সারাদেশ | The Daily Ittefaq

সকলের সচেতনতা থাকলে অধিকার আদায় সম্ভব: আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

সকলের সচেতনতা থাকলে অধিকার আদায় সম্ভব: আনোয়ার হোসেন মঞ্জু
সকলের সচেতনতা থাকলে অধিকার আদায় সম্ভব: আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

জাতীয় পার্টি-জেপি’র চেয়ারম্যান এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, সকলের মধ্যে সচেতনতা থাকলে অধিকার আদায় সম্ভব হয়। পাশাপাশি সবাই একত্রে থেকে কাজ করলে এ অধিকার আদায় সহজ হয়। ঝগড়া-বিবাদ উন্নয়নের প্রতিবন্ধক বলে সকলকে এসব পরিহার করতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে পিরোজপুর জেলার ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় পশ্চিম রাজপাশা দাখিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে ধাওয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের উপর এক মতবিনিময় সভা ও উঠান বৈঠকে তিনি একথা বলেন। এলাকাবাসীর উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, এ সরকারের আমলে অতীতের তুলনায় বেশি বেশি কাজ হচ্ছে। দেশ স্বাধীন হয়েছে বলে আজকে আমরা খোলামেলা আলোচনা করে আমাদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করছি। আমাদের দেশে রাস্তা-ঘাট, পুল-কালভার্ট ইত্যাদি নির্মিত হলে তার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা যথাযথ দায়িত্ব পালন করেন না। প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে সাহস ও আন্তরিকতার পরিচয় দেন না। দেশে যে উন্নয়ন হয় তা জনগণের ট্যাক্সের টাকা দিয়ে হয়। উন্নয়ন ভোগে সকলের অধিকার রয়েছে। আপনাদের দোয়ায় ১৭ বছর সরকারে থাকার সুযোগ পেয়েছি। এ সময় আমরা গতানুগতিক ধারার রাজনীতি করি নাই। আমাদের রাজনীতি হচ্ছে ভিন্ন রকমের। স্বাধীনতার সুফল সকলের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। তা না হলে স্বাধীনতা অর্থবহ হবে না। আমাদের দায়িত্ব অনেক বেশি। আল্লাহর রহমতে আপনাদের সমস্যার সমাধান হবেই। এজন্য সকলকে একত্রে থাকতে হবে। প্রশাসনে জট ও ঝঞ্ঝাট থেকে বেরিয়ে আসা খুই কষ্টকর। সবাই একত্রে কাজ করলে এ অবস্থার অবশ্যই উত্তরণ ঘটবে। সকল ধরনের উস্কানি, প্ররোচনাকে মোকাবিলা করে আগামীতে আমরা এগিয়ে যাব।      

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা জেপি’র সদস্য সচিব সিদ্দিকুর রহমান টুলুর সভাপতিত্বে এখানে আরও বক্তব্য রাখেন মাদ্রাসা সুপার মোঃ সুলতান মাহমুদ, মুনসুর আলী খান, সুমন হাওলাদার, সাবেক প্রধান শিক্ষক তোফাজ্জেল হোসেন, সমাজ সেবক ফিরোজ হোসেন, স্কুল ছাত্রী মোরশেদা আক্তার ও মিলি আক্তার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মহারাজ, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম তালুকদার উজ্জল, গৌরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা জেপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক মজিবুর রহমান চৌধুরী প্রমুখ।

এরআগে মন্ত্রী ধাওয়া ইউনিয়নের নলকাটা-পশারিবুনিয়া-রাজপাশা-জামতলা গ্রামের পল্লীবিদ্যুতের নতুন লাইনের উদ্বোধন করেন। এখানে মোনাজাত করা হয়। এ সময় পিরোজপুর পল্লীবিদ্যুত্ সমিতির মহাব্যবস্থাপক শংকর কুমার কর উপস্থিত ছিলেন।

বিকালে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী একই ইউনিয়নের ৬নং সি পশারিবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৫৩নং পূর্ব রাজপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন করেন।

দুপুরে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের উপর পর্যালোচনা বৈঠক করেন। ভাণ্ডারিয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক শাহীন আক্তার সুমীর সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন পিরোজপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মহারাজ, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম তালুকদার উজ্জল, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম মিরাজ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আসমা আক্তার, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুল হক মনি জোমাদ্দার, আওয়ামী লীগের উপজেলা সভাপতি ফায়জুর রশীদ খসরু, পৌর কাউন্সিলর গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, আব্দুল কাদের হাওলাদার ও মোঃ সালেক তালুকদার, পৌর সহায়ক কমিটির সদস্য ইউসুফ আলী আকন প্রমুখ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভাণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুজ্জামান তালুকদার, পৌরসভার সচিব আনোয়ার হোসেন, পৌর সহায়ক কমিটির সদস্য হারুন অর রশীদ মুন্সী, মানিক হাওলাদার, সিদ্দিকুর রহমান মুন্সী, বেবী আক্তার, মঞ্জু রানী ও ফাতেমা বেগম। আরও উপস্থিত ছিলেন ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা জেপি’র সদস্য সচিব সিদ্দিকুর রহমান টুলু, গৌরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান চৌধুরী, ভিটাবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান খান এনামুল করিম, টুঙ্গীপাড়া আওয়ামী লীগ নেতা হাফিজুর রশীদ তারেক, যুব সংহতির উপজেলা আহ্বায়ক শহীদুজ্জামান রাজু মল্লিক, যুবলীগ আহ্বায়ক এনামুল ইসলাম টিপু প্রমুখ। এরপর মন্ত্রী ভাণ্ডারিয়ার বিভিন্ন  শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া পরিদপ্তরের বরাদ্দকৃত বিভিন্ন খেলার সরঞ্জাম বিতরণ করেন। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সম্পাদক কাজী রোকনুজ্জামান বশীর।

ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের আলোচনা সভায় পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ভাণ্ডারিয়া পৌরসভা গঠন ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। আমরা একমত হতে পারলে ১৯৯০ সালেই এ কাজটি সম্পন্ন হতো। তারপরও আমরা সফল হয়েছি। এ জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। পাশাপাশি ভারত সরকারের অর্থ সহায়তায় এখানে যে একটি পানি সরবরাহ প্রকল্প গ্রহণের চুক্তি সেদেশের সঙ্গে সম্প্রতি সম্পন্ন হয়েছে সে জন্য ভারতীয় হাই কমিশনার ও ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। পৌর ভবন নির্মাণ, সড়কবাতি, রাস্তার উন্নয়নসহ বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করে পৌরবাসীকে সেবা দিতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৫ নভেম্বর, ২০১৭ ইং
ফজর৫:০১
যোহর১১:৪৬
আসর৩:৩৫
মাগরিব৫:১৪
এশা৬:৩০
সূর্যোদয় - ৬:২০সূর্যাস্ত - ০৫:০৯