সারাদেশ | The Daily Ittefaq

বগুড়ায় মা-মেয়েকে নির্যাতন করে মাথা ন্যাড়া, গ্রেফতার ৪

বগুড়ায় মা-মেয়েকে নির্যাতন করে মাথা ন্যাড়া, গ্রেফতার ৪
বগুড়া অফিস২৯ জুলাই, ২০১৭ ইং ১৬:৫৪ মিঃ
বগুড়ায় মা-মেয়েকে নির্যাতন করে মাথা ন্যাড়া, গ্রেফতার ৪
 
শালিসের নামে সদ্য এসএসসি পাশ এক ছাত্রী ও তার মাকে পিটিয়ে নির্যাতন এবং মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে বগুড়া পৌরসভার সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর মার্জিয়া হাসান রুমকির বিরুদ্ধে।
 
শুক্রবার রাতে বগুড়া সদর থানায় মামলাও করেছেন নির্যাতনের শিকার ওই শিক্ষার্থীর মা। শুক্রবার বিকেলে বগুড়া পৌরসভার ৪, ৫, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী আসনের কাউন্সিলর মার্জিয়া হাসান রুমকির চকসুত্রাপুর এলাকার বাসায় ওই নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।
 
ওই সময় কাউন্সিলের মা, ছোট বোন সহ তার লোকজন এই নির্যাতনে অংশ নেয়। শনিবার ভোররাত পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে কাউন্সিলরের ছোট বোন জামাইসহ চার যুবককে গ্রেফতারও করেছে সদর থানা পুলিশ।
 
নির্যাতনের শিকার ওই নারী অভিযোগ করে জানান, তার মেয়ে বাণিজ্য বিভাগ থেকে এসএসসি পাশের পর ভালো কলেজে ভর্তির জন্য কাউন্সিলর মার্জিয়া হাসান রুমকির ভগ্নীপতি তুফান সরকারের সাথে যোগাযোগ করে। তুফান ওই ছাত্রীকে কলেজে ভর্তিতে সহযোগিতার আশ্বাস দেয়। এরই প্রেক্ষিতে তুফানের সাথে ওই ছাত্রীর মোবাইলে কথা শুরু হয়। সেই সম্পর্ক এক পর্যায় অন্যদিকে গড়ায়।
 
তিনি আরও জানান, দু'জনের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পেরে ১৮ জুলাই মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে যান ওই নারী। তুফানের স্ত্রী আশা ক্ষিপ্ত হয়ে বড় বোন রুমকিকে বিষয়টি জানায়। রুমকি ওই নির্যাতিত নারীর ভাড়া বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে শালিস দরবার করে তালা খুলে দেয়া হবে বলে জানান। সুবিচারের আশায় ২৮ জুলাই বাড়ি ফিরে ওই নারী তার মেয়েকে সাথে নিয়ে কাউন্সিলরের বাসায় যান। কি কারণে তালা ঝুলানো হয়েছে জানতে চান।
 
এসময় কাউন্সিলর রুমকি তার মা শহরের বাদুড়তলা এলাকার জামিলুর রহমান রুনুর স্ত্রী রুমি বেগম (৪৫) ও ছোট বোন চকসুত্রাপুরের তুফান সরকারের স্ত্রী আশা কাউন্সিলরের বাসাতেই ছিলেন। পরে মোবাইলেরর মাধ্যমে দিপু, আতিক, মুন্না, রূপম সহ কয়েকজনকে ডাক দেয় কাউন্সিলর রুমকি। কাউন্সিলর কোন শালিস দরবার না করেই ওই নারী ও তার মেয়েকে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করেন। এসময় ভুলের জন্য ক্ষমাও চান তারা। কিন্তু তাতে কোন সাড়া মেলেনা কাউন্সিলর ও তার পরিবারের। কাউন্সিলর রুমকি নিজে তার মা ও বোনকে সাথে নিয়ে মুন্না নামের যুবকের সহায়তায় মা মেয়ের চুল কেটে ফেলে। পরে তাদের মা-মেয়েকে পিটিয়ে মাথা ন্যাড়া করে দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন ওই নারী।
 
বগুড়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিম সুপার (এ-সার্কেল) সনাতন চক্রবর্তী জানান, এই ঘটনায় নারী কাউন্সিলর, তার মা, ছোটবোন ও ভগ্নীপতি সহ মোট ৯ জনের বিরুদ্ধে নির্যাতিত ওই নারী মামলা করেছেন। পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করেছে। তবে ঘটনার মূল আসামী কাউন্সিলর, তার মা রুমি ও ছোটবোন আশা পলাতক রয়েছেন। পুলিশ তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে।
 
ইত্তেফাক/জামান
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৩ নভেম্বর, ২০১৭ ইং
ফজর৪:৫৯
যোহর১১:৪৫
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:১৮সূর্যাস্ত - ০৫:১০