সারাদেশ | The Daily Ittefaq

গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুরের ২০ গ্রামের মানুষের ভরসা বাঁশের সাঁকো

গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুরের ২০ গ্রামের মানুষের ভরসা বাঁশের সাঁকো
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং ০১:২৫ মিঃ
গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুরের ২০ গ্রামের মানুষের ভরসা বাঁশের সাঁকো

গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলার ২০ গ্রামের মানুষের ভরসা বাঁশের সাঁকো। গত ৩০ বছর ধরে ওই ২০ গ্রামের মানুষ বাঁশের সাঁকোয় কুমার নদী পার হচ্ছেন। সাধারণ মানুষ, রোগী ও শিক্ষার্থীরা হাট-বাজার, স্কুল, হাসাপাতাল, মাদ্রাসায় এ সাঁকোতে করেই যাতায়াত করছেন। গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার কৃষ্ণাদিয়া ও ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলার কুমারকান্দা বাজারকে বিভক্ত করেছে কুমার নদী। ৩০ বছর আগে এ নদীতে খেয়া নৌকা পারাপার বন্ধ হয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা উদ্যোগ নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় নদীতে বাঁশের সাঁকো স্থাপন করে। তারপর থেকে এ দু’উপজেলার কৃষ্ণাদিয়া, কুমারকান্দা, কেশারদিয়া, জানবাগ, যদুনন্দী, অলসপুর, বালুচর, কামইদিয়া, ফুলবাড়িয়া,পশারগাতী, কাওয়ালদিয়া, পুরাতন মুকসুদপুর, কোনাকোনা, খাড়দিয়া, পিশনাইল, বেতালসহ ২০ গ্রামের মানুষের চলাচলে একমাত্র অবলম্বন হয়ে উঠেছে এ বাঁশের সাঁকো।

গোপালগঞ্জের কৃষ্ণাদিয়াতে তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি উচ্চ বিদ্যালয়, একটি মাদ্রাসা ও একটি বড় বাজার রয়েছে। সালথা উপজেলার গ্রাম থেকে প্রতিদিন শ’ শ’ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা কৃষ্ণাদিয়াতে আসেন। এছাড়া সালথা উপজেলার ওই গ্রামগুলোর মানুষ চিকিত্সা সেবা নিতে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওপর নির্ভর করেন।

সালথা উপজেলার যদুনন্দী গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মোঃ দেলোয়ার হোসেন বলেন, সালথার অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষ কৃষ্ণাদিয়া হাটে আসেন। এখানে কৃষিপণ্যসহ অন্যান্য পণ্য বেচাকেনা করেন। এছাড়া শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করতে কৃষ্ণাদিয়ার স্কুল ও মাদ্রাসায় আসে। চিকিত্সার জন্য রোগীরা কাছে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। এছাড়া মুমূর্ষু রোগী পারাপারে দুর্ভোগের সীমা থাকে না।

কৃষ্ণাদিয়া গ্রামের কৃষক সুভাষ দাস ও মনা দাস বলেন, মুকসুদপুর উপজেলা সদরে অধিকাংশ শাক-সবজি কৃষ্ণাদিয়া হাট থেকে যায়। এসব সবজি কৃষ্ণাদিয়াসহ সালথা উপজেলার গ্রামে উত্পাদিত হয়।

সালথার গ্রাম থেকে কৃষ্ণাদিয়া বাজারে সাঁকো পার হয়ে সবজি আনতে কৃষকের কষ্টের সীমা থাকে না। কৃষ্ণাদিয়া গ্রামের বাগু মৃধা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক চৈতন্য কুমার পাল বলেন, হাটের দিনে এ সাঁকো দিয়ে হাজার হাজার মানুষ পার হয়ে কৃষ্ণাদিয়া হাটে আসে। এছাড়া প্রতিদিন দু’উপজেলার ২০ গ্রামের  শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষ এ সাঁকো  দিয়ে চলাচল করেন। কুমার নদীর ওপর ব্রিজ নির্মিত হলে দু’উপজেলার মানুষের যাতায়াতের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের দ্বার উন্মোচিত হবে।

মুকসুদপুর উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল খালেক বলেন, কুমার নদীর বিভিন্ন স্থানে ব্রিজ নির্মাণের সমীক্ষা শুরু হয়েছে। এ মুহূর্তে কৃষ্ণাদিয়া পয়েন্টে সেতু নির্মাণের কোনো পরিকল্পনা নেই। চিলমারী খেয়াঘাটে কুমার নদীর ওপর ব্রিজ নির্মাণের সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে  বলে জানান ওই প্রকৌশলী।

ইত্তেফাক নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২১ নভেম্বর, ২০১৭ ইং
ফজর৪:৫৮
যোহর১১:৪৫
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:১৭সূর্যাস্ত - ০৫:১০