সারাদেশ | The Daily Ittefaq

নিষিদ্ধ ঘোষিত এনজিওর সন্ধানে প্রশাসন তৎপর

নিষিদ্ধ ঘোষিত এনজিওর সন্ধানে প্রশাসন তৎপর
উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা১২ জানুয়ারী, ২০১৮ ইং ২২:১৭ মিঃ
নিষিদ্ধ ঘোষিত এনজিওর সন্ধানে প্রশাসন তৎপর
ছবিটি সংগৃহীত
 
মিয়ানমার সামরিক জান্তার নির্যাতনের শিকার হয়ে এদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছে ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা। এসব রোহিঙ্গাদের কক্সবাজার জেলায় ১২টি ক্যাম্প করে আশ্রয় দেয়া হয়েছে। ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের মানবিক সাহায্য দিচ্ছে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন এনজিও সংস্থা। 
 
রোহিঙ্গাদের একটি গ্রুপ স্বীকার করছেন সরকারিভাবে নিষিদ্ধ ঘোষিত এনজিও বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গোপনে কার্যক্রম চালাচ্ছে। সম্প্রতি স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতার বাড়িতে ব্যানার টাঙিয়ে লস্করে-ই-তৈয়বা নামের পাকিস্তান ভিত্তিক একটি সংগঠন রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছে। এ ঘটনা নিয়ে প্রশাসন তৎপর হলে ওই এনজিওটি আত্মগোপন করে। তবে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন সংস্থা ওই এনজিওটির সন্ধানে ক্যাম্পে বিশেষ করে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে উৎপেতে অবস্থান করছে বলে সূত্রে জানা গেছে। 
 
যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকাভুক্ত পাকিস্তানভিত্তিক এনজিও ফালাহ-ই-ইনসানিয়াত ফাউন্ডেশন (এফআইএফ) নামের এ সংগঠনটির কারণে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের বিদ্যমান সুসম্পর্কের মধ্যে ফাটল সৃষ্টি চেষ্টা করছে বলে রোহিঙ্গা নেতারা দাবী করে জানান, ইতিমধ্যেই নিষিদ্ধ ঘোষিত ১২টি এনজি সংস্থার গোপনে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তারা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিরোধী অপতৎপরতায় লিপ্ত থেকে রোহিঙ্গা বিভিন্ন আর্থিক অনুদান ও বিতরণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 
 
জানা গেছে, পাকিস্তানের করাচিতে এফআইএফের প্রধান কার্যালয় অবস্থিত। এ সংস্থাটি উখিয়া ও টেকনাফের কয়েকজন জামায়াতপন্থী প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির ছত্রছায়ায় উখিয়ার কুতুপালং, টেকনাফের হোয়্যাইকং ও শামলাপুরে এ তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এসব কার্যক্রম চালানোর জন্য তিন ক্যাম্পে তাদের তিনজন জনপ্রতিনিধি সংস্থাটি নিয়োগ করলেও তারা রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। 
 
শুক্রবার ক্যাম্পে কর্মরত এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার সাথে আলাপ করা হলে তিনিও জানান, লস্করে-ই-তৈয়বার কার্যক্রম চালাচ্ছে কুতুপালংয়ের এক প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি। তবে হাতে নাতে প্রমাণ করতে না পারার কারণে তাকে ধরা যাচ্ছেনা। তিনি আরো বলেন, আজ না হোক কাল এসব দেশদ্রোহী ব্যক্তিদের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ধরতে সক্ষম হবে। কারণ তাদের পেছনে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সোর্স ও রোহিঙ্গাদের মধ্য থেকেও লোকজন লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে। 
 
কুতুপালং বস্তি ম্যানেজমেন্ট কমিটির সেক্রেটারি মোহাম্মদ নুর জানান, বেশ কয়েকদিন আগে লস্করে-ই-তৈয়বার নামে পাকিস্তানভিত্তিক এনজিও ফালাহ-ই-ইনসানিয়াত ফাউন্ডেশন (এফআইএফ) একটি সংগঠন রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছে। তাদের সমস্ত দায়দায়িত্বে ছিল স্থানীয় একজন প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি। গত কয়েকদিন থেকে ওই এনজিওটি উধাও। তবে তাদের কিছু কর্মী গোপনে ক্যাম্পে কাজ করলেও তাদের শনাক্ত করা যাচ্ছে না।  
 
উখিয়ার বালুখালী, কুতুপালং, আঞ্জুমানপাড়া ও নয়াপাড়া রোহিঙ্গাসহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে থাকা সন্দেহভাজন বিদেশী নাগরিক ও এনজিওর গোপন তৎপরতা লক্ষ্য করে গোয়েন্দা সংস্থা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ৭দফা সুপারিশ করেন। তৎমধ্যে কোডেক, এমডিএস, মোয়াসসহ ৪টি এনজিওর বিদেশি কর্মকর্তারা এদেশে ঘন ঘন আসা-যাওয়া করে রোহিঙ্গাদের ধর্মীয় অনুভূতি ও মানবিক বিষয়কে পুঁজি করে বায়োমেট্টিক পদ্ধতি গ্রহণে অনিচ্ছুক, ভাসানচরে স্থানান্তর প্রক্রিয়া রোহিঙ্গা নিরুৎসাহিত করাসহ মিয়ানমারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বিঘ্ন সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে। এমনকি তারা রোহিঙ্গাদের এসব কাজের জন্য নগদ টাকাও গোপনে বিতরণ করছে। যে কারণে গোয়েন্দা সংস্থার সন্দেহ আরো ঘনীভূত হয়। যার ফলে সরকার ওই ৪টি এনজিওসহ আরো ১২টি এনজিওর কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিলেও তারা গোপনে অপতৎরপতা চালিয়ে যাচ্ছে বলে রোহিঙ্গা নেতাদের অনেকেই স্বীকার করলেও তাদের নাম প্রকাশ করতে অনিহা প্রকাশ করেন। 
 
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব সনজীদা শারমিন স্বাক্ষরিত পরিপত্র অনুযায়ী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত ১২টি এনজিও সাফ্জ, কালব, ওফকা, জাগরণ, এমপিডিআর, মানবাধিকার, শেড ওয়াশ, টাই বিডি, এসআরপিবি, গ্রামীণ ব্যাংক, লাচুন ও শিলাফ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান বলেছেন, গত ২৯ নভেম্বর থেকে এ উল্লেখিত ১২ এনজিও বিরুদ্ধে ক্যাম্পে কার্যক্রম বন্ধের আদেশ কার্যকর হয়। 
 
রোহিঙ্গা ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম বলেন, এফআইএফ নামের একটি এনজিও ছাড়াও বেশ কিছু অনুমোদিত এনজিও কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরে কিছু ত্রাণ সামগ্রী ও শীতবস্ত্র বিতরণের খবর আমরা পেয়েছি। তারা অনুমতি কিভাবে পেল কিংবা অনুমতি ছাড়াই তারা কাজ করছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 
 
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল বলেন, রোহিঙ্গা শিবিরে কোনো নিষিদ্ধ সংগঠন বা এনজিওকে কাজ করতে দেয়া হবে না। অনুমতিবিহীন কিছু সন্দেহভাজন এনজিওর একটি তালিকা করা হয়েছে। তাদের ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫১
আসর৪:১২
মাগরিব৫:৫৬
এশা৭:০৯
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫১