সারাদেশ | The Daily Ittefaq

মির্জাপুরে স্বাধীনতার ৪৬ বছরেও বীরাঙ্গনার খেতাব পাননি ববিজান

মির্জাপুরে স্বাধীনতার ৪৬ বছরেও বীরাঙ্গনার খেতাব পাননি ববিজান
মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা১৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং ০১:০৩ মিঃ
মির্জাপুরে স্বাধীনতার ৪৬ বছরেও বীরাঙ্গনার খেতাব পাননি ববিজান

মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকহানাদার বাহিনী ও এদেশীয় রাজাকার আলবদর বাহিনীর হাতে নির্মম নির্যাতনের শিকার বীরাঙ্গনা ববিজানের জীবন চলছে অতি কষ্টে। কোনোদিন খেয়ে আবার কোনোদিন না খেয়ে চলছে তার সংসার।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বীরাঙ্গনা, মানে সাহসী নারী। মুক্তিযুদ্ধের সময় ধর্ষিত নারীদের এই খেতাব দিয়েছেন বাংলাদেশ সরকার। কিন্তু সামাজিকভাবে হয়রানি হওয়ার ভয়ে অনেকেই তা জানাতে নারাজ। একজন বীরাঙ্গনা নারী  ববিজান  বেগম। মাত্র ১৩ বছর বয়সে একই গ্রামের দবু খাঁর ছেলে দুদু খাঁর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তিনি গ্রামের গৃহবধূদের মধ্যে ছিলেন সুন্দরী। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়। এ সময় তার বয়স ছিল ১৯ বছর এবং টগবগে। পাকবাহিনীর গণধর্ষণের মতো পাশবিক অত্যাচারে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে তারা চলে গেলে আশপাশের বাড়ির লোকজন তাকেসহ আরো কয়েকজনকে উদ্ধার করে চিকিত্সা দেন। এতে তিনি সুস্থ হলেও ধর্ষিতা হওয়ার অপরাধে তাকে স্বামীর সংসার ছাড়তে হয়। পরে সাত বছরের সংসার জীবনের এক বছরের শিশুকন্যা রহিমা আক্তারকে নিয়ে তাকে বাধ্য হয়ে বাবার বাড়ি চলে যেতে হয়।

এদিকে সেখানে সত্ মায়ের অভাবের সংসারে বেশি দিন ঠাঁই হয়নি ববিজান বেগমের। দেশ স্বাধীনের কিছুদিন পর ময়মনসিংহের আব্দুল মালেক নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তার দ্বিতীয় বিয়ে হয়। এরপর এক  ছেলে রফিকুল ইসলামের জন্ম হয়। কিন্তু মালেকের আগের স্ত্রী-সন্তান থাকায় সেখানেও টিকতে পারেননি তিনি।  ছেলে রফিকুলকে নিয়ে ফিরে আসেন বাবার বাড়ি বাঁশতৈল গ্রামে।

বাবা আরাদন আলী মারা যাবার পর সত্ মায়ের সংসারে ঠাঁয় হয়নি তার। তিনি সরকারি একটু জমিতে ঘর তুলে ছেলে রফিকুল ও  মেয়ে রহিমাকে নিয়ে বসবাস শুরু করেন। শিশু  ছেলে-মেয়ে নিয়ে ভিক্ষা করে খেয়ে না খেয়ে চলতে থাকে তার সংসার। তার এমন দুরবস্থা দেখে বাঁশতৈল গ্রামের বৃদ্ধ ইয়াদ আলী নিজেকে সেবাযত্ন করার জন্য ববিজানকে স্ত্রীর মর্যাদা দেন। ইয়াদ আলী মারা যাবার পর অসহায়তার কারণে সরকারি বনাঞ্চলের রিজার্ভের একটি প্লট পান ববিজান বেগম। সেখানে ছেলে-মেয়ে নিয়ে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু তার সেই প্লটটি নিয়েও একই গ্রামের গফুর মিয়ার ছেলে নুরু মিয়াসহ আরও কয়েকজন মিলে নানাভাবে হয়রানি করে আসছে। বয়স হওয়ায় ববিজান এখন কানে কম  শোনেন, স্মৃতিশক্তিও কমে গেছে। কাজ কাম করতে না পারায় ছেলের সংসারে খেয়ে না খেয়ে কাটছে। তবু বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা এমনকি পাননি ভিজিডি কার্ড। পাননি সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধাও।

এ ব্যাপারে বাঁশতৈল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো.আতিকুর রহমান মিল্টন বলেন, ববিজান খুবই অসহায়। প্রশাসন তার কোন খোঁজ-খবর রাখেনি। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৮ জুলাই, ২০১৮ ইং
ফজর৩:৫৬
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৫১
এশা৮:১৩
সূর্যোদয় - ৫:২১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৬