সারাদেশ | The Daily Ittefaq

পাহাড়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হচ্ছে

পাহাড়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হচ্ছে
এ কে এম মকছুদ আহমেদ, রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি০৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং ০০:১৫ মিঃ
পাহাড়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হচ্ছে

পাহড়ের পরিস্থিতি আবারো অশান্ত হয়ে উঠেছে। শান্তি চুক্তির দুই দশক পূর্তি অনুষ্ঠানের দুই দিন পর আবারো রক্তাক্ত হয়ে উঠেছে রাঙ্গামাটির পাহাড়। সাধারণ মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা। গত মঙ্গলবার একই দিনে রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর ও জুরাছড়ি উপজেলায় দুইজনকে গুলিতে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। আর বিলাইছড়িতে অপর একজনকে কুপিয়ে আহত করা হয়।

নিহতরা হলেন- নানিয়ারচরের সাবেক চেয়ারম্যান অনাদি রঞ্জন চাকমা, জুরাছড়ি যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অরবিন্দ চাকমা। বুধবার নিহতদের ময়না তদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আহত রাসেল চাকমাকে রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত রাসেল চাকমা ও নিহত অরবিন্দ চাকমার ভাই সত্য প্রিয় চাকমা ঘটনার জন্য দায়ী করেন স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এ সব ঘটনা ঘটানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার। পাহাড় থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

হত্যাকাণ্ড দুইটিকে টার্গেট কিলিং বলে ধারণা  পুলিশের। তবে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলো আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি করবে না বলে জানান রাঙ্গামাটির পুলিশ সুপার সাইদ তারিকুল হাসান।

এদিকে এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রাঙ্গামাটিতে আজ বৃহস্পতিবার সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে রাঙ্গামাটি জেলা যুবলীগ। বুধবার বিকালে রাঙ্গামাটির নিউ কোর্ট বিল্ডিং এলাকায় এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে রাঙ্গামাটি জেলা যুবলীগ সভাপতি ও পৌর মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী এই হরতালের ঘোষণা দেন। এর আগে রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ অঙ্গ সংগঠনসমূহের উদ্যোগে রাঙ্গামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গণ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে কোর্ট বিল্ডিং এলাকায় এসে সমবেত হয়।

সমাবেশে রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদারের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হাজী কামাল উদ্দিন, আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য মুছা মাতব্বর প্রমুখ।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশ সংবিধান, ভৌগোলিক অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব মেনে যে কোনো ব্যক্তির রাজনীতি করার অধিকার আছে এবং এই অধিকার খর্ব হোক তা আমরা চাই না; কিন্তু অধিকারের নামে, রাজনীতির নামে মানুষ হত্যা করা, সন্ত্রাসী কার্যাকলাপে লিপ্ত হওয়া এবং অবৈধ অস্ত্র নিয়ে অবাধে চলাফেরাটাকে আমরা রাজনীতি মনে করি না। এদিকে এই ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার জুরাছড়ি উপজেলায় পালন করা হয় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৯ অক্টোবর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৪২
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫২
মাগরিব৫:৩৩
এশা৬:৪৪
সূর্যোদয় - ৫:৫৭সূর্যাস্ত - ০৫:২৮