সারাদেশ | The Daily Ittefaq

হতদরিদ্র শারমিনের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করল আকিজ মেডিকেল কলেজ

হতদরিদ্র শারমিনের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করল আকিজ মেডিকেল কলেজ
অনলাইন ডেস্ক২৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং ১৪:০৩ মিঃ
হতদরিদ্র শারমিনের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করল আকিজ মেডিকেল কলেজ
শারমিন আক্তার ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করবে সে। রিক্সা চালক দরিদ্র পিতার সাধ্যে না কুলালেও মেয়েকে ডাক্তার বানানোর স্বপ্ন পূরণ থেকে পিছু হটেন নি। অবশেষে চলতি বছর বেসরকারী আদ্-দ্বীন আকিজ মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছে শারমিন।
 
খুলনা-যশোর মহাসড়কের পাশে আদ্-দ্বীন আকিজ মেডিকেল কলেজটি অবস্থিত। সুন্দর-নিরিবিলি পরিবেশে আদ্-দ্বীন আকিজ মেডিকেল কলেজ এ চলতি বছরে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে পারায় ভীষণ খুশি শারমিন আক্তার ও তার বাবা হারুন-অর-রশীদ।
 
বয়রা ডাক বিভাগীয় মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে গোল্ডেন এ প্লাস পাওয়ার পর খুলনা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসিতেও এ প্লাস পান। এমবিবিএস পরীক্ষার রেজাল্টে স্কোর করেন ২৬৪.২৫। ৬২৫৮ পজিশন অর্জন করেন।
শারমিন আক্তার বলেন, সরকারি মেডিকেলে চান্স না পাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম। অনেক টেনশনের মধ্যে ছিলাম। দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দিয়েছি। সব বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা শেষ, কোথাও ভর্তি হতে পারিনি। অবশেষে আদ্-দ্বীন আকিজ মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে পেরে আমি ভীষণ খুশি এবং আল্লাহর কাছে অনেক শুকরিয়া। ছোটবেলা থেকে বাবা-মার স্বপ্ন ছিলো ডাক্তার হওয়ার। আমি সেভাবে পড়াশোনা করেছি। আদ্-দ্বীন আকিজ মেডিকেল আমাদের যে সুযোগ দিয়েছে তাতে আমরা তাদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ। তারা সুযোগ না দিলে আমাদের স্বপ্ন পূরণ হতো না।
 
 
আবেগাপ্লুত শারমিন বলেন, অভাব আর অনটনের জীবন যুদ্ধে বেশ কয়েকটি বিজয় এসেছে আমার। তার মধ্যে সবচেয়ে বড় হল মেডিকেল কলেজে পড়ার সুযোগ পাওয়া।
 
শারমিনের স্বপ্নপূরণের পেছনের কথাগুলো জানতে চাইলে তার পিতা হারুন-অর-রশীদ বলেন, আমার জায়গা জমি কিছুই নেই। খুলনা মহানগরীর ছোট বয়রা মসজিদ বাড়ি রোডে পরের জায়গায় ঘর তুলে থাকি। একটা ভাঙ্গা রিকশা চালিয়ে কোনো মতে সংসার চালাই। শারীরিক অক্ষমতার কারণে বেশি সময় রিকশা চালাতে পারি না। মেডিকেলের আশেপাশে রিকশা চালানোর সময় অনেক শিক্ষার্থী ও ডাক্তারের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। তারা বিভিন্ন সময় আমার মেয়ের পড়ালেখার খোঁজ খবর নেয়। আমি তাদের জানাই মেয়েটার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন, কিন্তু অভাব-অনটনের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। তারা আমাকে আদ্-দ্বীন আকিজ মেডিকেল কলেজের দরিদ্র্য কোঠায় ভর্তি সুবিধার কথা বলেন।
 
 
তিনি বলেন, এরপর আমি আদ্-দ্বীন গিয়ে যোগাযোগ করলে তারা কাগজপত্র জমা দিতে বলেন। জমা দেওয়ার পর আমাদের জানানো হয় ভাইবা হবে। ভাইবার দিন আসলে তারা আমার আয় ব্যয়সহ সব খোঁজ খবর নেয়। এবং দরিদ্র কোঠায় ভর্তি নেয়’।
 
আদ্-দ্বীন আকিজ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ড. পরিতোষ কুমার রায় বলেন, আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের এ অঙ্গ প্রতিষ্ঠানটির মূল উদ্দেশ্য সুবিধা বঞ্চিত মানুষকে সেবা দেওয়া এবং গরিব, মেধাবী শিক্ষার্থীদের কোঠায় পড়ালেখার সুযোগ দেওয়া। ৫ জনের ভাইবা নেওয়া হয়। তার মধ্য থেকে তিনজনকে পড়ালেখার সুযোগ দেওয়া হয়। যার মধ্যে শারমিন একজন। তার বাবা হতদরিদ্র রিকশাচালক। অদম্য এ মেধাবীর মেডিকেল কলেজে পড়ার সব খরচ বহনের দায়িত্ব নিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
 
ইত্তেফাক/রেজা
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৯ জানুয়ারী, ২০১৮ ইং
ফজর৫:২৩
যোহর১২:১০
আসর৪:০০
মাগরিব৫:৩৯
এশা৬:৫৫
সূর্যোদয় - ৬:৪২সূর্যাস্ত - ০৫:৩৪