সারাদেশ | The Daily Ittefaq

সুরমা-কুশিয়ারাসহ সিলেটের অনেক নদী জলমহাল ভরাট

সুরমা-কুশিয়ারাসহ সিলেটের অনেক নদী জলমহাল ভরাট
কৃষি, পর্যটন ও পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা
হুমায়ূন রশিদ চৌধূূরী, সিলেট অফিস১৮ জুলাই, ২০১৭ ইং ০০:১২ মিঃ
সুরমা-কুশিয়ারাসহ সিলেটের অনেক নদী জলমহাল ভরাট

এবার স্মরণকালের প্রলম্বিত বন্যায় বৃহত্তর সিলেটের জনপদের মানুষের দুর্ভোগের শেষ হচ্ছে না। আগে প্রবল বৃষ্টি হলে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা দেখা দিত। বৃষ্টি থেমে গেলে পানি দ্রুত চলে যেত। এখন বৃষ্টি থামলেও পানি ভাটির দিকে নামতে পারে না। সিলেটে এবার বন্যার পানি আছে এক মাসের বেশি সময় ধরে। ফলে অবকাঠামো বিনষ্ট হচ্ছে ব্যাপকভাবে। কৃষি পড়েছে মারাত্মক হুমকির মুখে। এরই মধ্যে বোরো ধান নষ্ট হয়ে গেছে। আউশও বিপন্ন। আর আমনের ভবিষ্যত্ নিয়ে শঙ্কিত কৃষককূল।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তরা বলেছেন নদ-নদীর উত্স মুখসহ বিভিন্ন স্থানে নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় এবার বন্যা প্রলম্বিত হচ্ছে। সিলেটের বিকাশমান পর্যটন শিল্পও মুখ থুবড়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত ১২ জুলাই বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দেলান ও সুরমা রিভার ওয়াটারকিপারের আয়োজনে সিলেট সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান মোঃ আতাহারুল ইসলাম বলেন, সিলেটে অঞ্চলের ১১৪টি নদীই এই অঞ্চলের ভবিষ্যত্। তিনি বলেন, এই ভবিষ্যত্ হুমকীর মুখে পড়েছে নদী ভরাটের কারণে। সিলেটের অনেক নদী আন্তঃসীমান্ত নদী। এগুলো খননের জন্য যৌথ নদী কমিশনে উত্থাপন প্রয়োজন।

একদিকে প্রমত্তা সুরমা-কুশিয়ারা নদী হারাচ্ছে তার বৈশিষ্ট্য। পানিতে বর্জ্য মিশ্রণের ফলে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ভাটির জনপদের নদীগুলো। তাই তীরবর্তী জনপদের জীবন-জীবিকা বদলে যাচ্ছে। বিলীন হচ্ছে জীব-বৈচিত্র্য। কমছে মাছের উত্পাদন। গতিপথ পরিবর্তন, নাব্য হ্রাসে নদী ভাঙ্গন ব্যাপক হচ্ছে। সিলেটের প্রধান নদী সুরমা, কুশিয়ারা, খোয়াই, মনু, ধলাই, পিয়াইন, সারি, সুতাং, রত্না, সোনাই, করাঙ্গী, ঝিংড়ী, ভেড়ামোহনা, রক্তি, কালনী, বৌলাইসহ অসংখ্য নদীর নাব্য হারিয়ে গেছে। শতাধিক জলমহাল ভরাট হয়ে গেছে। ভরাটের কারণে বোরো চাষীদের হাহাকার শোনা যায় বোরো মৌসুমে। কয়েক দশকের সুরমা-কুশিয়ারা এখন যৌবন হারা।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এ ধারা অব্যাহত থাকলে পরিবেশ বিপর্যয়ে সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকায় ৪০ লক্ষাধিক মানুষ চরম মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে। নতুন সঙ্কট সৃষ্টি হবে পর্যটন নির্ভর ব্যবসা বাণিজ্যেও। পিয়াইন, ধলাই, সারি নদীগুলো অপরিকল্পিতভাবে বালি-পাথর উত্তোলনের ফলে হতশ্রী চেহারা ধারণ করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, যেখানে প্রতি লিটার পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন থাকার প্রয়োজন ৫ মিলিগ্রাম, সেখানে সুরমা নদীর পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন রয়েছে মাত্র ২ দশমিক ৮ মিলিগ্রাম। এছাড়া আয়রন, কয়লা ও বালু কণা মাত্রাতিরিক্ত রয়েছে।

এদিকে, দেরীতে হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড তাহিরপুরের ‘আপার বৌলই’ নদীর ১৬ কিলোমিটার নদী খননের জন্য ৩৯ কোটি ৬৯ লাখ টাকার পরিকল্পনা হাতে নেয়ার তথ্য জানিয়ে সিলেটস্থ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ড. মিজানুর রহমান বলেন ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে রক্তি নদীতে ৬ কিলোমিটার খননের কাজ শুরু হয়েছে। তিনি জানান, পুরাতন সুরমার ২৪ কিলোমিটার খননের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, সিলেটের বাসিয়া নদী পুন:খনন প্রকল্প জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে এর অংশ বিশেষ খনন হয়েছে। আরো ২ কোটি টাকার কাজ চলমান। নদীটি খনন হলে ৩০ কোটি টাকার অতিরিক্ত ফসল ঘরে উঠবে। সিলেট সদরে সুরমার পানি নিষ্কাশন হবে দ্রুত এবং এই পথে নৌ চলাচল সুগম হবে।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২১ নভেম্বর, ২০১৭ ইং
ফজর৪:৫৮
যোহর১১:৪৫
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:১৭সূর্যাস্ত - ০৫:১০