সারাদেশ | The Daily Ittefaq

অর্থের অভাবে চিকিৎসা হচ্ছে না অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত আলিমুনের

অর্থের অভাবে চিকিৎসা হচ্ছে না অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত আলিমুনের
বাগেরহাট প্রতিনিধি১৭ জুলাই, ২০১৭ ইং ১৭:১৭ মিঃ
অর্থের অভাবে চিকিৎসা হচ্ছে না অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত আলিমুনের
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামে আলিমুন শেখ নামে ৯ বছর বয়সী এক শিশু অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয়েছে। অর্থের অভাবে তার চিকিৎসা হচ্ছে না। দিনদিন তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। 
 
মো. জাহিদুল ইসলাম নামে স্থানীয় এক চিকিৎসক আলিমুনের ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দিলে তা ভাইরাল হয়। ওই সোসাল মিডিয়ার কল্যাণে তা জানতে পেরে গনমাধ্যম কর্মীরা তার পাশে দাঁড়িয়েছে।
 
রোববার দুপুরে বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, ছোট্ট শিশু আলিমুন ঘরের বারান্দায় বসে খাবার খাচ্ছে।  মাথাটা ফোলা। হঠাৎ কেউ দেখলে আতকে উঠবে। তার মাথার বিভিন্ন স্থানে একাধিক টিউমার সাদৃশ্য। মাথা থেকে পিঠে ও হাঁটুতেও উঠতে শুরু করেছে। তবে ছোট্ট এই শিশুর শরীরে কি রোগের কারণে মাথা ও শরীরে গোটাগোটা দেখা দিয়েছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
 
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের সোনাকান্দর গ্রাম। এই গ্রামে এক শতক জমির ওপর কুঁড়ে ঘরে আলিমুনের মা সখিনা বেগম, দাদি কুলসুম বেগম, বড় ভাই শুকুর আলী শেখ বসবাস করে। বাবা আজাহার শেখ তিন বছর আগে মারা গেছেন। মা সখিনা বেগম দিনমজুর। রাস্তা ও পরের বাড়িতে কাজ যে টাকা রোজগার করেন তা দিয়েই কোন রকমে চলে সংসার। অভাবের সংসার চালাতেই মা সখিনাকে হিমশিম খেতে হয়। এই অভাবের মধ্যে কিভাবে তিনি অসুস্থ ছেলের চিকিৎসা করাবেন।
আলিমুনের বড় চাচি শরীফা বেগম বলেন, চার-পাঁচ বছর আগে আলিমুনের মাথায় টিউমারের মত দেখা দেয়। তখন ওর বাবা আজাহার বেঁচে ছিলেন। সে সময়ে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেয়া হয়েছিল। ধার-দেনা করে সে সময়ে আলিমুলকে কিছুদিন ওষুধ খাওয়ানো হয়। খুলনা মেডিকেলের চিকিৎসকরা তাকে ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু আর্থিক অনটনের কারনে তা আর করা হয়নি।
 
স্থানীয় চিকিৎসক মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমি চিকিৎসকের পাশাপাশি ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচালিত গণশিক্ষা কার্যক্রমে শিশুদের প্রাক শিক্ষা দিয়ে থাকি। এখানে আলিমুন নামে ওই শিশুটি পড়তে আসে। ওর মাথায় ছোট ছোট টিউমারের মত দেখতে পাই। ওর যে রোগ তা আমার পক্ষে চিকিৎসা করা সম্ভব না। আমি শিশুটির সুচিৎসার জন্য কিছু করতে চাই। তাই আমি তার ছবি তুলে ফেসবুকে দিয়ে দিই। সরকার তার সুচিৎসার জন্য এগিয়ে আসবে বলে আশা করি।
 
বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ও সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অরুণ চন্দ্র মণ্ডল বলেন,  সোসাল মিডিয়ার মাধ্যমে শিশুটির অসুস্থতার কথা জানতে পেরেছি। তার শরীরে কি রোগ হয়েছে তা পরীক্ষা নিরীক্ষা না করে বলা যাবে না। আমরা শিশুটিকে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে আনার উদ্যোগ নিয়েছি। তাকে এনে মেডিকেল বোর্ড গঠন করে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করব।
 
ইত্তেফাক/ইউবি
 
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৮ জুলাই, ২০১৭ ইং
ফজর৪:০২
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৩
মাগরিব৬:৪৭
এশা৮:০৭
সূর্যোদয় - ৫:২৬সূর্যাস্ত - ০৬:৪২