সারাদেশ | The Daily Ittefaq

বাগমারায় চেয়ারম্যানসহ আওয়ামী লীগের ৯ নেতার পদ স্থগিত, কেন্দ্রে বহিস্কারের সুপারিশ

বাগমারায় চেয়ারম্যানসহ আওয়ামী লীগের ৯ নেতার পদ স্থগিত, কেন্দ্রে বহিস্কারের সুপারিশ
দলীয় সাংসদের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদ ও চরমপন্থি মদদের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী১৯ অক্টোবর, ২০১৭ ইং ২৩:৪৭ মিঃ
বাগমারায় চেয়ারম্যানসহ আওয়ামী লীগের ৯ নেতার পদ স্থগিত, কেন্দ্রে বহিস্কারের সুপারিশ

বাগমারা উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাকিরুল ইসলাম সান্টুসহ আওয়ামী লীগের ৯ নেতার পদ স্থগিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সান্টুসহ দলীয় পদ স্থগিত নেতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে সুপারিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটি।

দলীয় পদ স্থগিত হওয়া অন্য নেতারা হলেন, বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউল হক টিপু, বিজ্ঞান ও তথ্য বিষয়ক সম্পাদক মামুনুর রহমান মামুন, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক সাহার আলী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আব্দুস সালাম, আব্দুস সোবহান চৌধুরী, উপজেলা কমিটির সদস্য ও তাহেরপুর পৌরসভার সাধারণ সম্পাদক মেয়র আবুল কালাম আজাদ ও যোগিপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ সেপ্টেম্বর বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও দলীয় সংসদ সদস্য এনামুল হকের বিরুদ্ধে নগরীর মাস্টারসেফ চাইনিজ রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জঙ্গিবাদ ও চরমপন্থিদের মদদ দেয়ার অভিযোগ তোলেন অভিযুক্তরা। এ ঘটনায় দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয় বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকিরুল ইসলাম সান্টুসহ উল্লেখিত ৯ নেতার বিরুদ্ধে।

জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য, পুঠিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পুঠিয়া-দুর্গাপুরের দলীয় সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ দারা বলেন, সভায় উল্লেখিত নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ও তাদের প্রত্যেকের লিখিত বক্তব্য পর্যালোচনা করা হয়।

সভায় উপস্থিত জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ মনে করেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনীত দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ তাদের নিজেদের বক্তব্যেও প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে তাদের স্ব স্ব পদ স্থগিত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দলের কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে সুপারিশ করেছে জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ।  

এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত শিগগিরই সুপারিশ আকারে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পাঠানো হবে।

তিনি আরও বলেন, দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত বাগমারা উপজেলা কমিটির ১১ নেতাকে কারণ দর্শানোর জন্য নোটিশ দেয়া হয়। গত ১২ অক্টোবর বাগমারা উপজেলার সাধারণ সম্পাদক জাকিরুল ইসলাম সান্টুসহ ১১ জন কারণ দর্শানো নোটিশের লিখিত জবাব দেন। পরের দিন ১৩ আক্টোবর তাদের লিখিত জবাব আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদকের সামনে উপস্থাপন করে জেলা আওয়ামী লীগ।

ওই দিন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের এক সাংগঠনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে রাজশাহী থেকে নির্বাচিত দলের ৬ জন সংসদ সদস্যও উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতিতে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা জেলা কমিটিতে ১১ জনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে সুপারিশ আকারে কেন্দ্রে পাঠাতে নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে কেন্দ্র থেকে কোন নিদের্শনা না যাওয়া পর্যন্ত তাদের নামে দলীয় চিঠি ইস্যু না করতেও জেলা কমিটিকে নির্দেশনা দেয়া হয়।

কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা কমিটির সদস্য, অভিযুক্ত বাগমারা উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাকিরুল ইসলাম সান্টুকে নির্বাহী কমিটির সভায় ডাকা হয়নি। তবে ১১ জনের মধ্যে দুইজন ওই সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন না। এ জন্য তাদের ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত ২৬ সেপ্টেম্বর বাগমারা আওয়ামী লীগের ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করে লিখিত বক্তব্যে সভাপতির জঙ্গিবাদ মদদদানসহ নানা অভিযোগ আনা হয়। ওই সংবাদ বাগমারা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান জাকিরুল ইসলাম সান্টুসহ ১১ জন নেতা অংশ নেন।

এই সংবাদ সম্মেলনের পরদিন ২৭ সেপ্টেম্বর বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এনামুল হক উপজেলা নির্বাহী কমিটির জরুরী সভা আহবান করেন। ওই সভায় অনুগত নেতাদের নিয়ে সাধারণ সম্পাদক সান্টুসহ ১১  নেতাকে দল থেকে বহিস্কারের সিদ্ধান্ত নেন এবং তা সুপারিশ আকারে জেলা কমিটিতে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম সারোয়ার আবুলকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়। ওই সুপারিশের চিঠির প্রেক্ষিতে জেলা কমিটি ১১ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে সাত দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়।

এদিকে, গতকাল বৃহস্পতিবার জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির জরুরী সভা চলাকালে নগরীর লক্ষ্মীপুর মোড়স্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে অনুগত নেতাকর্মীদের নিয়ে অবস্থান নেন বাগমারা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকিরুল ইসলাম সান্টু। সভা শেষ হওয়া পর্যন্ত তারা দলীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করছিলেন।

এ ব্যাপারে মতামতের জন্য গতরাতে বাগমারা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকিরুল ইসলাম সান্টুর মোবাইলে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি মোবাইল রিসিভ না করে কেটে দেন।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২২ নভেম্বর, ২০১৭ ইং
ফজর৪:৫৯
যোহর১১:৪৫
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:১৮সূর্যাস্ত - ০৫:১০