সারাদেশ | The Daily Ittefaq

বিদ্যুত্ সংযোগের অভাবে ৯ মাসেও চালু হয়নি খুলনা মহানগরীর আধুনিক মানের মাতৃসদন

বিদ্যুত্ সংযোগের অভাবে ৯ মাসেও চালু হয়নি খুলনা মহানগরীর আধুনিক মানের মাতৃসদন
এনামুল হক, খুলনা অফিস২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং ০৩:৪৫ মিঃ
বিদ্যুত্ সংযোগের অভাবে ৯ মাসেও চালু হয়নি খুলনা মহানগরীর আধুনিক মানের মাতৃসদন

ভবন নির্মাণের নয় মাস পরও শুধু বিদ্যুতের অভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি খুলনা মহানগরীর কাস্টমঘাট এলাকায় প্রতিষ্ঠিত নারী ও শিশু চিকিত্সা কেন্দ্র ‘মাতৃসদন’। ফলে নগরীর বিপুলসংখ্যক দরিদ্র জনগোষ্ঠী প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্র জানায়, মা ও শিশু উভয়ের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দেশে কয়েকটি মাতৃসদন নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেয় সরকার। সরকারের ওই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে খুলনা মহানগরীর কাস্টমঘাট এলাকায় সাড়ে তিন কাঠা জমির ওপর সাততলা বিশিষ্ট একটি আধুনিক মানের মাতৃসদন নির্মাণের উদ্যোগ নেয় খুলনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। উদ্যোগটি বাস্তবায়নে প্রকল্প গ্রহণ করে ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল (ডিপিপি) মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করে দপ্তরটি। যার ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ৫ কোটি ১৮ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। ২০১৪ সালের গোড়ার দিকে প্রকল্পটির অনুমোদন মেলে। এরপর ওই বছর ৪ ফেব্রুয়ারি প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হয়। প্রকল্পে রয়েছে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা, লিফট, জেনারেটর, সোলার, অপারেশন থিয়েটার, এসি রুম, ল্যাবরেটরি, বিভিন্ন পরীক্ষাগার, ড্রেসিং রুম, ভিআইপি কেবিন, ডাক্তার ও নার্সের আবাসিক কোয়ার্টার ইত্যাদি।

সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর দরপত্র আহ্বান করলে হাসপাতালটির নির্মাণ কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রূপা এন্টারপ্রাইজ। তবে মাঠ পর্যায়ে কাজ বাস্তবায়ন করে ইস্টান্ড বিল্ডার্স অ্যাসোসিয়েশন। খুলনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি প্রায় তিন বছর সময় নিয়ে দৃষ্টিনন্দন করে আধুনিক মানের ওই মাতৃসদনটি নির্মাণ করে। কাজ শেষ হয় ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে। কিন্তু ভবন নির্মাণ কাজ শেষ হলেও বিদ্যুতের সংযোগ না থাকায় গত ৯ মাস অতিবাহিত হলেও হাসপাতালটি চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে জনসাধারণ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

অন্যদিকে, কবে নাগাদ ওই হাসপাতাল চালু করা সম্ভব হবে সেটিও পরিষ্কার করে বলতে পারছে না সংশ্লিষ্ট তিনটি দপ্তর খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি), ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) ও খুলনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিব উল আলম বলেন, মাতৃসদনটি প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প। তাই গুরুত্ব সহকারে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কিন্তু খুলনা সিটি করপোরেশন যেহেতু হাসপাতালটি পরিচালনা করবে তাই তাদের একাধিকবার চিঠি দেওয়া সত্ত্বেও তারা বুঝে নিচ্ছে না। ফলে হাসপাতালটি চালু করা সম্ভব হয়নি।

কেসিসির প্রধান প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, মাতৃসদনটি নির্মাণ করা হলেও এখনো পর্যন্ত ভবনে বিদ্যুত্ সংযোগ দেওয়া হয়নি। বিদ্যুত্ ছাড়া ভবন বুঝে নেওয়া সম্ভব না। যার কারণে বুঝে নেওয়া হচ্ছে না।

ওজোপাডিকো খুলনার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শফিক উদ্দিন বলেন, খুলনা সিটি করপোরেশনের কাছে অনেক বিদ্যুত্ বিল বকেয়া রয়েছে। তারা সঠিকভাবে বকেয়া বিল পরিশোধ করছে না। যার কারণে সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বলেন, মাতৃসদনটি যেহেতু প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প তাই করপোরেশনের মেয়রের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টির সমাধান করা হবে।

করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, ইতোমধ্যে ওজোপাডিকোর অনেক বকেয়া বিল পরিশোধ করা হয়েছে। ধীরে ধীরে সকল বিল পরিশোধ করা হবে। কিন্তু ওজোপাডিকো কথা শুনছে না।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৪ নভেম্বর, ২০১৭ ইং
ফজর৫:১১
যোহর১১:৫৩
আসর৩:৩৮
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩৪
সূর্যোদয় - ৬:৩২সূর্যাস্ত - ০৫:১২