সারাদেশ | The Daily Ittefaq

শিলাবৃষ্টিতে নিহত ৩ ও আহত ৬৩, ফসলের ক্ষতি

রাজশাহীতে ধূলি ঝড়
শিলাবৃষ্টিতে নিহত ৩ ও আহত ৬৩, ফসলের ক্ষতি
অনলাইন ডেস্ক৩০ মার্চ, ২০১৮ ইং ১৮:২৮ মিঃ
শিলাবৃষ্টিতে নিহত ৩ ও আহত ৬৩, ফসলের ক্ষতি
ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে শুক্রবার সিলেটের ওসমানীনগরে নারী ও শিশু এবং পাবনার ঈশ্বরদীতে  বৃদ্ধা মারা গেছেন। দেশের বিভিন্নস্থানে ৬৩জন আহত হয়েছেন। এদিকে রাজশাহীতে ধূলি ঝড় শেষে হালকা বৃষ্টি হয়েছে।
 
দেশের বিভিন্নস্থানে ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে ঘড়-বাড়ি ও ফসলের। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
 
রাজশাহী: রাজশাহীতে শুক্রবার দুই দফায় ব্যাপক ধূলি ঝড় বয়ে গেছে। শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে প্রথম দফায় নগরীসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে ধূলি ঝড় বয়ে যায়। প্রায় এক ঘণ্টা পর দ্বিতীয় দফায় ধূলি ঝড় শেষে হালকা বৃষ্টিও হয়েছে। তবে তেমন ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। কিছু কিছু স্থানে ঝড়ে ছোট-খাটো ডালপালা ভেঙে পড়ে গেছে। পেঁপে, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসলেরও হালকা ক্ষতি হয়েছে।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক আবদুস সালাম বলেন, ঝড় বয়ে গেলেও এটি কালবৈশাখী নয়। সাধারণত বাতাসের গতিবেগ ২০ নটিকেল মাইল হলে তাকে কালবৈশাখী বলা হয়। কিন্তু শুক্রবার ঝড়ের সময় রাজশাহীতে ঝড়ের গতিবেগ ছিল মাত্র ৮ নটিকেল মাইল। অর্থাৎ এটি কালবৈশাখী নয়। ঝড়ের শেষে মহানগরীসহ আশপাশের এলাকায় সামান্য বৃষ্টি হয়েছে। তবে তা রেকর্ড করার মতো নয় বলে মতামত দেন তিনি।
 
সিলেট অফিস ও ওসমানীনগর সংবাদদাতা: সিলেটের ওসমানীনগরে শুক্রবার বিকেলে প্রায় ২০ মিনিট স্থায়ী ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শত শত গাছ উপড়ে পড়ে। ঝড়ের তাণ্ডবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার শতাধিক ঘরের টিনের চালা উড়ে যায়। টিনের চালায় গলা কেটে এক নারী ও পানিতে ডুবে ১৬ মাসের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
 
স্থানীয় সূত্র জানায় উপজেলার তাজপুর ইউপির দশহাল গ্রামে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে নূরুল আলমের নির্মাণাধীন ঘরের টিন উড়ে গিয়ে গলা কেটে সাবিয়া বেগম (৪৫) নামের এক নারী ঘটনাস্থলেই নিহত হন।  সাবিয়া বেগম বালাগঞ্জ উপজেলার বোয়ালজুরের সোনাপুর গ্রামের খালিছ মিয়ার স্ত্রী বলে ওসমানীনগর থানার ওসি মোহাম্মদ সহিদ উল্যা জানান।
 
এ ছাড়া ঝড়ের সময় পানিতে ডুবে হাসান আহমদ নামের ১৬ মাসের এক শিশুর মৃত্যু হয়। হাসান উপজেলার উমরপুর ইউপির সিকন্দরপুর রং বরং গ্রামের সুমন আহমদের ছেলে। সন্ধ্যায় পুলিশ নিহতের লাশ নিজ বাড়ির পুকুর থেকে তার লাশ উদ্ধার করে।
এদিকে ঝড়ের সময় বজ্রপাতে উপজেলার বুরুঙ্গা ইউপির মুক্তারপুর হাওরের তেতইখালিতে পূর্বতিলা পাড়ার ইউছুফ আলীর ৪টি গরু মারা যায়।
 
ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনিছুর রহমান বলেন, ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। তবে কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে সে হিসেব এখনো নির্ধারণ করা যায়নি। কাল বৈশাখী ঝড়ে উপজেলার পল্লী বিদ্যুতের ৯টি ফিডার লাইনের অর্ধশতাধিক খুঁটি উপড়ে পড়ে গেছে। এতে ওসমানীনগর উপজেলা অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ নেই  বলে জানান পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সিলেট-১ এর জোনাল অফিসের ডিজিএম জহিরুল ইসলাম।
 
গাইবান্ধা: গোবিন্দগঞ্জ, পলাশবাড়ী, সাঘাটা ও সদর উপজেলায় শুক্রবার ব্যাপক শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এতে উঠতি বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসল এবং আমের ক্ষতি হয়েছে। শিলাবৃষ্টির আঘাতে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
সাথিঁয়া ও সুজানগর (পাবনা): সুজানগরে শুক্রবার বিকালে ঝড়ের আঘাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে দুলাই-চিনাখড়া শিবরামপুর আশ্রয়ন প্রকল্প ও এর আশপাশের কাচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ি উড়িয়ে নিয়ে যায় এবং বিপুল পরিমান গাছ ভেঙ্গে যায়। ঝড়ের পরপরই উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের রোকন ও ইউএনও কাওছারুল ইসলাম ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন।
 
পঞ্চগড়: শিলাবৃষ্টিতে ফল ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শুক্রবার ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় শিলাবৃষ্টি ও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হয়। এ সময় প্রচুর পরিমাণে শিলাবৃষ্টি পড়ে। জেলা সদরে ৩৭ মিলিমিটার শিলাবৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। তবে কৃষি বিভাগ তাৎক্ষণিক ক্ষয় ক্ষতির পরিমান জানাতে পারেনি। এদিকে সকাল থেকে গোটা জেলা বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে। বিদ্যুতের অভাবে শহরের মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
 
ঠাকুরগাঁও: সদর উপজেলায় শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে শিলাবৃষ্টি হয়। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি হয়েছে বলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আফতাব হোসেন জানিয়েছেন।
ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতা: ঈশ্বরদীতে শুক্রবার বিকেলে শিলাবৃষ্টিতে বৃদ্ধা মারা গেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে ঈশ্বরদী শহর হতে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামে। নিহত বৃদ্ধা জোমেনা খাতুন ওই গ্রামের মৃত দেলবার সরদারের স্ত্রী।
 
তার ছেলে আলম সরদার জানান, বাড়ির পেছনে ফাঁকা জায়গায় গাছের পাতা ঝাড়ু দিতে গেলে বিকেল চারটার দিকে ঝড় এবং শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। শিলাবৃষ্টির আঘাতে জোমেনা খাতুন ঘটনাস্থলেই মারা যান।
 
কাহারোল (দিনাজপুর): বেলা সোয়া ১১টায় ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের ফসলের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে অনেকের টিন চাল উড়ে গেছে।
 
ঝিনাইগাতী (শেরপুর): ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার উপর দিয়ে প্রচণ্ড বেগে বয়ে যাওয়া ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ফসল, শাক-সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পরে ও গাছের ডাল ভেঙ্গে বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
 
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তা কৃষিবিদ আ. আওয়াল বলেন, ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। তবে কি পরিমানের ক্ষতি হয়েছে তা এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।
 
ডোমার (নীলফামারী): উপজেলায় ৫টি ইউনিয়নের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে প্রায় ১০ হাজার টিনের ঘর ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে নয়টা হতে ১০টা পর্যন্ত আধা ঘণ্টার শিলাবৃষ্টিসহ ঝড়ে আম, লিচু, মরিচ, তামাক, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শিলার আঘাতে প্রায় ৫০জন আহত হয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে।
 
ভোগাডাবুড়ি ইউপি চেয়ারম্যান একরামুল হক জানান, ঝড়সহ শিলাবৃষ্টিতে আমার ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি বাড়িই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শিলার আঘাতে প্রায় ৫ হাজার টিনের চাল ফুটো হয়ে গেছে।
 
কেতকীবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান জহুরুল হক দিপু বলেন, আমার ইউনিয়নের প্রায় আড়াই হাজার ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গোমনাতি ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ বলেন, এ ইউনিয়নে প্রায় দুই হাজার ঘর ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জোড়াবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হাসান বলেন, আমার ইউনিয়নে ৬টি ওয়ার্ডে প্রায় ৫শতাধিক ঘর ক্ষতি হয়েছে। বামুনিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ওহায়েদুজ্জামান বুলেট বলেন, শিলাবৃষ্টিতে এ ইউনিয়নে ৬ শতাধিক ঘর, ফলের গাছ ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
 
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. উম্মে ফাতিমা জানান, উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের উপর দিয়ে ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ঘড়-বাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নিরূপণ করা সম্ভব হয় নাই। আমারা তাৎক্ষণিকভাবে ত্রাণ তহবিল হতে কিছু কম্বল, শাড়ি-লুঙ্গি, শুকনো খাবার ও নগদ টাকা সহায়তা দিচ্ছি। ইউপি চেয়ারম্যানদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও ত্রাণ অধিদফতরে অবহিত করা হয়েছে।
 
চাটমোহর (পাবনা):  চাটমোহরে শুক্রবার বিকেল পৌনে ৩টার সময় ব্যাপক শিলাবৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টির সাথে অসংখ্য ছোট-বড় শিলার আঘাতে আম, লিচু, গমসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পৌর এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের উপর দিয়ে এই শিলাবৃষ্টি হয়।
 
মিঠাপুকুর (রংপুর): বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঝড়ের হানায় মিলনপুর, বালুয়া মাসিমপুর, বড়বালা, খোড়াগাছ ও ময়েনপুর ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। শিলাবৃষ্টির বড় বড় খণ্ডে মিলনপুর, বালুয়া মাসিমপুর ও বড়বালা ইউনিয়নের বাড়ি ঘড়ের টিনের চাল ফটো হয়ে গেছে।
 
ফুলবাড়ি (দিনাজপুর): ফুলবাড়িতে শুক্রবার ঝড়সহ শিলাবৃষ্টিতে ঘরবাড়ি, ফসল, ইটভাটাসহ গাছপালা ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে দুই শিশু, ছয় নারীসহ ১০জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
 
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এটিএম হামীম আশরাফ বলেন, ঝড়সহ শিলাবৃষ্টিতে কি পরিমাণ ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা নিরূপণের জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তাদের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে গোটা উপজেলায় কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা বলা যাবে।
 
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুস সালাম চৌধুরী বলেন, ঝড়সহ শিলাবৃষ্টিতে উপজেলায় কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সেটার তালিকা তৈরির জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের বলা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পাওয়া গেলে ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারিভাবে সহায়তা দেয়া হবে।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি
 
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩৩
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৩
মাগরিব৫:৫৭
এশা৭:১০
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫২