সারাদেশ | The Daily Ittefaq

গোপালগঞ্জে ধানে বিপিএইচের আক্রমণে কৃষক দিশেহারা

গোপালগঞ্জে ধানে বিপিএইচের আক্রমণে কৃষক দিশেহারা
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি১৯ অক্টোবর, ২০১৭ ইং ১১:০৫ মিঃ
গোপালগঞ্জে ধানে বিপিএইচের আক্রমণে কৃষক দিশেহারা
 
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে আমন ধানে ব্রাউন প্লান্ট হপারের (বিপিএইচ) আক্রমণ দেখা দিয়েছে। ক্ষেতে এ পোকার আক্রমণ দেখা দেয়ার সাথে সাথে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ২/১ দিনের মধ্যে ক্ষেতের ধান শুকিয়ে যাচ্ছে। তার ২ দিন পর ধান গাছ খড়ে পরিণত হচ্ছে। দ্রুত আক্রমণকারী এ পোকার হাত থেকে আমন ধান রক্ষায় কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
 
কাশিয়ানী উপজেলার কৃষি অফিস জানিয়েছে, এ বছর ওই উপজেলার এক হাজার ২শ' হেক্টর জমিতে রোপা আমনের আবাদ হয়েছে। এছাড়া ৩ হাজার ৯শ' হেক্টরে বোনা আমনের চাষাবাদ করেছে কৃষক। মোট এ উপজেলায় ৫ হাজার ১শ' হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে শুধু রোপা আমনের ক্ষেতে ব্রাউন প্লান্ট হপারের আক্রমণ দেখা দিয়েছে বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে।
 
কাশিয়ানী উপজেলার সমসপুর গ্রামের কৃষক মঞ্জুর হোসেন শেখ (৬৩) বলেন, আমি আড়াই বিঘা জমিতে রোপা আমনের আবাদ করেছি। সবেমাত্র ধান ফলে বের হয়েছে। এর মধ্যেই ৪/৫ দিন আগে আমার জমির ধানে ব্রাউন প্লান্ট হপারের (গাছ ফড়িং পোকা) আক্রমণ হয়েছে। ক্ষেতের ধান শুকিয়ে গেছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শে ওষুধ কিনে স্প্রে করেছি। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এখন ক্ষেতের ধান খড়ে পরিণত হয়েছে। আমার আশপাশের জমিতেও এ পোকার আক্রমণ হয়েছে। সে সব ক্ষেতের মালিকরা ক্ষেতের ফসল রক্ষায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
 
কাশিয়ানী উপজেলার পশ্চিম মাঝিগাতী গ্রামের কৃষক খোন্দকার আনোয়ারুল হক বীরু বলেন, আমি ৭ বিঘা জমিতে আমন ধানের আবাদ করেছি। এর মধ্যে ৪ বিঘা জমিতে এ পোকার আক্রমণ দেখা দেয়। আমাদের এলাকার ধানের আগে কখনো এ পোকার আক্রমণ হয়নি। এবার নতুন করে এ পোকার আক্রমণ দেখা দেয়ায় আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। পরে কৃষি বিভাগের পরামর্শে ওষুধ স্প্রে করে কিছু ফল পেয়েছি। যাতে নতুন করে আক্রমণ না হয় সে দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখছি।
 
 
একই গ্রামের কৃষক খোন্দকার সিদ্দিক বলেন, এলাকার ধান ক্ষেতে গাছ ফড়িং পোকার আক্রমণ দেখা দেয়ায় আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি। সবাই ক্ষেতের ফসল রক্ষায় দিনরাত ক্ষেতে পড়ে রয়েছি। এখন বাজারে ওষুধ সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এ সুযোগে ওষুধ বিক্রেতারা ওষুধের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।
কাশিয়ানী উপজেলা সদরের কীট নাশক বিক্রেতা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, 'ক্ষেতে পোকার আক্রমণ দেখা দেয়ায় গ্লামোর, আটোভিটা জাতিয় কীট নাশকের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারে এ জাতিয় কীট নাশকের সংকট দেখা দিয়েছে। এ কারণে অনেকে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন।'
 
কাশিয়ানী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রসময় মণ্ডল ধানক্ষেতে পোকার আক্রমণের কথা স্বীকার করে বলেন, শুধু রোপা আমনের ক্ষেতে সামান্য আকারে ব্রাউন প্লান্ট হপারের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। বোনা আমন ক্ষেতে এ পোকার আক্রমণ নেই। আমরা আমন রক্ষায় ক্ষেতে দুই থেকে আড়াই হাত বিলি তৈরি করে আলো বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করার কথা বলছি। ক্ষেতের মধ্যে আলো বাসাত চলাচল করলে এ পোকা বংশ বিস্তার করতে পারবে না। এর পাশাপাশি ধান গাছের গোঁড়ায় ইমিডা ক্লোরপিড জাতিয় ওষুধ প্রয়োগ করতে পরামর্শ দিচ্ছি। কম আক্রমণ হলে একবার এ ওষুধ প্রয়োগ করলে হবে। বেশি আক্রমণ হলে এক সপ্তাহ পর আবার এ ওষুধ দিতে হবে। আশা করছি আমাদের পরামর্শে কৃষক আক্রান্ত জমির ৮০ ভাগ ফসল রক্ষা করতে পারবে। আমরা আলোর ফাঁদ, মাইকিং সহ কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়ে কৃষককে সচেতন করে এ পোকার হাত থেকে ফসল রক্ষায় রাত দিন কাজ করে যাচ্ছি।
 
ইত্তেফাক/জামান
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২২ নভেম্বর, ২০১৭ ইং
ফজর৪:৫৯
যোহর১১:৪৫
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:১৮সূর্যাস্ত - ০৫:১০