সারাদেশ | The Daily Ittefaq

দ্বিতীয় ময়নাতদন্তেও মৃত্যুর কারণ চিহ্নিত হয়নি

তনু হত্যা
দ্বিতীয় ময়নাতদন্তেও মৃত্যুর কারণ চিহ্নিত হয়নি
কুমিল্লা প্রতিনিধি১২ জুন, ২০১৬ ইং ২০:০৩ মিঃ
দ্বিতীয় ময়নাতদন্তেও মৃত্যুর কারণ চিহ্নিত হয়নি
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুর দ্বিতীয় ময়নাতদন্তেও মৃত্যুর কারণ চিহ্নিত করতে পারেনি আদালতের নির্দেশে গঠিত ৩ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড।
 
মৃত্যুর কারণ চিহ্নিত করতে ঘটনার পারিপার্শ্বিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে পুলিশকে আরো অধিকতর তদন্তের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তনুকে ধর্ষণ প্রসঙ্গে মৃত্যুর পূর্বে তার সঙ্গে সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্স হয়েছে বলে সাংবাদিকদের বলেন মেডিকেল বোর্ডের সদস্য ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ডা. ওমর ফারুক।
 
রবিবার দুপুরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বোর্ডের সদস্যরা এ সব তথ্য জানান। এর আগে বেলা ১১টার দিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগ হতে সিআইডি-কুমিল্লার কার্যালয়ে দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হস্তান্তর করা হয়। এদিকে ক্ষোভ প্রকাশ করে এ প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের মতো দ্বিতীয় প্রতিবেদনটিও প্রত্যাখ্যান করেছে তনুর বাবা-মা ও স্বজনরা।
 
জানা গেছে, তনুর লাশ গত ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের একটি জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা হয়। সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত শেষে পরদিন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে তার প্রথম ময়নাতদন্ত করেন ওই কলেজের প্রভাষক ডা. শারমিন সুলতানা। তিনি গত ৪ এপ্রিল প্রথম ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন তার দপ্তরে বিভাগীয় প্রধান ডা. কামদা প্রসাদ সাহার নিকট হস্তান্তর করেন। পরে কামদা প্রসাদ সাহা গণমাধ্যমে প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। এতে তনুর মৃত্যুর কারণ উল্লেখ করা হয়নি এবং ধর্ষণের আলামতও পাওয়া যায়নি। এদিকে আদালতের নির্দেশে গত ৩০ মার্চ দ্বিতীয় দফায় ময়নাতদন্তের জন্য তনুর লাশ কবর থেকে উত্তোলন ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
 
গত ১৪ মে কুমিল্লার আদালতে এসে পৌঁছায় নিহত তনুর ৭টি বিষয়ের ডিএনএ প্রতিবেদন। গত ১৬ মে তনুর ভেজাইনাল সোয়াবে ৩ পুরুষের শুক্রানু পাওয়া যায়। তনুর ডিএনএ পরীক্ষায় আলামত পাওয়ায় প্রতিবেদনটি দেয়ার জন্য সিআইডিতে চিঠি প্রেরণ করেন মেডিকেল বোর্ডের প্রধান ডা. কামদা প্রসাদ সাহা। একাধিকবার চিঠি চালাচালির পর আদালতের নির্দেশে গত ৭ জুন ফরেনসিক বিভাগের চাহিদা মোতাবেক তনুর ভেজাইনাল সোয়াব, দাঁত, চুল, অন্তর্বাস, কাপড়সহ ৭টি বিষয়ের ডিএনএ ফরেনসিক বিভাগে হস্তান্তর করে তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি। এরই প্রেক্ষিতে দীর্ঘ ৭৪ দিন পর রবিবার দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সিআইডির নিকট হস্তান্তর করে মেডিকেল বোর্ড।
 
বেলা ১১টার দিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের অফিস সহায়ক মো. ফারুক ও ডোম মাহে আলম এ প্রতিবেদনটি সিআইডি-কুমিল্লা কার্যালয়ে হস্তান্তর করে। প্রতিবেদনটি গ্রহণ করেন সিআইডি-কুমিল্লার এএসআই মোশাররফ হোসেন।
 
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দ্বিতীয়বার লাশ উত্তোলন করে মেডিকেল বোর্ড গঠনের উদ্দেশ্য মৃত্যুর কারণ চিহ্নিত করা। এক্ষেত্রে অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ চিহ্নিত করার পরামর্শ শুধু আদালত-ই দিতে পারে। এ ছাড়া তনুকে মৃত্যুর পূর্বে ধর্ষণ করার বিষয়টি সিআইডির ল্যাবে ডিএনএ পরীক্ষায় আগেই পাওয়া গেছে। এক্ষেত্রে দ্বিতীয় ময়নাতদন্তকারী মেডিকেল বোর্ড তনুর মৃত্যুর কারণ ও ধর্ষণের বিষয়ে নতুন করে কোন তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরতে পারেনি।
 
তবে এ বিষয়ে তদন্ত সহায়ক দলের এক সদস্য জানান, তদন্ত একটি চলমান প্রক্রিয়া। ঘটনার পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে মৃত্যুর কারণ নির্ণয় করা হবে। আমরা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও ঘাতক শনাক্তে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
 
বিকালে তনুর মা আনোয়ারা বেগম সাংবাদিকদের জানান, তনুর যদি যৌনক্রিয়ার অভ্যাস থেকেই থাকে তাহলে তার চুল কেন কাটা হল, নাক দিয়ে রক্ত আসল কেন এবং তাকে কেন হত্যা করা হল। মেডিকেল বোর্ডের দেয়া দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনটিও প্রত্যাখ্যান করে তিনি আরও বলেন, ঘাতকদের বাঁচানোর জন্য ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক এ ধরণের প্রতিবেদন দিয়েছেন, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমরা তনু হত্যার সুষ্ঠু বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় আছি।
 
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি-কুমিল্লার পরিদর্শক গাজী মোহাম্মদ ইব্রাহিম জানান, তদন্ত একটি চলমান প্রক্রিয়া, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে যা-ই আসুক ঘটনার পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে মৃত্যুর কারণ নির্ণয় করা হবে।
 
 
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৪
মাগরিব৫:৫৮
এশা৭:১১
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫৩