সারাদেশ | The Daily Ittefaq

অধ্যাপনায় অবসর নিয়ে পত্রিকার হকারি!

অধ্যাপনায় অবসর নিয়ে পত্রিকার হকারি!
অধ্যাপনায় অবসর নিয়ে পত্রিকার হকারি!
অধ্যাপনা থেকে অবসরে গিয়ে পত্রিকা বিলি করে জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছেন ইসহাক শরীফ
স্বপ্ন ইচ্ছা আর সাধনা যদি এক থাকে তাহলে যেন সব লক্ষ্যই অর্জন করা সম্ভব- এমনটাই বিশ্বাস করেন বরিশাল বাবুগঞ্জের অধ্যাপক ইসহাক শরীফ। আর এজন্যই কোন কাজকেই ছোট মনে হয়নি তার কাছে। তেমনি এক কাজ করে চলছেন বরিশালের বাবুগঞ্জে অধ্যাপক ইসহাক শরীফ। বাবুগঞ্জের পিছিয়ে থাকা সাধারণ মানুষগুলোর মাঝে জ্ঞানের আলো পৌঁছে দিতে প্রত্যহ সকালে দৈনিক পত্রিকা হাতে নিয়ে পাঠকের কাছে পৌঁছে দিতে পাড়ি দিচ্ছেন মাইলের পর মাইল। 
 
অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ইসহাক শরীফ বলেন, ভালো কাজ সেটা ছোট হোক আর বড় হোক, সে কাজে যদি আনন্দ খুঁজে পাওয়া যায়, তাতে বাধা কিসের। অধ্যাপক ইসহাক শরীফ ইত্তেফাককে বলেন, বাবুগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের পিছিয়ে থাকা মানুষের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়াতে আর পাঠাভ্যাস তৈরি করতেই তিনি এ পথ বেছে নিয়েছেন। জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতেই কখনো পায়ে হেঁটে, আবার কখনো যানবাহনে চড়ে তিনি প্রতিদিন সকালে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ৩৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ২ শত ৫০ থেকে ৩ শত পত্রিকা বিক্রি করেন, যার মধ্যে প্রায় ২০ কিলোমিটারই পায়ে হেঁটে পত্রিকা হাতে ছুটে বেড়ান। 
 
তিনি বলেন, বিক্রিই মূল উদ্দেশ্য নয়। অবসর প্রাপ্ত অধ্যাপক ও বিত্ত বৈভবের মালিক হওয়া সত্ত্বেও এ কাজ কারায় তাকে শুনতে হয়েছে নানা কটূক্তি। কিন্তু তারপরেও থেমে থাকেননি তিনি। বঞ্চিত অবহেলিত জনপদের পিছিয়ে থাকা মানুষগুলোকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করাই তার লক্ষ্য। তার মতে জ্ঞান শুধু বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, জ্ঞান ছড়িয়ে রয়েছে সারা পৃথিবী জুড়ে। আর তার তথ্য বিন্যস্ত থাকে প্রতিদিনের খবরের কাগজে।
 
অধ্যাপক ইসহাক শরীফ বলেন, আমি যে কাজটি বেছে নিয়েছি এটা আমার কাছে সর্বোৎকৃষ্ট কাজ। এর কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নাই, এখানে বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নাই, দুর্নীতির কোন সম্ভাবনা নাই। আমি প্রত্যন্ত জনপদের মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে তথ্য পৌঁছে দিচ্ছি। এতে তাদের জ্ঞান ভাণ্ডারকে বিকশিত করছি। 
 
বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের ইসহাক শরীফের বড় ভাই হাসান আলী শরীফ বাবা আবুল কালামের নামে ১৯৬৯ সালে রাকুদিয়ায় কলেজটি স্থাপন করেন। তার পাশেই রয়েছে মা জামেনা খাতুনের নামে মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ১৯৪৯ সালে জন্ম নেওয়া চার ভাইয়ের মধ্যে তৃতীয় ইসহাক শরীফ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে মাস্টার্স শেষে বাবুগঞ্জে বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত আবুল কালাম ডিগ্রি কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন। তারা চার ভাই ও দুই বোন- সবাই শিক্ষিত। নিজের সন্তানদের মধ্যে মেয়ে তাছলিম নাহার বরিশাল বিএম কলেজ থেকে ইংরেজিতে মাস্টার্স শেষ করেছেন। ছেলে তানজিল শরীফ চাকরি করেন একটি প্রাইভেট ফার্মে। স্ত্রী হাফিজা বেগম আবুল কালাম ডিগ্রি কলেজে লাইব্রেরিয়ান পদে চাকরি করেছেন দীর্ঘদিন। 
ইসহাক শরীফ বলেন, পরিশ্রমী জীবনটা আমার কাছে খুব ভালো লাগে। আমি দিনে বেশ কয়েকবার ঘর্মাক্ত হয়ে যাই। প্রতিদিন মাইলের পরম মাইল পায়ে হেঁটে পত্রিকা বিলি করি এতে আমি আনন্দ পাই। অনেকে এটাকে তুচ্ছ মনে করে। কিন্তু এটা আমার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, আল্লাহ্ আমাকে সুস্থ রাখলে আমৃত্যু আমি মানুষের মাঝে পত্রিকা বিলি করে জ্ঞানের আলো ছড়াতে চাই।
 
ইত্তেফাক/এমআই
 
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৩ নভেম্বর, ২০১৭ ইং
ফজর৪:৫৯
যোহর১১:৪৫
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:১৮সূর্যাস্ত - ০৫:১০