সারাদেশ | The Daily Ittefaq

জলঢাকার গড় ধর্মপাল পরীক্ষাকেন্দ্রে নিয়ম মানছেন না কেন্দ্র সচিব

জলঢাকার গড় ধর্মপাল পরীক্ষাকেন্দ্রে নিয়ম মানছেন না কেন্দ্র সচিব
জলঢাকা (নীলফামারী) সংবাদদাতা২২ নভেম্বর, ২০১৭ ইং ০১:০৪ মিঃ
জলঢাকার গড় ধর্মপাল পরীক্ষাকেন্দ্রে নিয়ম মানছেন না কেন্দ্র সচিব
পরীক্ষা কেন্দ্রের প্রবেশ পথে বসা দোকানের গ্রাহক হচ্ছেন কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা পুলিশ প্রশাসন (২) কেন্দ্রের সামনের দেয়াল ঘেষা কাপড়ের তৈরি চায়ের দোকানসহ অন্যান্য দোকানের ছবি ও পরীক্ষার রুমে এক বেঞ্চে বসে পরীক্ষা দিচ্ছেন তিনজন করে শিক্ষার্থী।

সারাদেশের ন্যায় নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় ১৫টি পরীক্ষা কেন্দ্রে চলছে প্রাথমিক ও এবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষা। এর মধ্যে গড় ধর্মপাল ইসলামীয়া ফাজিল মাদ্রাসায় একটি পরীক্ষা কেন্দ্র হয়েছে। উক্ত কেন্দ্রে সরকারের ঘোষিত নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে, নিজের ইচ্ছামত পরীক্ষা নিচ্ছেন কেন্দ্র সচিব।

গতকাল সরেজমিনে ঐ পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে জানা যায়, পরীক্ষাকেন্দ্রের চতুর্দিকে লাল পতাকা দিয়ে সীমানা নির্ধারনের নিয়ম থাকলেও কোথাও কোন লাল পতাকা নাই। নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকালে শিক্ষক-কর্মচারীদের সাথে একটি পরিচিতি ব্যাচ থাকার কথা থাকলেও তাদের বুকে কোন ব্যাচ দেখা যায়নি। আর এ সুযোগটা কাজে লাগিয়ে পরীক্ষার রুমে অবাধে প্রবেশ করছেন, অবিভাবক ও বহিরাগতরা।

এছাড়া পরীক্ষা কেন্দ্রের প্রবেশপথে বসেছে বিভিন্ন রকমের বড় দোকান। দূর থেকে দেখলে যে কেউ মনে করবেন, হয়তো এখানে কোন মেলা চলছে। সব মিলিয়ে কেন্দ্রটিতে অনেক অনিয়মের চিত্র দেখা গেছে।

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারি চাকরিজীবী এক অবিভাবক বলেন, আমার বাচ্চার মেধা ভালো। ভাবছিলাম সে বৃত্তি পাবে কিন্তু এখন সে আশা ছেড়ে দিয়েছি। কারন বহিরাগতরা পরীক্ষার রুমে ঢুকে যেভাবে শিক্ষার্থীদের দেখিয়ে দিচ্ছে, তাতে ওখানে আমার বাচ্চার সিরিয়াল নাই।

এ ব্যপারে জলঢাকা উপজেলা একটি বাড়ী একটি খামার প্রকল্প কর্মকর্তা ও পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্ব প্রাপ্তা অফিসার মাহাফুজার রহমান বলেন, কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা লোকদের পরিচিতি ব্যাচ দেওয়া এবং সামনের দোকানগুলো সরিয়ে দেওয়ার জন্য আমি পরীক্ষা শুরু থেকে কেন্দ্র সচিবকে বলে আসছি। কিন্তু এসব কথা তিনি কর্ণপাত করেন না।

এসব অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে গড় ধর্মপাল ইসলামীয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও ওই পরীক্ষা কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব খাইরুল আলম 'এখন আমার কথা বলার সময় নাই' বলে চলে যান।

এ ব্যাপারে জলঢাকা উপজেলার শিক্ষা অফিসার শাহাজাহান বলেন, কেন্দ্রটির এ অবস্থা আমি জানতাম না, তবে বিষয়টি সরেজমিনে দেখে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ১৯ নভেম্বর শুরু হওয়া প্রাথমিক ও এবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষায় এবারে জলঢাকা উপজেলায় মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৯ হাজার ৯শ ৬৯ জন। এর মধ্যে এবতেদায়ী ৭শ ৭১ জন। এ সব পরীক্ষার্থী উপজেলার ১৫টি পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছে। প্রথম দিনের পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন ৮শ ১জন পরীক্ষার্থী।   

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৪ নভেম্বর, ২০১৭ ইং
ফজর৫:১১
যোহর১১:৫৩
আসর৩:৩৮
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩৪
সূর্যোদয় - ৬:৩২সূর্যাস্ত - ০৫:১২