সারাদেশ | The Daily Ittefaq

রাতে বুক ধুকধুক করে, 'সকালে জাগা পামু তো!'

রাতে বুক ধুকধুক করে, 'সকালে জাগা পামু তো!'
নন্দীগ্রাম (বগুড়া) সংবাদদাতা১২ আগষ্ট, ২০১৭ ইং ২৩:১৪ মিঃ
রাতে বুক ধুকধুক করে, 'সকালে জাগা পামু তো!'

'আমরা জীবনের অনেক ঝুঁকি নিয়ে এখানে বসবাস করছি। সারাদিন কাজকর্ম শেষে রাতে যখন পরিবার নিয়ে ঘুমাতে যাই তখন বুকের ভিতর ধুকধুক করে, আর বারবার মনে হয় সকালে সুস্থ অবস্থায় জাগা পামু তো?' কথাগুলো বললেন, বগুড়া-নাটোর মহাসড়কের পার্শ্বের বাস করা নুরুল ইসলাম।

বগুড়া জেলার নন্দীগ্রাম উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে বগুড়া-নাটোর মহাসড়ক। মহাসড়কের দু’পাশে ভূমিহীনরা বসতবাড়ি স্থাপন করে বসবাস করে আসছে। কিন্তু তাদের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই।

মহাসড়কের দু’পাশে বন বিভাগের গাছ লাগানো রয়েছে। এর মাঝে আবার ভূমিহীন মানুষের বসতবাড়ি। যেখানে অতি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করতে হয় তাদের। মহাসড়কের পাশে বসতি গড়ে ওঠায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা অহরহ ঘটে থাকে। এই অবস্থা দীর্ঘদিনের। যা দেখার কেউ নেই।

মহাসড়ক দিয়ে বাস-ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। অনেক সময় বাস-ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পার্শ্বে উল্টে যায়। আবার কোন সময় নিয়ন্ত্রন হারিয়ে সড়কের পাশে বসতির ঘরে ঢুকে পড়ে।

সম্প্রতি বগুড়া হতে নাটোরগামী একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ওমরপুর বাসষ্ট্যান্ড সংলগ্ন বসতির রাজু খন্দকারের ঘরের ওপর উল্টে পড়ে। এতে তার ঘুমন্ত কিশোরী কন্যা ইতি খাতুন নিহত হয়েছে। এমনিভাবে সড়ক দুর্ঘটনায় মাঝেমধ্যেই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে চলছে।

ভুমিহীন মানুষদের সরকারি খাস জায়গা অথবা সরকারি খাস পুকুরপাড়ে বসতবাড়ি স্থাপনের ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এমন প্রাণহানির ঘটনা ঘটতো না। ওমরপুর বাসষ্ট্যান্ড সংলগ্ন মহাসড়কের পাশে ভূমিহীন মানুষদের বেশি বসতি রয়েছে। যার কারণে সেখানেই বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনারোধে ভুমিহীন মানুষদের অন্যত্র স্থানান্তর করা প্রয়োজন।

সরেজমিনে নন্দীগ্রাম পৌর এলাকার ওমরপুর সড়ক পাড়ায় গিয়ে বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্বাধীনতার পর তার সড়কের পাশে বেড়ার ঘর করে বসবাস শুরু করে। তাদের এ বেড়ার ঘর তৈরি করতে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। এই বসতিতে প্রায় একশ পরিবার রয়েছে। বর্তমানে তারা নন্দীগ্রাম পৌরসভার ভোটার।

সেখানে বসবাসকারী রাজু আহম্মেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, রাশেদ খন্দকার ও রফিকুল ইসলাম জানান, নিজেদের কোন জায়গা না থাকায় আমার এখানে ঘর তৈরি করে বাস করছি। প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এখানে বাস করতে হয়। সরকার আমাদের জন্য গুচ্ছ গ্রামের ব্যবস্থা গ্রহণ করলে জীবনের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পেতাম।

এ বিষয়ে নন্দীগ্রাম পৌরসভার মেয়র কামরুল হাসান সিদ্দীকি জুয়েল জানান, সরকারিভাবে তাদের বাসস্থানের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে তাদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পৌরসভা থেকে তাদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এসব বাসিন্দাদের প্রতি সুদৃষ্টি দেয়া জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৫ নভেম্বর, ২০১৭ ইং
ফজর৫:১২
যোহর১১:৫৪
আসর৩:৩৮
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩৫
সূর্যোদয় - ৬:৩৩সূর্যাস্ত - ০৫:১২