সারাদেশ | The Daily Ittefaq

দুই ইঞ্জিনিয়ার ছেলের নির্যাতন থেকে বাঁচতে মায়ের আকুতি

দুই ইঞ্জিনিয়ার ছেলের নির্যাতন থেকে বাঁচতে মায়ের আকুতি
নেত্রকোনা প্রতিনিধি১০ অক্টোবর, ২০১৭ ইং ২০:৫২ মিঃ
দুই ইঞ্জিনিয়ার ছেলের নির্যাতন থেকে বাঁচতে মায়ের আকুতি
 
দুই প্রকৌশলী ছেলের  নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এক অসহায় মা।  রবিবার সন্ধ্যায় ছেলেদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এনে তাদের হাত থেকে বাঁচতে নেত্রকোনা সদর উপজেলার চল্লিশায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন ক্যান্সারে আক্রান্ত অসুস্থ মা মোছা. মাজেদা বেগম (৬২)।
 
সংবাদ সম্মেলনে তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, পূর্বধলা উপজেলার ভটপুর গ্রামের মো. নূরুল হকের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের সংসারে তিন ছেলে এক মেয়ে জন্ম নেয়। তারা অনেক কষ্ট করে প্রতিটি সন্তানকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করেন।  কিন্তু  তার (মাজেদা) স্বামী ব্রেনস্টোকে আক্রান্ত হয়ে এক বছর আগে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন। বড় ছেলে আমিনুল হক শাহীন পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের (পিজিসিবি) ইঞ্জিনিয়ার ও তৃতীয় ছেলে এনামুল হক তুহিন মেরিন ইঞ্জিনিয়ার।
 
এই দুই ছেলে অপর দুই ভাই-বোনকে পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে  বঞ্চিত করে অবৈধ পন্থায় তা নিজেদের নামে লিখে দিতে দীর্ঘদিন ধরে তার  উপর মানসিক চাপ প্রয়োগ করে আসছিল। তিনি তাদের এই অন্যায় আবদার মেনে না নেয়ায় ইঞ্জিনিয়ার দুই ছেলে প্রায়শই তাকে মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার নির্যাতন চালিয়ে আসছিল।
 
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘রোজার ঈদের সময় বড় ছেলে শাহীন জমি লিখে দিতে বলে, আমি তাতে অপারগতা প্রকাশ করলে সে আমাকে বিছানা থেকে লাথি মেরে  ফেলে দিয়ে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারপিট করে। তারপর থেকে আমি অসুস্থ বোধ করতে থাকি’। কোরবানি ঈদের আগের দিন ছোট ছেলে তুহিনও বড় ভাইয়ের মতো জমি লিখে দিতে চাপ সৃষ্টি করে। এতে সাড়া না দেয়ায় সেও আমাকে মারধর করে। ছেলেদের মারধরের আঘাতে আমার মেরুদণ্ড ও গলায় সমস্যা দেখা দেয়।
 
খবর পেয়ে মেজ ছেলে নাজমুল হক মনির আমাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ নিয়ে গেলে পরীক্ষা নিরীক্ষার পর চিকিৎসক বলেন, ‘আমার গলায় ক্যান্সার বাসা বেঁধেছে। মনির তার চিকিৎসা করাচ্ছে জেনে দুই ইঞ্জিনিয়ার ছেলে মনে করছে সম্পত্তি হয়ত তাকে দিয়ে দিবে। এই আশংকায় আমার উপর অত্যাচার-নির্যাতন আরো বাড়িয়ে দেয়। দুই ছেলের অত্যাচার নির্যাতন থেকে বাঁচতে অবশেষে আমি স্বামীর বাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়ি সদর উপজেলার  কারলী গ্রামে আশ্রয় নিয়েছি’।
 
ছেলেরা তার সাথে যে ধরনের অন্যায় আচরণ করেছে, তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করে তিনি বলেন, আর যে কয়েকটা দিন বাঁচব, সেই কয়েকটা দিন অসুস্থ স্বামীর সেবা করে মরতে চাই।এদিকে অভিযুক্ত দুই ছেলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদেরকে না পাওয়ায় তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি ।
 
ইত্তেফাক/ আরকেজি
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২২ জুন, ২০১৮ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১২:০০
আসর৪:৪১
মাগরিব৬:৫১
এশা৮:১৬
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৬