিকুল ইসলামের মালিকানাধীন একটি ফিশিং ট্রলার অন্যতম। এরমধ্যে নুর মোহাম্মদ কোম্পানির মালিকানাধীন এফবি ইসরাত জাহান কেয়া ১৭ জন মাঝিমাল্লাসহ, ফনিন্দ্র জলদাসের মালিকানাধীন এফবি মালতি জন মাঝিমাল্লাসহ ও মো. এরশাদউল্লাহ সওদাগরের মালিকানাধীন এফবি দিলারা ৪ জন মাঝিমাল্লাসহ অপহরণ করে নিয়ে গেছে জলদস্যুরা। বর্তমানে অপহৃত ফিশিং ট্রলারসহ মাঝিমাল্লাদের মুক্তির জন্য মোটা অংকের মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে। এছাড়া মহেশখালী, কুতুবদিয়া, উখিয়া ও টেকনাফ অঞ্চলের আরও অজ্ঞাত সংখ্যক বোট ডাকাতির শিকার হয়েছে বলে তিনি জানান।
জেলা বোট মালিক সমিতির সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা মুজিবুর রহমান সাম্প্রতিককালে বঙ্গোপসাগরে আবারও জলদস্যুদের ‘রামরাজত্ব’ কায়েম হয়েছে মন্তব্য করে বলেন, প্রায় প্রতিদিনই সাগরে ট্রলার ডাকাতি হলেও আমরা প্রশাসনের কোন সহযোগিতা পাচ্ছি না।
তিনি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুতা দমনে কোস্টগার্ডের ব্যর্থতা তুলে ধরে বলেন, কোস্টগার্ড সদস্যরা গত চার বছরে নানা অজুহাতে ৫ হাজারের বেশি মাঝিমাল্লাকে পিটিয়েছে। অথচ একজন ডাকাতও ধরতে পারেনি।  
ট্রলার মালিকরা জানান, কক্সবাজারের কুলবর্তী বঙ্গোপসাগর এখন সোনাদিয়া, বাঁশখালী ও কুতুবদিয়ার জলদস্যু বাহিনীর হাতে জিম্মি। এই কারণে সাগরে যেতে মাঝিমাল্লারা এখন ভয় পাচ্ছে। অনেকে আতংকে জেলে পেশা ছেড়ে দিয়ে ভিন্ন পেশা নিয়েছে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
ফজর৪:৩১
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৫
মাগরিব৫:৫৯
এশা৭:১২
সূর্যোদয় - ৫:৪৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৪