সারাদেশ | The Daily Ittefaq

আমতলী-কলাপাড়া মহাসড়কে গর্ত, জনদুর্ভোগ চরমে

আমতলী-কলাপাড়া মহাসড়কে গর্ত, জনদুর্ভোগ চরমে
আমতলী (বরগুনা) সংবাদদাতা২২ অক্টোবর, ২০১৭ ইং ০২:৪৭ মিঃ
আমতলী-কলাপাড়া মহাসড়কে গর্ত, জনদুর্ভোগ চরমে

আমতলী-কলাপাড়া মহাসড়কের আমতলী বাঁধঘাট জামে মসজিদ থেকে হাসপাতাল পর্যন্ত ৫শ’ মিটার সড়কে পিচ উঠে পাথরের খোয়া বেড়িয়ে পড়েছে। এতে শত শত গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় পানি জমে। আর শুকনার সময় ধুলা উড়ে। এই সড়ক দিয়ে যানবাহনসহ যাত্রীদের চলাচলে দুর্ভোগ এখন চরমে পৌঁছেছে।

বর্ষায় জমে থাকা গর্তের পানিতে যানবাহন চলাচলের সময় সড়কের ময়লা পানি ছিটে পথচারীদের জামা কাপড় নষ্ট হয়ে যায়। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে মোটরসাইকেল, বাস, ট্রাক, অটো, মাহেন্দ্রা রিকশাসহ শত শত যানবাহন চলাচল করে। অনেক সময় গর্তে আটকে গিয়ে অটো, রিকশা ও মাহেন্দ্রা উল্টে গিয়ে অহরহ দুর্ঘটনা ঘটছে। আমতলী-কলাপাড়া সড়কের এই অংশটুকু খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।

এ সড়ক দিয়ে বরগুনা, বরিশাল, কলাপাড়া, ঢাকা ও আমতলী পৌরশহরের প্রবেশ দ্বারসহ বিভিন্ন পয়েন্টে বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে। সড়কে শত শত গর্তের কারণে ঘন্টার পর ঘন্টা যানবাহন আটকে থাকে।

রিকশা চালক মোখলেছুর রহমান জানান, এই সড়কের গর্তে পড়ে আমার রিকশার রিং ভেঙে যায়। গরীব মানুষ ৭শ’ টাকা খরচ করে রিকশা মেরামত করেছি।

বরগুনা জেলা বাস মালিক সমিতির লাইন সম্পাদক সজল মৃধা জানান, মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে চালকদের এই সড়ক দিয়ে বাস চালাতে হয়।

আমতলী উপজেলা বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. হাসান মৃধা জানান, এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে আমাদের অনেক বাসের যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা চাই এই সড়কটি দ্রুত মেরামত করা হউক।

পটুয়াখালী সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহম্মদ জানান, আমতলী-কলাপাড়া মহাসড়ক সংস্কারের কাজ দ্রুত শুরু হবে। আশা করি, তখন জনদুর্ভোগ থাকবে না।

মাইঠা-আকনবাড়ী সড়কে

একহাঁটু কাঁদা

আমতলী সদর ইউনিয়নের মাইঠা-আকনবাড়ী স্ট্যান্ড পর্যন্ত তিন কিলোমিটার সড়কটি দীর্ঘ ছয় বছরেও সংস্কার না হওয়ায় চলতি বর্ষা মৌসুমে সড়কটি একহাঁটু কাঁদায় পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিনেও সংস্কার না হওয়ায় কয়েক হাজার গ্রামবাসীসহ মাইঠা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা চলাচলে পড়েছে বিপদে।

আমতলী সদর ইউপি সূত্রে জানা গেছে, মাইঠা, চলাভাঙা ও নীলগঞ্জ গ্রামবাসীদের চলাচলের সুবিধার জন্য ২০১১ সালে মাইঠা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে আমতলী-কলাপাড়া মহাসড়কের আকনবাড়ী স্ট্যান্ড পর্যন্ত ডানিডার সহায়তায় তিন কিলোমিটার কাঁচা সড়ক নির্মাণ করা হয়। সড়কটি নির্মাণের পর মাটি কিংবা পাকাকরণের জন্য আর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। প্রতিদিন চলাভাঙা, মাইঠা ও নীলগীঞ্জ গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ আমতলী, কলাপাড়া বরগুনা, বরিশাল, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলাচল করে। সড়কটির পাশেই রয়েছে মাইঠা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয়ের ছোট ছোট শতাধিক কোমল মতি শিশুরা কাঁদা ভেঙে প্রতিদিন কষ্ট করে বিদ্যালয়ে আসে। অনেক সময় কাঁদায় পড়ে গিয়ে অনেক শিশুর বইপত্র জামা কাপড় নষ্ট হয়ে যায়।

সড়কে কাঁদা থাকায় অনেক সময় গর্ভবতী নারী কিংবা মুমূর্ষু রোগীদের জরুরি চিকিত্সার জন্য হাসপাতাল কিংবা অন্য কোথাও নেওয়া যায় না। ফলে বিনা চিকিসায় রোগীদের বাড়িতে বসে ফকিরের ঝাড় ফুঁক করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না।

অন্যদিকে ছোটনীলগঞ্জ কালাম মেম্বরের বাড়ি থেকে আটকানী বাঁধঘাট পর্যন্ত দুই কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা রয়েছে।

আমতলী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোতাহার উদ্দিন মৃধা বলেন, সড়ক দুটি পাকাকরণের জন্য আমতলী উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরকে অনুরোধ করা হয়েছে।

আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম জানান, সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে সড়ক দুটি পাকাকরণের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২২ নভেম্বর, ২০১৭ ইং
ফজর৪:৫৯
যোহর১১:৪৫
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:১৮সূর্যাস্ত - ০৫:১০