সারাদেশ | The Daily Ittefaq

গৌরনদীতে ভবনঘেঁষা বৈদ্যুতিক তার যেন মরণফাঁদ

গৌরনদীতে ভবনঘেঁষা বৈদ্যুতিক তার যেন মরণফাঁদ
গৌরনদী (বরিশাল) সংবাদদাতা১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ইং ২৩:২৭ মিঃ
গৌরনদীতে ভবনঘেঁষা বৈদ্যুতিক তার যেন মরণফাঁদ

বরিশালের গৌরনদীতে ঘর-বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ভবন ঘেঁষা পল্লী বিদ্যুতের তারগুলো এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। ওইসব তারে জড়িয়ে অসংখ্য প্রাণহানীসহ দুর্ঘটনা ঘটছে অহরহ।

পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিসের পার্শ্ববর্তী গৌরনদী বন্দর, চরগাধাতলী এলাকায় গত কয়েক বছরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ব্যবসায়ী, দিনমজুরসহ কয়েকজন লোকের প্রাণহানি ঘটেছে। কিন্তু এ নিয়ে নিরব রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। ফলে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও আতংক বিরাজ করছে।

গত রবিবার সকালে সরেজমিনে গৌরনদী বন্দর এলাকায় দেখা গেছে ভয়াবহ চিত্র! বহু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পাকা ভবন ঘেঁষে ঝুলছে ১১ হাজার ভোল্টের, ৪৪০ ভোল্টের ও ২২০ ভোল্টের খোলা তার। এ কারণে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন ব্যবসায়ীসহ অন্যরা।  দ্রুত খোলা তার গুলো কভারিং করা না হলে অথবা লাইনগুলো অপসারণ করা না হলে বড় রকমের অঘটন ঘটতে পারে বলে আশংকা করছেন এলাকাবাসী।

জানা গেছে,গত ২০ জানুয়ারি গৌরনদী বন্দরের ফ্যাশন বাজার নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের দোতলা ভবনের ছাদে একটি সাইনবোর্ড লাগাতে গিয়ে ভবন ঘেঁষা ১১ হাজার ভোল্টের তারে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন জামাল হোসেন মিয়া (৪৫) নামের এক ব্যবসায়ী। একই সাথে ব্যবসায়ীর বোন ও ওই ভবনের একটি বিউটি পার্লারের মালিক কনা বেগম (৩৫) গুরুতরভাবে আহত হন। এ দুর্ঘটনার কারণে পরিবার ২টি মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

বছর দুয়েক আগে গৌরনদী বিদ্যুৎ অফিস সংলগ্ন ব্যাংক কর্মকর্তার বাসার ছাদে কাজ করতে গিয়ে ৩৩ হাজার কেভির তারে স্পৃষ্ট হয়ে একজন নির্মান শ্রমিক মারা যায়। তবে নিহতদের পরিবার কোন ক্ষতিপুরণ পায়নি।

এ ব্যাপারে গৌরনদী বন্দরের ফ্যাশন হাউজের ভবনের অর্ধেক অংশের মালিক মোঃ খলিলুর রহমান হাওলাদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমরা ভবন তৈরির আগে বিদ্যুৎ লাইন সরানোর জন্য বিদ্যুৎ অফিসে লিখিতভাবে আবেদন করেছিলাম। বিদ্যুৎ অফিস বলছে ৫০ হাজার টাকা লাগবে। আমরা আর যোগাযোগ করিনি।

এ ব্যাপারে বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ-২ এর গৌরনদী জোনাল অফিসের ডিজিএম কে এম ফজলুল হকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কেউ নিজ প্রয়োজনে বিদ্যুত লাইন সরাতে চাইলে আবেদনপত্রের সাথে নির্ধারিত চার্জ জমা দিতে হবে। এছাড়া বিদ্যুৎ আইন মোতাবেক লাইন থেকে কমপক্ষে ১০ফুট দুরে ঘরবাড়ি দালান-কোঠা নির্মানের বিধান রয়েছে। কিন্তু এ আইন মানছে না কেউ। ঝুঁকির বিষয়টি জেনেও বিদ্যুতের লাইন ঘেষে অনেকেই ঘর-বাড়ি, দোকানপাট ও দালানকোঠা তৈরি করছে। যে কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে। আর এ ধরনের অনাকাংখিত দুর্ঘটনার জন্য বিদ্যুৎ বিভাগ দায়ী নহে, তারা নিজেরাই দায়ী।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৪ মে, ২০১৮ ইং
ফজর৩:৪৭
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩৫
মাগরিব৬:৪১
এশা৮:০৩
সূর্যোদয় - ৫:১২সূর্যাস্ত - ০৬:৩৬