সারাদেশ | The Daily Ittefaq

তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় রেড এলার্ট, জলঢাকায় ত্রাণ বিতরণ

তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় রেড এলার্ট, জলঢাকায় ত্রাণ বিতরণ
জলঢাকা (নীলফামারী) সংবাদদাতা১৪ আগষ্ট, ২০১৭ ইং ০০:১৪ মিঃ
তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় রেড এলার্ট, জলঢাকায় ত্রাণ বিতরণ

দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় রেড এলার্ট জারি করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ। ভারত থেকে প্রচণ্ড গতিতে পানি আসায় তিস্তা ব্যারেজ হুমকির মুখে পড়েছে। ব্যারেজ রক্ষার্থে যে কোনো মুহূর্তে ফ্লাট বাইপাশ কেটে দেয়া হতে পারে।

ফলে ফ্লাট বাইপাশ এলাকার লোকজনদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান।

তিস্তা ব্যারেজের সব গেট খুলে দিলেও পানির গতি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। ফলে তিস্তা পাড়ে লোকজনের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ফ্লাট বাইপাশ কেটে দেয়া হলে তিস্তার পানি লালমনির হাট ও নীলফামারী জেলায় প্রবেশ করবে। এতে বন্যা পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে পড়বে।

অন্যদিকে নীলফামারীর জলঢাকায় গতকাল রবিবার উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে বন্যা কবলিত ২২শ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। ত্রাণ অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে বন্যা কবলিত, এর মধ্যে ৮টি ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ হওয়ায় এই ৮টি ইউনিয়নের প্রায় ১৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

এসব পানিবন্দি পরিবার থেকে ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মাধ্যমে বাছাই করে জরুরি ভিত্তিতে ২ হাজার ২শ পরিবারকে ত্রাণ ও দূর্যোগ মন্ত্রণালয় থেকে ১লাখ ৫০ হাজার টাকার শুকনো খাবার ও ২৪ মেঃ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়।

ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন, নীলফামারী ৩ আসনের এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জলঢাকা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সৈয়দ আলী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মাদ রাশেদুল হক প্রধান, গোলনা ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল আলম কবির, খুটামাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাইয়েদ শামীম, শৌলমারী ইউপি চেয়ারম্যান প্রাণজিৎ রায় পলাসসহ উপজেলা আওয়ামীলীগের নেত্রীবৃন্দ।

গত চারদিনের ভারি বর্ষণ ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীসহ অন্যান্য নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। উপজেলার গোলনা ইউনিয়নের বাদশা আজিজ মৎস্য হ্যাচারীর মালিক (মৎস্য চাষে জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত) হাবিবুল ইসলাম বাদশা বলেন, মৎস্য চাষেই আমার প্রধান কর্ম, এবার ৭০ লাখ টাকার মাছ চাষ করেছি, এরমধ্যে ১০ লাখ টাকা রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক মেলা পাংশা শাখা থেকে ঋণ নিয়েছি। এখন সব মাছ বন্যায় ভেসে গেলো! আমি মাছ চাষের ওপরে অনেক স্বপ্ন দেখেছিলাম! কিন্তু সব স্বপ্ন কেড়ে নিল বন্যায়।

এর আগে গতকাল রবিবার সকালে এমপি গোলাম মোস্তফা উপজেলার সকল সরকারি কর্মকর্তা ও ইউপি চেয়ারম্যানদের নিয়ে উপজেলা পরিষদ হলরুমে বন্যা মোকাবেলার জন্য একটি জরুরি আলোচনা করেন।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৩ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
ফজর৪:১৮
যোহর১২:০২
আসর৪:৩৫
মাগরিব৬:২৯
এশা৭:৪৪
সূর্যোদয় - ৫:৩৭সূর্যাস্ত - ০৬:২৪