সারাদেশ | The Daily Ittefaq

বোমা মেশিনে নষ্ট হচ্ছে জাফলংয়ের পর্যটন সম্ভাবনা

বোমা মেশিনে নষ্ট হচ্ছে জাফলংয়ের পর্যটন সম্ভাবনা
হুমায়ূন রশিদ চৌধূরী,সিলেট অফিস২১ অক্টোবর, ২০১৭ ইং ০১:৫২ মিঃ
বোমা মেশিনে  নষ্ট হচ্ছে জাফলংয়ের পর্যটন সম্ভাবনা
গোয়াইনঘাটের প্রাকৃতিক  সৌন্দর্য মণ্ডিত জাফলং। এই এলাকার পিয়াইন নদীর তীরবর্তী নয়া বস্তি, কান্দু বস্তি, গড়ে ওঠায় এলাকার পর্যটন সম্ভাবনা এখন হুমকির সম্মুখীন।
 
পাহাড়-নদী ও সবুজ প্রকৃতির নয়নাভিরাম, জাফলং দিনে দিনে বিরান ভূমির রূপ ধারণ করছে। এর মূলে রয়েছে নিষিদ্ধ ঘোষিত ‘বোমা মেশিন’ নামের যন্ত্রদানব । নিষিদ্ধ এই যন্ত্র দিয়ে ভূগর্ভ থেকে পাথর তোলায় ধসে যাচ্ছে নদীর তীর, আশ-পাশের চা-বাগান, বিলীন হচ্ছে গ্রামের ঘর-বাড়ি, নষ্ট হচ্ছে প্রকৃতি এবং দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম চৌধূরী বলেন,‘ পর্যটন এলাকা জাফলংয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দিনে দিনে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এটিকে রক্ষার জন্য সবাইকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। তা না হলে একসময় জাফলং বলতে কিছু থাকবে না। ’
 
সরেজমিনে দেখা যায়, বড় বড় পাইপ দিয়ে মাটির প্রায় ৫০-৬০ ফুট গভীর থেকে পাওয়ার পাম্প যন্ত্রের মাধ্যমে পাথর উত্তোলন করা হয়। ঐ যন্ত্র দিয়ে পাথর তোলার সময় বোমার মত শব্দ হয় বলে নাম হয় বোমা মেশিন। নদীর তীর জুড়ে সারি সারি বোমা মেশিন চোখে পড়ে। বড় বড় পাইপ বসিয়ে মাটির অনেক গভীর থেকে পাথর উত্তোলন করায় ধ্বংসের মুখে পড়েছে পিয়াইন নদীর মোহনার তীরবর্তী গ্রাম ও কৃষি জমি। আর এই বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলনের কারণে পিয়াইন নদীতে অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। গত ১২ বছরে সাঁতার দিতে ও গোসল করতে নেমে প্রায় ৩৭ জন পর্যটকের সলিল সমাধি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানায়। নদীতে সাঁতার কাটতে গিয়ে বা নৌকা থেকে পড়ে তারা পানির নিচে গর্তে হারিয়ে যায়। পরে লাশ হয়ে ভাসে। সর্বশেষ গত ২২ জুলাই জিরো পয়েন্টে সাঁতার কাটতে গিয়ে ঢাকার কবি নজরুল কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগ ঘোষ ও আব্দুল্লার অন্তরের সলিল সমাধি ঘটে।
 
বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন করায় আশপাশের ভূমি ধসে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।  ২০০৯ সালে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) এক রিট আবেদনের ফলে বোমা মেশিন নিষিদ্ধ করে উচ্চ আদালত। এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশও দেওয়া হয়। গঠিত টাস্কফোর্স প্রতি মাসে অন্তত দুটি করে অভিযানও চালায়। টাস্কফোর্স-সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানান, অভিযানের খবর কিভাবে আগে থেকে পেয়ে যায় বোমা মেশিন চালকরা। তাই এর সুফল মিলছে না।  টাস্কফোর্স অভিযান চালিয়ে কয়েকটি বোমা মেশিনে আগুন দিয়ে শেষ হয় অভিযান। কিন্তু অভিযানের পর পরই আর শত শত বোমা মেশিন নামে পাথর উত্তোলনে।
 
জাফলংয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এক সময় পাথর কোয়ারি এলাকায় সনাতন পদ্ধতিতে পানিতে নেমে হাত দিয়ে পাথর উত্তোলন হতো। তখন হাজার হাজার পাথর শ্রমিক আর বারকি নৌকার আনাগোনা ছিল।  তখনকার প্রাকৃতিক পরিবেশও ছিল অন্য রকম। এখন কম সময়ে অনেক বেশি পাথর তোলার জন্য একশ্রেণীর অতি মুনাফা লোভী ব্যবসায়ী বোমা মেশিনের ব্যবহার শুরু করে। সিলেট নামের সঙ্গে জাফলংয়ের নাম জড়িয়ে আছে আদিকাল থেকে। প্রতিদিন সৌন্দর্য পিপাসীরা আগ্রহ নিয়ে এখানে ছুটে এসে নানা ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছে। জাফলংকে রক্ষা করতে এখনই সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
 
এদিকে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন ছুটে আসছেন জাফলং এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে। কিন্তু রাস্তাঘাটের বিড়ম্বনায় অনেককেই বিপাকে পড়তে হয়। জাফলং এর কাছে মামার দোকান এলাকার রাস্তায় বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় ঐ রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিকল্প সড়ক হিসাবে বিজিবি‘ ক্যাম্পের রাস্তা ব্যবহার করে পর্যটকরা জিরো পয়েন্টে যেয়ে থাকেন। ঐ পথের টিলার ঢালু বেয়ে নিচে নামতে নানা বয়সের পর্যটকরা ঝুঁকিতে পড়েন।
 
ইত্তেফাক/রেজা
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২২ নভেম্বর, ২০১৭ ইং
ফজর৪:৫৯
যোহর১১:৪৫
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:১৮সূর্যাস্ত - ০৫:১০