সারাদেশ | The Daily Ittefaq

চার গডফাদারের নেতৃত্বে চুয়াডাঙ্গার ইয়াবা ব্যবসা

চার গডফাদারের নেতৃত্বে চুয়াডাঙ্গার ইয়াবা ব্যবসা
আবুল খায়ের০১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ইং ২৩:৫৬ মিঃ
চার গডফাদারের নেতৃত্বে চুয়াডাঙ্গার ইয়াবা ব্যবসা

সারাদেশে কারা ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত, কিভাবে ব্যবসা চলছে, কোন কোন রুটগুলো ব্যবহূত হচ্ছে, বেচাকেনা হয় কোথায়, তার একটি তালিকা প্রণয়ণ করা হয়েছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে এ তালিকা করা হয়। পুলিশ শীর্ষ পযায়ে এ তালিকা জমা আছে। এই তালিকায় থাকা সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গা জেলায় ইয়াবা ব্যবসার চিত্র ইত্তেফাকের কাছে এসেছে। এতে দেখা গেছে, চুয়াডাঙ্গায় ইয়াবা ব্যবসার গডফাদার আছেন ৪ জন। ব্যবসায়ী আছেন ৬৮ জন। এ জেলায় ইয়াবা পাচারে ৭টি রুট ব্যবহার করা হয়।

চুয়াডাঙ্গা জেলায় ইয়াবা ব্যবসার ৪ জন গডফাদার হলেন জীবননগর উপজেলার সোহরাব হোসেন ওরফে সুরো উদ্দিন, ছোট বাবু, দামুড়হুদা উপজেলার মো. আরিফ হোসেন ও মো. আলী মনছুর বাবু। এদের মধ্যে মো. আরিফ হোসেন দামুড়হুদার পাশাপাশি জীবননগর উপজেলার ইয়াবা ব্যবসাও দেখভাল করেন। এদিকে এ জেলার ৬৮ ইয়াবা ব্যবসায়ীরা হলেন দামুড়হুদা উপজেলার মো. আনার, মো. বাবু, মো. চাটাই,  মো. নফর আলী, মো. মামুন, মো. এলপি, মো. স্বপন আলী, মো. সাঈদ মন্ডল, বনানীপাড়ার মো. সিরাজুল ইসলাম, মো. জহিরুল ইসলাম, জীবন নগর উপজেলার মো. নাজিম, মো. পল্টু, মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, মো. মশিউর রহমান, মো. তোতা মিয়া, মো. বাবু মিয়া, মো চুন্নু মিয়া, মো. রেজাউল, মো. রফিক উদ্দিন, ইমরান হোসেন, মো. আব্দুল হাকিম, মো. রানা/রাঙ্গা, মো. জহিরুল, মো. বশির, মো. মুক্তার হোসেন, মো. আনার, মো. ইয়ার আলী, মো. কদর আলী, মো. বাবলু, মো. আলম, মো. মিলন, কো. কালাম, মো. জামাল, মো. কদর, মো. ডাবলু, মো. রফিকুল, মো. সামাদ, মো. শওকত, ছোট, লিয়াকত আলী, হাবিবুল, মো. হাফিজ, মো. জিয়া, মো. পল্টু, মো. আলমগীর, মো. ভোদো, ইনা, বুড়ি, মো, কামাল মন্ডল, মো. সাইদুর, মো. বাবুল, মো. আমিরুল, মো. ভুট্ট, মো. তোতা মিয়া, মো. জাকির হোসেন, মো. বাপ্পি, মো. শাহিন,  মো. শাকিল, মো. আশরাফ, মো. নাজমুল, মো. নাসির, মো. ইদবারী, মো. দুধবারী, মো. কবির, মো. বাশার, মো. জমসের, চুয়াডাঙ্গা সদরের মো. একরামুল হক ও মো. আব্দুল হাকিম।

সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় ইয়াবাসহ মাদক পাচারের ৭টি রুট আছে। এসব রুট হলো- রুট ১. জীবননগর উপজেলার বেনীপুর, মেদেনীপুর গয়েশপুর, হরিহরনগর, রাজাপুর থেকে জীবননগর-হাসাদহ-খালিশপুর-কোটচাঁদপুর হয়ে কালীগঞ্জ। রুট ২. একই এলাকা থেকে জীবননগর-হাসাদহ-কাটাপোল-বালীহুদা-আন্দোলবাড়ীয়া-খাড়াগোদা-সরোগঞ্জ ও বদরগঞ্জ বাজার হয়ে কালীগঞ্জ। রুট ৩. একই এলাকা থেকে জীবননগর-উথলী-দোস্ত-হিজলগাড়ী-খাড়াগোদা-সরোগঞ্জ ও বদরগঞ্জ বাজার হয়ে ঝিনাইদহ। রুট ৪. দর্শনা, নিমতলা, জয়নগর, সুলতানপুর, কামারপাড়া, সিংনগর থেকে দোস্ত-হিজলগাড়ী-খাড়াগোদা-সরোগঞ্জ ও বদরগঞ্জ বাজার হয়ে ঝিনাইদহ।  রুট ৫. একই এলাকা থেকে দোস্ত-হিজলগাড়ী-খাড়াগোদা-সরোগঞ্জ ও বদরগঞ্জ বাজার হয়ে ঝিনাইদহ। রুট ৬. একই এলাকা থেকে দামুড়হুদা-চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা হয়ে পোড়াদহ, কুষ্টিয়া ও ভেড়ামারা। রুট ৭. ঠাকুরপুর, মুন্সিপুর, পীরপুরকুল্লা থেকে কার্পাসডাঙ্গা-চিত্লার মোড়-কলাবাড়ী রামনগর-ভালাইপুর মোড়-আসমান খালী-হাটবোয়ালিয়া-কাতলামারী হয়ে মিরপুর ও ভেড়ামারা। এছাড়া চুয়াডাঙ্গা জেলার সীমান্তে জীবননগর উপজেলার বেনীপুর, হরিহরনগর, রাজাপুর, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শিংনগর এবং দামুড়হুদা উপজেলার নিমতলা, জয়নগর, সুলতানপুর, কামারপাড়া, হুদোপাড়া, ফুলবাড়ী, ঠাকুরপুর, মুন্সিপুর ও পীরপুরকুল্যা সীমান্ত এলাকা সমূহ ইয়াবাসহ চোরাচালানের রুট হিসেবে ব্যবহূত হয়ে থাকে। ট্রেন, বাস, ট্রাক, মাইক্রো, কাভার্ড ভ্যান, রোগীদের বহনকারী প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স, নসিমন ও করিমন যোগে এসব মাদক বহন করা হয়।

ইয়াবাসহ মাদক বেচাকেনার স্পট ও স্থাপনাসমূহ

জেলার চারটি উপজেলায় অসংখ্য স্থানে ইয়াবাসহ মাদক বেচাকেনা হয়। এসব স্থান ও স্থপনাগুলো হলো-সদর উপজেলার মাথাভাঙ্গা ব্রিজের নিচে কাচা বাজার সংলগ্ন হাতিকাটা মাঠ, শান্তিপাড়া হোমিও কলেজের পাশে (শিপরা এর বাড়ী), দৌলতদিয়াড় টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের সামনে, মাছ-মাংস পট্রি, মাছের আড়ত্ এর পিছনে সুইপার পট্রি (ভিরুর বাড়ী), রেল কলোনীর সুইপার পট্রি (গোবিন্দর বাড়ী), সাতগাড়ী, ডিঙ্গেদহ (খাজুরা রোডের গ্রামীণ ফোন টাওয়ার এর পাশে মো. কাচু ও আমজাদ খুড়ার চায়ের দোকান), জালশুকা (গোরস্থানের পাশে আসাদুল এর বাড়ী), জাফরপুর (বিজিবি ক্যাম্পের পিছনে খলির হাজাম এর বাড়ী), আকন্দবাড়ীয়া প্রায়ই বাড়ীতেই, হিজলগাড়ী (হিজলগাড়ী বাজারের পাশে হাতেম এর বাড়ী), দোস্ত আমতলা (সামাদ এর বাড়ী), বড় শুলিয়া কাছারিপাড়া (মন্টুর বাড়ী), বোয়ালমারী (বড় মসজিদের পাশে সালাম এর বাড়ী)।

দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা হল্ট স্টেশন পাড়া, ঈশ্বরচন্দ্রপুরে প্রায় বাড়িতে, কেরু হাসপাতাল পাড়া (বরজান, পচা, আনোয়ার, পুটি বাবু, শংকর ও গোপাল এর বাড়ী), দর্শনা মাইক্রো স্ট্যান্ড এর পাশে (সুইপার পট্রি), দর্শনা আন্তর্জাতিক রেল স্ট্রেশনের বিপরীতে, জয়নগর (মহসিন আলীর বাড়িতে), মুন্সিপুর (ইসমাইল, তারিক ও ওয়াসিম এর বাড়ি), কার্পাসডাঙ্গা (আব্দুল বারেকের বাড়ি)। আলমডাঙ্গা উপজেলার ক্যানাল পাড়া (রহিন, লাল্টু ও জাহিদের বাড়ি, টকিজ সিনেমা হলের পিছনে), বাবুপাড়া (বিটিম মাঠের পাশে, পীর সাহেবের বাগান), স্টেশনপাড়া (আলাউদ্দিন ও ছোকুর বাড়ি, গ্রামীণ ফোন টাওয়ারের পাশে), মাছ বাজার, রাধিকাগঞ্জ (পশু হাটের পাশে), মুন্সিগঞ্জ মদন বাবুর মোড় (আনছার আলীর বাড়ী), কলেজ পাড়া (রাজ্জাকের বাড়ি), হাটবোয়ালিয়া (তাইজেলের বাড়ি), হারদী (হারদী হাসপাতালের পাশে সাধুর বাড়ী)। জীবননগর উপজেলার কাঁচা বাজার পট্রি, আড়ত্ পট্টি (গঙ্গার চায়ের দোকান), সোনা পট্টির গলির ভিতর (বিপ্লবের প্লাস্টিকের দোকান), সোনা পট্টির গলি ভিতর (মাধবের প্লেন সীটের দোকান), মেদেনীপুর (তালেবের বাড়ী)।

চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান বলেন, গত ২৪ ঘন্টায় সদর উপজেলা এলাকা থেকে বড় মাপের দুই মাদক ব্যবসায়িসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা এ এলাকার মাদক ব্যবসা সম্পর্কে অনেক তথ্য দিয়েছে এবং জড়িতদের নাম ঠিকানাও বলেছে। পুরো জেলার মাদক নিয়ন্ত্রণে চলছে অভিযান।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩৪
যোহর১১:৫১
আসর৪:১১
মাগরিব৫:৫৪
এশা৭:০৭
সূর্যোদয় - ৫:৪৮সূর্যাস্ত - ০৫:৪৯