সারাদেশ | The Daily Ittefaq

বগুড়া থেকে ইত্তেফাক প্রকাশের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রাজশাহীতে মতবিনিময়

বগুড়া থেকে ইত্তেফাক প্রকাশের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রাজশাহীতে মতবিনিময়
মেহেদী হাসান, রাজশাহী থেকে২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং ২২:২৬ মিঃ
বগুড়া থেকে ইত্তেফাক প্রকাশের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রাজশাহীতে মতবিনিময়
বগুড়া থেকে ইত্তেফাক প্রকাশের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজশাহীতে সুধীজন, সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বসহ বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার বিশিষ্টজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। 
 
সোমবার শহরের নানকিং দরবার হলে জাতীয় সঙ্গীত দিয়ে অনুষ্ঠান হয়। আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য রাখেন ইত্তেফাকের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও মাসিক অনন্যার সম্পাদক তাসমিমা হোসেন। 
 
তাসমিমা হোসেন বলেন, সাংবাদিকতা আমার পড়া লেখার বিষয় ছিল না। অনেক আগে থেকেই আমি অনন্যা প্রকাশ করছি। এজন্য ইত্তেফাকের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমার বেগ পেতে হয় নি। তবে আমি আগে কখনো ইত্তেফাকের সম্পাদক হওয়ার দুঃস্বপ্ন দেখিনি। ইত্তেফাক স্বাধীনতার আগে থেকে এখন পর্যন্ত টিকে আছে, এটাই আমার কাছে অবাক লাগে। বঙ্গবন্ধু আমাকে নিজ হাতে নিয়ে এসেছিলেন, কারণ তখন আমার শ্বশুর ছিলেন না। বঙ্গবন্ধু ও মানিক মিয়া একই সঙ্গে বিভিন্ন আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন। তারা একই সূত্রে গাঁথা ছিলেন। 
 
তিনি বলেন, আজকাল স্কুলের শিক্ষকরা বই পড়ায়। কেউ ছাত্রদের শিক্ষা দেয় না, তেমন শিক্ষক পাওয়া যায়। প্রত্যেকটি পত্রিকার নিজস্ব নিয়ম আছে। শুধু কাগজ বিক্রির জন্য পত্রিকা বের করলে পত্রিকার মান থাকে না। বিভিন্ন প্রতিকুলতা মোকাবিলা করেও বস্তুনিষ্ঠতা বজার রেখে পত্রিকা প্রকাশিত হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। একই সঙ্গে আপনাদের সব দাবি মেনে নেয়ার প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছি। আমরা চেষ্টা করবো ২০ পাতার মধ্যে আপনাদের সকল প্রত্যাশা পূরণ করতে। বর্তমানে অনেকে নিউজ বানিয়েও দেয়। যাকে আমরা হলুদ সাংবাদিকতা বলি। এসব নিউজ যাদের বিবেক আছে তারা পড়বে না বলে মনে করি। 
 
রাজশাহী সম্পর্কে তিনি বলেন, এতো সুন্দর শহর আমি দেখিনি। এখানে সবুজের ছোয়া রয়েছে। রাস্তার আইল্যান্ড সিমেন্ট দিয়ে কাঠের মতো তৈরি করেছে। যেটা দেখে আমি অভিভূত হয়েছে। রাজশাহী শহর দেখে ঢাকার মানুষের অনেক শেখার আছে। 
 
বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক বলেন, সম্পাদকীয়টা ইত্তেফাক ঐতিহ্যস্বরূপ রেখে দিয়েছে। বাকিটুকু চলিত ভাষায় লেখা। তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে ইত্তেফাকের সাথে আমার সম্পর্ক। ইত্তেফাক প্রথম থেকেই আঁটঘাট বেধে নেমেছিলেন, কারণ এর সম্পাদক ছিলেন মানিক মিয়া। তিনি যে কলাম লিখতেন সেটাই ছিল ইত্তেফাকের প্রাণ। তিনি ছিলেন নগ্নপদ সাংবাদিক। কোনো সংবাদ লেখার আগে তিনি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করতেন।’ 
 
তিনি আরো বলেন, ‘শেখ হাসিনা বলেছে, ট্রাম্পের সহযোগিতার প্রয়োজন নেই বাংলাদেশের, কারো অর্থায়নে পদ্মা সেতু হবে না: এসব বলতে গেলে মেরুদণ্ড শক্ত হওয়া লাগে। যেটা প্রধানমন্ত্রী প্রমাণ করেছেন।’ 
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও নর্থবেঙ্গল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল খালেক বলেন, নিয়মিত ইত্তেফাকে কলাম লেখার সুবাদে আমি এ পরিবারের একজন সদস্য। একসময় ইত্তেফাক একমাত্র অপ্রতিদ্বন্দ্বী পত্রিকা ছিল। বর্তমানে বিভিন্ন পত্রিকার সঙ্গে প্রতিযোগিতা থাকার পরও ইত্তেফাক বেশ এগিয়ে আছে। আগের বেশ উন্নতিও করেছে। আমার মনে হচ্ছে উত্তরবঙ্গে যেন ইত্তেফাকের জন্ম হলো। বাংলাদেশের যতো বিখ্যাত সাংবাদিক আছে তাদের সফলতা ইত্তেফাক থেকেই শুরু হয়েছে। স্বাধীনতার সময়ে ইত্তেফাকের ভূমিকা না থাকলে মুক্তিযুদ্ধ অনেকাংশে কঠিন হয়ে যেত। সকালে ঘুম থেকে উঠে চায়ের সাথে ইত্তেফাক পেয়ে যেন তিনিসহ রাজশাহীবাসী মনের ক্ষুধা মিটাতে পারেন সে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 
 
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও সাবেক হাই কমিশনার অধ্যাপক সাইদুর রহমান খান বলেন, ‘ছাত্রজীবনে আমরা ইত্তেফাক নিয়ে কাড়াকাড়ি করতাম। এটা এক সময় আমার ঘরের পত্রিকা ছিল, আবার ঘরে ফিরে আসুক সেই কামনা করি। ইত্তেফাক মহান স্বাধীনতার সময়ে বলিষ্ট ভূমিকা রেখেছিল। বর্তমানে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করি।’
 
মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ইত্তেফাক আমার নিত্যসঙ্গী ছিল। আশির দশকে আমরা সন্ধ্যার সময় পত্রিকা পেতাম। ইত্তেফাক স্বাধীনতার প্রতীক, মানিক মিয়ার আদর্শ নিয়ে আজীবন টিকে থাক।
 
রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মাসুম হাবিব, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস শিল্পী, রাজশাহী মেট্টোপলিটন পুলিশের কমিশনার মাহাবুবর রহমান বিপিএম, রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক হবিবুর রহমান, রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক তরুণ কুমার, রাজশাহী জেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন তপু, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
 
স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইত্তেফাকের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আশিস সৈকত। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ বেতারের আব্দুর রোকন মাসুম ও রুখসানা আকতার লাকী।
 
প্রসঙ্গত, গত ২০১৬ সালের আগস্ট থেকে উত্তরবঙ্গেও বগুড়া থেকে উত্তরবঙ্গ সংস্করণ ছাপা শুরু হয়। পাঠকদের হাতে ভোরে পত্রিকা পৌঁছে দিতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইত্তেফাকের সম্পাদক তাসমিমা হোসেন এ পথ চলায় সকলের সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেন।
 
এর আগে দুপুর ১২টার দিকে নানকিং দরবার হলে গ্রাহকদের নিকট ভোরে পত্রিকা পৌঁছে দিতে এজেন্টদের সাথে মতবিনিময় করেন ইত্তেফাকের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আশিস সৈকত। পরে দুপুর সাড়ে দিকে একই স্থানে রাজশাহী, চাঁপাই, নাটোর ও পাবনা জেলার প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় করেন পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তাসমিমা হোসেন।
 
ইত্তেফাক/ইউবি
 
এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩৪
যোহর১১:৫১
আসর৪:১১
মাগরিব৫:৫৪
এশা৭:০৭
সূর্যোদয় - ৫:৪৮সূর্যাস্ত - ০৫:৪৯