সারাদেশ | The Daily Ittefaq

গান শুনিয়ে সহযোদ্ধাদের উজ্জীবিত করা সৈয়দ আলীর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি মেলেনি

গান শুনিয়ে সহযোদ্ধাদের উজ্জীবিত করা সৈয়দ আলীর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি মেলেনি
রাজবাড়ী প্রতিনিধি১৯ ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং ০০:৩০ মিঃ
গান শুনিয়ে সহযোদ্ধাদের উজ্জীবিত করা সৈয়দ আলীর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি মেলেনি

তরতাজা সুঠাম দেহের এক তরুণ সৈয়দ আলী মোল্লা। স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন একদল মুক্তিযোদ্ধা তাকে নৌকার বইঠা টানার দায়িত্ব দিয়েছিল। তারপর থেকে তিনি শুধু নৌকার মাঝি হয়েই থাকেননি, মুক্তিযোদ্ধাদের উজ্জীবিত করেছেন ‘মুজিব বাইয়া যাওরে নির্যাতিতা দেশের মাঝে জনগণের নাওরে মুজিব বাইয়া যাওরে’ গান শুনিয়ে। নৌকার মাঝি হয়েও দেশকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাত থেকে রক্ষার্থে অংশগ্রহণ করেন মহান মুক্তিযুদ্ধে। তিনি যুদ্ধকালীন  নদীর মধ্যে পাক সেনাদের গুলিতে আহতও হন।

স্বাধীনতার ৪৬ বছরেও সেই সৈয়দ আলীর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি মেলেনি। সর্বশেষ মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাইতে আবেদন করেও রয়েছেন দ্বিধাভুক্তির তালিকায়। আর তাই ৬৭ বছর বয়সেও নৈশপ্রহরীর চাকরি করে জীবিকা নির্বাহ করতে হচ্ছে তাকে। সৈয়দ আলী রাজবাড়ী জেলা সদরের রামকান্তপুর ইউনিয়নের বেথুলিয়া গ্রামের মৃত মইজদ্দিন মোল্লার ছেলে।

সৈয়দ আলী জানান, তারা ছিলেন ৩ ভাই। পরিবারে অভাব থাকায় স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে তিনি আলাদিপুর গ্রামে হোসেন আলী দেওয়ানের বাড়িতে থেকে কাজ করতেন। এরপর যুদ্ধ শুরু হলে হোসেন আলী দেওয়ান যুদ্ধে অংশ নেন। যুদ্ধে যাওয়ার আগে তিনি তাকেও সঙ্গে করে নিয়ে যান। শরীরে শক্তি থাকায় তাকে নৌকার মাঝির দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাদের নৌকায় মোট ৫জন মাঝি ছিল। একটি বড় নৌকায় তারা মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যেতেন। রাইফেল হাতে যুদ্ধও করেছেন নিউকোলনী, ২৮ কোলনী, গোলঘর ও আলাদিপুর নামক স্থানগুলোতে। প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন চরনারায়নুর স্কুল গনি মিয়ার ক্যাম্পে।

তিনি আরো  জানান, বসত বাড়ির ২২শতাংশ জমি ছাড়া তার আর কিছুই ছিল না। ওই ২২শতাংশ জমি ৬ মেয়ে ও এক ছেলেকে ভাগবাটোয়ারা করে দেওয়ার পর তিনি পেয়েছেন মাত্র ৫শতাংশ। স্ত্রী ভানু খাতুন এখনো বেঁচে থাকায় তারা দুজন থাকেন ছোট্ট একটি ছাপড়া ঘরে। কয়েক বছর আগে একমাত্র ছেলেকে বিয়ে দিয়েছেন। স্ত্রীকে নিয়ে একই বাড়িতে সে পৃথকভাবে বসবাস করে।

এ বিষয়ে যুদ্ধকালীন কমান্ডার ডাঃ কামরুল হাসান লালী বলেন, সৈয়দ আলী আমাদের নৌকার মাঝি ছিল। এছাড়াও সে আমাদের সঙ্গে কয়েক স্থানে যুদ্ধে অংশ নেয়। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্তি হয়নি। এটা খুবই দুঃখজনক।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২১ জুন, ২০১৮ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১২:০০
আসর৪:৪০
মাগরিব৬:৫১
এশা৮:১৬
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৬