সারাদেশ | The Daily Ittefaq

কীটনাশক দিয়ে মেরে ফেলা হয় মাছগুলো!

কীটনাশক দিয়ে মেরে ফেলা হয় মাছগুলো!
বরিশাল অফিস২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং ২৩:৩৬ মিঃ
কীটনাশক দিয়ে মেরে ফেলা হয় মাছগুলো!

বরিশালে নগর সংলগ্ন পপুলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে মাছের চাষ করেছিলেন বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক। পরে মাছ অবমুক্ত করে মাঠটিকে খেলার উপযোগী করতে নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক মোঃ হাবিবুর রহমান। নির্দেশের দু’দিন পর প্রধান শিক্ষক কীটনাশক ব্যবহার করে মাছগুলো মেরে ফেলেন।

বিদ্যালয়টির পাশে দুটি পুকুর এবং একটি খাল রয়েছে। যেখানে মাছগুলো অবমুক্ত করা যেত। প্রধান শিক্ষক ফরিদ উদ্দিন তা করেননি।

জানা গেছে, ২৫ সেপ্টেম্বর প্রধান শিক্ষক ফরিদ উদ্দিনকে বিদ্যালয় মাঠে মাছ করায় ভর্ৎসনা করেন জেলা প্রশাসক মোঃ হাবিবুর রহমান। এ সময় তিনি মাছগুলো অবমুক্ত করে মাঠটি খেলার উপযুক্ত করতে নির্দেশ দেন। এরপর বিদ্যালয়ে বৈঠক করে সাধারণ শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক বকাঝকা করেন। তিনি শিক্ষকদের বলেন সকলকে আমি ম্যানেজ করবো কিন্তু মাছ আরো তিন মাস পর বড় হলে মাঠটি খেলার উপযুক্ত করবো। বিষয়টি নিয়ে কেউ মুখ খুললে বিপদ আছে বলে জানিয়ে দেন তিনি। কিন্তু জেলা প্রশাসক মোঃ হাবিবুর রহমান বিষয়টি নিয়ে কঠোর মনোভাবে থাকায় এবং নিয়মিত জেলা প্রশাসন কার্যালয় থেকে কর্মকর্তারা মনিটরিং করায় প্রধান শিক্ষক আর এগুতে পারেননি। বৃহস্পতিবার মাছগুলো অবমুক্ত না করে সকালে কীটনাশক ব্যবহার করে তা মেরে ফেলা হয়।

খবর পেয়ে রায়পাশা-কড়াপুর ইউপি’র চেয়ারম্যানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বিদ্যালয় এসে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা মাছগুলো অবমুক্ত না করে মেরে ফেলার বিষয়টি নিয়ে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। রায়পাশা-কড়াপুর ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান খোকন ইত্তেফাককে জানান, এ মাছগুলো মেরা ফেলায় তা দুর্গন্ধ হয়ে যাবে। একদিকে যেমন মাছগুলো মেরে মৎস্য বিস্তারে ক্ষতি হলো অপরদিকে মরা মাছ পচে গিয়ে পরিবেশেরও ক্ষতি হবে। সর্বোপরি কোমলমতি শিক্ষার্থীরা এ অবস্থায় বিদ্যালয়ে ক্লাস করলে অসুস্থ হয়ে পড়বে।

এদিকে মাছ মরার সংবাদ পেয়ে সংবাদকর্মীরা বিদ্যালয়ে পৌছলে প্রধান শিক্ষক ফরিদ উদ্দিন ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। তিনি পুরো বিষয়টি নিয়ে সংবাদকর্মীদের দোষারোপ করেন।

প্রসঙ্গতঃ এ বিদ্যালয়ের বিশাল মাঠটি দখল করে প্রধান শিক্ষক মাছ চাষ করার সচিত্র প্রতিবেদন দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত হলে জেলা প্রশাসক মোঃ হাবিবুর রহমান মাঠটি অবমুক্ত করার নির্দেশ দেন। জেলা প্রশাসক সদর আসনের সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত মাঠটি সংস্কারের জন্য বরাদ্দ দেয়ার অনুরোধ জানান। সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ ৮শ’ শিক্ষার্থীর এ মাঠটিতে পুনরায় খেলাধুলার উপযোগী করতে বরাদ্দ সহ সকল সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৪
মাগরিব৫:৫৮
এশা৭:১১
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫৩