সারাদেশ | The Daily Ittefaq

বদলে যাচ্ছে রূপপুর

বদলে যাচ্ছে রূপপুর
ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতা০৫ মার্চ, ২০১৮ ইং ১৩:৫১ মিঃ
বদলে যাচ্ছে রূপপুর
'এইতো ৫-৬ বছর আগেও দেশের আর পাঁচটি প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামের মতই ছিল আমার জন্মস্থান পাবনা জেলার ঈশ্বরদীর রূপপুর। এখানকার মানুষের জীবনযাত্রা ছিল শান্ত, স্থির ও স্বাভাবিক। সন্ধ্যা নামলেই অন্ধকারে নিমজ্জিত হতো এই গ্রাম। একই অবস্থা বিরাজমান ছিল এর আশেপাশের গ্রামগুলোরও। কিন্তু এখন চিত্র সম্পূর্ণই অন্যরকম। কোনদিন স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি এই অজগাঁয়ে অত্যাধুনিক ২০তলা ভবন নির্মাণ হবে।' কথাগুলো বলছিলেন রূপপুর গ্রামে জন্মগ্রহণকারী পাবনা জেলা পরিষদের নির্বাচিত সদস্য ও পাকশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম বাবু মণ্ডল। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ব্যাপক ও বহুমুখী কাজ পুরোপুরি বদলে দিয়েছে শুধু রূপপুরই নয় ঈশ্বরদী অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা।
 
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ৩৪ একর জমির উপর ২০১৬-২১ মেয়াদে গ্রিনসিটি নির্মাণ কাজ পুরোদমে চলছে। গ্রিনসিটির কাজ বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও গণপূর্ত অধিদপ্তর। গ্রিনসিটির মাস্টার প্লানে দেখা যায়, এমডি'র জন্য দোতালা ডুপ্লেক্স ১টি আবাসিক ভবন, ২ হাজার ৫শ' বর্গফুটের প্রতি তলায় দুই ইউনিটের ৪ তলা (ছয়তলা ভিত) বিশিষ্ট ১টি ভবন, ১ হাজার ৮শ' বর্গফুটের প্রতি তলায় চার ইউনিটের ৪তলা (দশতলা ভিত) বিশিষ্ট ১টি ভবন, ১৫শ' বর্গফুটের প্রতি তলায় চার ইউনিটের ২০তলা (বিশতলা ভিত) বিশিষ্ট ৩টি ভবন, ১২শ' ৫০ বর্গফুটের প্রতি তলায় ছয় ইউনিটের ২০তলা (বিশতলা ভিত) বিশিষ্ট ১৮টি ভবন, ৮শ' ৫০ বর্গফুটের প্রতি তলায় ছয় ইউনিটের ২০তলা (বিশতলা ভিত) বিশিষ্ট ৪টি ভবন, ডরমিটরি কাম মাল্টিপারপাস কমার্শিয়াল ২০তলা (বিশতলা ভিত) ১টি আবাসিক ভবন নির্মাণ হবে।
 
এছাড়াও গ্রিনসিটিতে ১টি দোতালা মসজিদ ভবন, ছয় তলা বিশিষ্ট স্কুল ভবন, দ্বিতল সাব-স্টেশন, জেনারেটর, পাম্প হাউজ ভবন, খেলার মাঠ, গেস্ট হাউজ, ফোয়ারা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। রূপপুরের আকাশে এখন মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে ২০ তলা উঁচু দৃষ্টিনন্দন কয়েকটি ভবন। তিনটি আবাসিক ভবনের কাজ শেষ হয়েছে। সেখানে বিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত রাশিয়ান বসবাসও শুরু করেছে। এই গ্রিনসিটিতে প্রকল্পে কর্মরতরা বসবাস করবে। এখানকার জন্য আলাদাভাবে একটি পাওয়ার সাব স্টেশন ইতোমধ্যেই নির্মাণ করা হয়েছে। আবাসিক কোয়ার্টারগুলোতে আধুনিক সকল সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সরেজমিনে আবাসিক ইউনিটগুলো ঘুরে দেখা যায়, সকল ইউনিটেই আসবাবপত্র সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে। সকল ফ্লাটেই এসি, ইন্টারনেট সংযোগ, টেলিফোন, রান্নার গ্যাস সরবরাহ এমনটি বাথরুমে গিজারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। আধুনিকতার সবকিছুই আবাসিক কোয়ার্টারে বিদ্যমান।
 
অন্যভবনগুলোর নির্মাণ কাজে কর্মরত রয়েছেন কয়েক হাজার শ্রমিক। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ, কর্মকর্তা ও কর্মীদের কর্মচঞ্চলে প্রায় ২৪ ঘণ্টাই মুখর থাকে প্রকল্প এলাকা। এখন সন্ধ্যা হলেই আর আগের মত অন্ধকার নামে না রূপপুরে। রাতের কালো অন্ধকার উদ্ভাসিত হয় ফ্লাড লাইটের উজ্জ্বল আলোয়। কাজ চলে গভীর রাত পর্যন্ত।
 
রূপপুরের প্রাইমারি শিক্ষক আমিরুল ইসলাম বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ আমাদের কাছে স্বপ্নের মতো ছিল। এটি যে বাস্তবে রূপ লাভ করবে তা কখনো কল্পনাও করতে পারিনি। এখন যে আঙ্গিকে আবাসন সিটি নির্মাণ হচ্ছে তা দেখে আমরা হতবাক। এতদিন টেলিভিশনেই এধরণের আধুনিক ভবন দেখেছি। এখন বাড়ির পাশেই নির্মাণ হচ্ছে এই আধুনিক সিটি। তাই রূপপুরের বাসিন্দা হয়ে গর্ববোধ করছি।
 
ইত্তেফাক/এসএস
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩০
যোহর১১:৫৩
আসর৪:১৭
মাগরিব৬:০২
এশা৭:১৫
সূর্যোদয় - ৫:৪৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৭