সারাদেশ | The Daily Ittefaq

কৃষক আয়ুব আলী ঋণ না নিয়েও ঋণখেলাপি

কৃষক আয়ুব আলী ঋণ না নিয়েও ঋণখেলাপি
আলমডাঙ্গা সংবাদদাতা২০ মার্চ, ২০১৭ ইং ২৩:৩১ মিঃ
কৃষক আয়ুব আলী ঋণ না নিয়েও ঋণখেলাপি

আলমডাঙ্গা কৃষিব্যাংকের প্রতারকচক্রের যোগসাজসে ঋণ না নিয়েও ঋণখেলাপি হতে চলেছেন আলমডাঙ্গার চরশ্রীরামপুর গ্রামের হতভাগ্য কৃষক আয়ুব আলী। শস্যঋণ গ্রহণ বাবদ সুদে-আসলে প্রায় ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা পাওনা দেখিয়ে কৃষিব্যাংক আলমডাঙ্গা শাখার ব্যবস্থাপক গত ৯ মার্চ কৃষক আয়ুব আলীকে তার বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট মামলা দায়েরের চরমপত্র প্রদান করেছেন।

আয়ুব আলীর পারিবারিকসূত্রে জানা গেছে, আলমডাঙ্গা উপজেলার কালিদাসপুর ইউনিয়নের চরশ্রীরামপুরের মৃত নায়েব আলীর ছেলে কৃষক আয়ুব আলী ২০১১ সালে শস্যঋণ গ্রহণের জন্য কৃষিব্যাংক আলমডাঙ্গা শাখার পরিদর্শক আব্দুল হান্নানের নিকট যান। আব্দুল হান্নান আলমডাঙ্গার বন্ডবিল গ্রামের লাল্টু নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তাকে পরিচয় করিয়ে দেন।

ব্যাংক পরিদর্শক আব্দুল হান্নানের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে কৃষক আয়ুব আলী ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা লোন গ্রহণের যাবতীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করেন। ঋণ উত্তোলনের পূর্বে দালাল লাল্টু কৃষক আয়ুব আলীকে বলেন- ১ লাখ ৭০ হাজার ঋণ নিতে হলে ৪০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হবে পরিদর্শক, ব্যাংকের ব্যবস্থাপকসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের। ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা তুলে ৪০ হাজার টাকা কেটে রেখে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দেওয়া হবে।

এমন প্রস্তাবে রাজি হননি আয়ুব আলী। তিনি এই ব্যাংক থেকে ঋণ নেবেন না জানিয়ে ঋণের জন্য প্রস্তুত করা ফাইল ফেরত চান। পরে ফেরত দেওয়া হবে জানিয়ে দালাল লাল্টু ও ব্যাংক পরিদর্শক আব্দুল হান্নান তাকে ফাইল ফেরত দেয়নি।

ব্যাংক সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, কৃষিব্যাংক আলমডাঙ্গা শাখার তৎকালীন ব্যবস্থাপক বিমল কুমারের সঙ্গে পরামর্শ করে পরিদর্শক আব্দুল হান্নান ২০১১ সালে আয়ুব আলীর অগোচরে তার নামে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা শস্যঋণ উত্তোলন করে ভাগাভাগি করেন। পরবর্তিকালে ২০১৩ সালে সেই ঋণ পরিশোধ করে আবারও নতুন করে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ঋণ নতুন করে উত্তোলন করে ভাগাভাগি করেন।

এদিকে, দীর্ঘ ৫/৬ বছরেও এত বড় প্রতারণার কিছুই জানতে পারেননি হতভাগ্য কৃষক আয়ুব আলী। সম্প্রতি তিনি কৃষিব্যাংক আলমডাঙ্গা শাখার ব্যবস্থাপক স্বাক্ষরিত ঋণ পরিশোধের শেষ বারের মত একটি চরমপত্র পান। হস্তগত পত্রের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন গত ২০১৩ সালের ২১ মার্চ তিনি কৃষিব্যাংক থেকে যে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা উত্তোলন করেছেন। সেই ঋণ এখন সুদাসলে প্রায় ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা হয়েছে।

ঋণ পরিশোধের নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হলেও সে ঋণ পরিশোধ করা হয়নি। এমনকি বারবার তাগাদা সত্ত্বেও না। এমতাবস্থায় ব্যাংক ব্যবস্থাপনা তার বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এই চরমপত্র পাওয়ার পর কৃষক আয়ুব আলীর মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়েছে। তিনি আত্মীয়-পরিজন সঙ্গে নিয়ে গত রবিবার ছুটে যান ব্যাংক ব্যবস্থাপক শামীম উদ্দীনের নিকট। ব্যাংকব্যবস্থাপক শামীম উদ্দীন আগামী ২১ মার্চ এ বিষয়ে আলোচনার জন্য আয়ুব আলীকে ব্যাংকে উপস্থিত থাকতে বলেছেন।

এরমধ্যে বিষয়টি ২১ মার্চের আগেই গোপনে মিটিয়ে ফেলতে অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এজন্য সিবিএ নেতাদের ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

কৃষিব্যাংক আলমডাঙ্গা শাখার পরিদর্শক আব্দুল হান্নানসহ অনেকে ফেঁসে যাবেন এমন ভয়েই বিষয়টি সিবিএ নেতাদের সহযোগিতায় মীমাংসার উদ্যোগ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে।

কৃষিব্যাংক আলমডাঙ্গা শাখার পরিদর্শক আব্দুল হান্নানের বিরুদ্ধে ঋণ কেলেঙ্কারির অভিযোগ নতুন নয়। এমন অসংখ্য অভিযোগ প্রতি বছর উত্থাপিত হয় তার বিরুদ্ধে।

সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও এলাকাসূত্রে জানা যায়, আলমডাঙ্গার বাদেমাজু, ডাউকী ও বিণোদপুর গ্রামের অনেক কৃষকের নামে তিনি কয়েকজন দালালের সহযোগিতায় ঋণ উত্তোলন করে আত্মস্মাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সকল প্রতারিত কৃষকদের কয়েকজন গত বছরের শেষের দিকে তার নামে মামলার প্রস্তুতি নিলে তিনিতাদের সঙ্গে এক প্রকার মীমাংসা করে নিয়েছেন।

বিষয়টি কৃষিব্যাংক আলমডাঙ্গা শাখার সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী কমবেশী জানেন বলেও সূত্রের দাবি।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২১ নভেম্বর, ২০১৭ ইং
ফজর৪:৫৮
যোহর১১:৪৫
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:১৭সূর্যাস্ত - ০৫:১০