সারাদেশ | The Daily Ittefaq

ছয়জন মিলে স্ত্রীকে হত্যা করেছি

আদালতে স্বামীর জবানবন্ধি
ছয়জন মিলে স্ত্রীকে হত্যা করেছি
কক্সবাজার প্রতিনিধি৩০ মার্চ, ২০১৮ ইং ২২:০৪ মিঃ
ছয়জন মিলে স্ত্রীকে হত্যা করেছি
এক বছর আগে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার উত্তর লক্ষ্যারচরের দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে রোকেয়ার সাথে কাকারার শাহ উমর নগরের নুর আলমের ছেলে রুবেলকে জোর করে বিয়ে দেয়া হয়। বিয়ে দেয়ার সময় এক লাখ ত্রিশ হাজার টাকা যৌতুক দেয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন শাশুড়ি। পরে ওই টাকা আর দেয়নি। টাকা চাইলেই স্ত্রীর দুই ভাই আলমগীর ও আলী হোসেন মিলে মারধর করত। এমনকি স্ত্রীকেও বাবার বাড়ি রেখে দিত শ্বশুর বাড়ির লোকজন। যৌতুকের টাকা না পেয়ে উল্টো মারধরের শিকার হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে সহযোগী নিয়ে স্ত্রীকে হত্যা করে খোদ স্বামী মোহাম্মদ রুবেল (২২)।
 
হত্যার প্রধান আসামি স্বামী রুবেলকে গ্রেফতারের পর বৃহস্পতিবার (২৯ মার্চ) বিকালে আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্ধিতে (১৬৪ ধারা) অনুতপ্তহীন কণ্ঠে এসব কথা বলেন।
 
রুবেল আরো বলেন, একদিকে টাকা না পেয়ে মারধরের শিকার হই, অন্যদিকে স্ত্রীকেও রেখে দিলে আমি অসহায় হয়ে পড়ি। একপর্যায়ে কুল-কিনারা খোঁজে না পেয়ে স্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনা করি। ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে গত ১৯ মার্চ মাগরিবের পর শ্বশুর বাড়ি গিয়ে শাশুড়িকে বুঝিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে আসি। ওই রাতেই চকরিয়া কলেজের কাছে তামাক ক্ষেতের ভেতরে নিয়ে যাই। এসময় আরো পাঁচ সহযোগীকে নিয়ে আমি প্রথমে দুই হাত রশি দিয়ে বেঁধে ফেলি। পরে শ্বাসরোধে হত্যা করি স্ত্রীকে। এসময় অন্য পাঁচজনের মধ্যে দুইজন মুখ চেপে ধরে অন্য তিনজন হাত-পা চেপে ধরে আমাকে হত্যায় সহায়তা করে। হত্যার দুইদিন পর ২১ মার্চ দুপুরে তামাক ক্ষেত থেকে রোকেয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
 
চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে কক্সবাজারের চকরিয়ায়। এদিকে মেয়ে রোকেয়া বেগমকে হত্যার অভিযোগে নিহতের বাবা দেলোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ২১ মার্চ রাতে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় স্বামী রুবেল ও ভাসুর সোহেলসহ পাঁচ-ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। এরপর তথ্য উদঘাটনে মাঠে নামে চকরিয়া থানার এসআই সুকান্ত চৌধুরী।
 
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সুকান্ত চৌধুরী ধৃত স্বামী রুবেলের স্বীকারোক্তিমূলক দেয়ার তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, বুধবার রাতে তাকে গ্রেফতারের পর পুলিশের কাছে প্রাথমিক স্বীকারোক্তিতে হত্যার বিবরণ তুলে ধরলে তাকে বৃহস্পতিবার চকরিয়া সিনিয়র জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়। আদালতেও বিজ্ঞ বিচারকের কাছে রুবেল স্ত্রী হত্যার জবানবন্ধি দেন।
 
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের মার্চে উত্তর লক্ষ্যারচরের রোকেয়া বেগমের সাথে কাকারা শাহ উমর নগরের রুবেলের বিয়ে হয়। বিয়ের এক বছর পরেই পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় যৌতুকের জন্য। ২১ মার্চ দুপুর ১২টার দিকে লাশ উদ্ধারের পর প্রথমে শনাক্ত না হলেও  সন্ধ্যায় লাশের পরিচয় মেলে।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি
 
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:২৯
যোহর১১:৫৩
আসর৪:১৭
মাগরিব৬:০৩
এশা৭:১৬
সূর্যোদয় - ৫:৪৫সূর্যাস্ত - ০৫:৫৮