সারাদেশ | The Daily Ittefaq

সারাদেশে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি

সারাদেশে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি
অনলাইন ডেস্ক১৩ আগষ্ট, ২০১৭ ইং ২০:৫১ মিঃ
সারাদেশে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি
ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সারাদেশে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। পদ্মা, যমুনা ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, আত্রাই, সুরমাসহ সব নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অনেক স্থানে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লাখো মানুষ। তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট, ফসলি জমি। অনেক জেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ইত্তেফাক অফিস ও জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর- 
সিলেট : সিলেট অঞ্চলের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। সুরমা-কুশিয়ারাসহ সবকটি পয়েন্টের পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বেড়েছে সীমান্ত নদী ধলাই, পিয়াইন, বড়গাঙ, সারীতেও। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন চার লক্ষাধিক মানুষ। বন্যা কবলিত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।
 
সুনামগঞ্জ : জেলার ৮৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে। এ জেলায় ৩৯২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। এদিকে সুনামগঞ্জ ও সিলেটের বহু আমন জমি তলিয়ে গেছে। 
বগুড়া : বগুড়ায় দ্বিতীয় দফা বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি ৫০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সেই সঙ্গে বাঙ্গালি ও করতোয়া নদীর পানিও বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। সারিয়াকান্দিতে বীজতলা, রোপা আমনসহ ৫১০ হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় শিবগঞ্জ উপজেলায় ১০০ হেক্টর জমির ফসল নিমজ্জিত হয়েছে। 
 
নওগাঁ : নওগাঁর রাণীনগর, আত্রাই, মান্দা, পত্নীতলা, বদলগাছী, ধামইরহাট ও রাণীনগর উপজেলায় তলিয়ে গেছে প্রায় ৩০ হাজার বিঘা ফসলি জমি। এতে প্রায় পাঁচশ' পরিবার পানিবন্দি হয়ে গেছে। জেলার ছয়টি নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে ধামইরহাট উপজেলায় ১৪০ সেন্টিমিটার ও মান্দায় ১০০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে সবচেয়ে বেশি বিপৎসীমার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। মান্দায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় তিন নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অন্তত ৩০টি পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
জামালপুর : জামালপুরে বন্যার পরিস্থিতি চরম অবনতি ঘটেছে। যমুনার পানি বাহাদুরাবাদঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যায় দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর, মাদারগঞ্জ ও সরিষাবাড়ী উপজেলার যমুনার তীরবর্তী এলাকার প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। 
 
সিরাজগঞ্জ  : যমুনা নদীতে গত ২৪  ঘণ্টায় পানি ৪৩ সেন্টিমিটার  বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৬৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কাজিপুর, বেলকুচি, চৌহালি, শাহজাদপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ২ শতাধিক গ্রাম পুনরায় বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। নদী তীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ইতিমধ্যেই নদী তীরবর্তী অনেক  নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে।
গাইবান্ধা : ব্রহ্মপুত্রসহ প্রধান প্রধান নদ-নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ছাড়া করতোয়া ও তিস্তা নদীর পানি এখন বিপৎসীমা ছুই ছুই অবস্থা। সুন্দরগঞ্জের তিস্তা, গাইবান্ধা সদরের ব্রহ্মপুত্র, ফুলছড়ি ও সাঘাটায় যমুনা এবং গোবিন্দগঞ্জে করতোয়া নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল ও বিস্তীর্ণ চর এলাকায় পানি ঢুকে পড়ে বন্যা দেখা দিয়েছে। এ সব এলাকার ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এ ছাড়া টানা বৃষ্টিতে কর্মহীন পানিবন্দি এসব মানুষ না খেয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।
 
 
ইত্তেফাক/ইউবি
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২২ নভেম্বর, ২০১৭ ইং
ফজর৪:৫৯
যোহর১১:৪৫
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:১৮সূর্যাস্ত - ০৫:১০